অনিক ইসলাম
প্রকাশিত ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১২:০০ মিনিট
অন্যকে জানাতে পারেন:
আরেকবার সতর্ক করে দিলো আসা যাওয়ার মাঝে
অনিক ইসলাম

একটি নাতিদীর্ঘ ঘোষণার মতো শোনা গেলো, সেটি টেলিভিশন না রেডিওর ঠিক স্পষ্ট না। এরপরের দৃশ্যেই পাড়ভাঙ্গা শাড়ি পরে স্থির ও শান্ত পদক্ষেপে হাঁটতে দেখা গেলো একজন নারীকে। যেই হাঁটা দেখে ঠাওর হয়, কোথায় যাচ্ছেন, সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল তিনি। এই পথে এর আগে আরো অনেকবার ঠিক এভাবেই গিয়েছেন। কিন্তু ঠিক কোথায় চলেছেন তিনি, নিশ্চয়ই একটা গন্তব্য আছে? দর্শকের ভিতর একধরনের কৌতূহল হয়, এদিক-ওদিক হেলে থাকা মাথাগুলো সোজা হতে শুরু করে। আর এভাবেই শুরু হয় আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্তের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র আসা যাওয়ার মাঝে। যার ইংরেজি নামটিতেও কী অদ্ভুত এক ব্যঞ্জনা—Labor of love।
প্রথম হলেও আদিত্য’র এই চলচ্চিত্রটি নানা উৎসবে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়েছে। সবচেয়ে বড়ো কথা নানা বয়সি, নানা রুচির মানুষ এটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে গিয়েছেন। সাধারণত ‘উৎসবের চলচ্চিত্র’ নামে পরিচিত চলচ্চিত্রগুলোর ভাগ্যে দর্শক সমাগম কমই জোটে। প্রেক্ষাগৃহে দুই-একদিন চলে, তারপর নামিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু আসা যাওয়ার মাঝে দর্শকের বিস্ময়কর ভালোবাসা পেয়েছে। কলকাতার কোনো কোনো প্রেক্ষাগৃহে টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি এটি হাউসফুল ছিলো। একজন চলচ্চিত্রপ্রেমীর কাছে এটি নিঃসন্দেহে যুগপৎ আনন্দদায়ক ও কৌতূহল জাগানিয়া। তো বাংলা ভাষার এই চলচ্চিত্রের সংবাদের মনোযোগী পাঠক ও দর্শক ম্যাজিক লণ্ঠন-এর গোচরে আসবে না, তা কি হয়? তাই ম্যাজিক লণ্ঠন খুব আন্তরিকভাবে বুঝতে চাইলো, ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতায় ঠিক কীভাবে ধরা দেয় আসা যাওয়ার মাঝে। ঠিক সেকারণেই আমার আজকের এই লেখা।
চলচ্চিত্রটির নাম আসা যাওয়ার মাঝে; যার মাঝখানটি আসলে একজোড়া কপোত-কপোতীর সম্পর্কৎসারিত শূন্যতাতে পরিপূর্ণ। যা পরবর্তী সময়ে ব্যাপনাকারে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা চলচ্চিত্রে। চলচ্চিত্রটি দেখার পরে আমার মনে প্রথম যে বাক্যটি এসেছিলো তা হলো—এটি সেই গল্প যা একদিন বলতেই হতো। আসা যাওয়ার মাঝে শোষিত মানুষের দুটি দিনের অভিজ্ঞতার খতিয়ান হলেও এতে তাদের গোটা জীবনেরই সুবাস পাওয়া যায়। কী জানি অনেকেই হয়তো একে সুবাস না বলে দুর্গন্ধও বলতে চাইবেন!
আমার কাছে সবসময়ই মনে হয়, একটি চলচ্চিত্রের রিভিউ লেখা আর সেটি দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার মধ্যে সূক্ষ্মতর বিভাজন রেখা আছে। শেষটিতে লেখক জবাবদিহিতার জায়গা থেকে খানিকটা হলেও ছাড় পায়। রিভিউ লেখা তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে নিরপেক্ষতার দায়ভার এড়ানো মুশকিল হয়। সেখানে লেখকের একটা অথেনটিসিটির দাবি পরোক্ষ হলেও তৈরি হয়। অনেক সময় একজনের চলচ্চিত্র রিভিউ আরেকজনের চলচ্চিত্র অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে যেতেই পারে। কিন্তু যিনি তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন, তিনি তার ভাষার প্রয়োগে তুলনামূলক বিনয়ী হন, যেটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা ভুলে যেতে পছন্দ করি যে, একটি চলচ্চিত্র শুধু প্রযোজকের টাকার বন্ধনে পাতানো সম্পর্কই না, এটি কোনো লেখক-নির্দেশকের নাড়িছেঁড়া ধনও। তাই যখনই কোনো চলচ্চিত্র নিয়ে ভাবতে বসি, আমি কোথায় যেনো মমতা অনুভব করি সেই চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে সম্পর্কিত মানুষগুলোর জন্য, চলচ্চিত্রটির জন্য।
আসা যাওয়ার মাঝে দেখার আগে বেশ কয়েকজনকে বলতে শুনেছি, এটি ভাষাহীন চলচ্চিত্র। কিন্তু আমার কাছে তা কখনোই মনে হলো না। পরে বুঝলাম, ভাষাহীন বলতে ওরা আসলে মানুষের মুখ-নিঃসৃত কথার অনুপস্থিতিকে বুঝিয়েছে। অথচ নৈঃশব্দের থেকে বড়ো ভাষা যে হয় না—পুরনো এই কথাটিকেই অসম্ভব নিপুণতায় চলচ্চিত্রে দেখিয়েছেন আদিত্য। গোটা চলচ্চিত্র ঠিক যে তালে চলেছে, দর্শককে তা একধরনের ধ্যানের স্তরে নিয়ে যায়। চরিত্রেরা কেউ কথা বলে উঠলে, সে ধ্যান যে ভেঙে যেতো এবং চলচ্চিত্রের তালটিও যে কেটে যেতো তাতে সন্দেহ নেই।
আমার বেশ কয়েকবার কলকাতা গমনের স্মৃতি আছে। সেটা থেকে আমি বুঝতে পারি, গত ২০ বছরে কী অসম্ভব দ্রুততায় বদলে গেছে পুরনো কলকাতা। শহরের গন্ধ বদলে গেছে, বদলে গেছে শহরের আলোরাও। পুরনো দিনের দালানগুলো এখন আর কাউকে তৃপ্তি দেয় না, সবার কাছে ওরা যেনো বোঝার মতো হয়ে গেছে। ভেঙ্গে ফেলতে পারলে, বেচে দিতে পারলে, সবাই যেনো বেঁচে যায়। তাই এই ২০১৭-তে এসে পুরনো সেই কলকাতাকে আবার খুঁজে বের করা এবং রিক্রিয়েট করা যে যারপরনাই কঠিন সাধ্য তা না বলে দিলেও চলে। কিন্তু আদিত্য সেটি করেছেন। বলা যেতে পারে লেটার মার্কস নিয়ে পাসও করেছেন। চলচ্চিত্রটি ২০০৭-০৮ এর সময়ের কথা বলে, যেসময় সারা পৃথিবীতেই তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা চলছিলো। স্বাভাবিকভাবেই যার আঁচ লেগেছিলো কলকাতাতেও। আদিত্য শুধু পুরনো দিনের কলকাতার বাহ্যিক দিকটিই নয়, তার সঙ্গে অত্যন্ত সতর্কতা ও স্বতঃস্ফূর্ততায় কলকাতার অন্তরের কথাও ছেঁকে তুলেছেন। তাইতো সকাল হতেই শোনা গেছে, পাশের বাড়ির মেয়েটির গলা সাধা, বাড়ির ভিতর থেকে ভেসে আসে উঠোন ঝাড়ু দেওয়ার শব্দ। এগুলো হয়তো খুব ছোট্ট এবং পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মতোই ঘটনা, কিন্তু তথাকথিত ‘অনুন্নত’ অংশের কলকাতাকে বোঝাতে এই শব্দের ব্যবহারগুলো ছিলো অতুলনীয়।
চলচ্চিত্রের মূল চরিত্রের কাউকেই কথা বলতে দেখা যায় না। কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ডে কলকাতার নিত্য শব্দেরা অবিরাম কথা বলে গেছে। পাঁচ বছরের একটি শিশু যেমন করে কোলবালিশ জড়িয়ে ঘুমায়, তেমন করে শব্দ আর নৈঃশব্দ যেনো জড়াজড়ি করে আছে চলচ্চিত্রজুড়ে। একটার পর একটা দৃশ্য কী অসম্ভব মমতায়ই না বুনে গিয়েছেন আদিত্য! যেনো কোনোকিছুই তার চোখ এড়ায়নি—ঘড়ির ফাঁকে বাসের টিকিট গুজে রাখা, স্বামীর লাইফবয় থেকে স্ত্রীর সাবান আলাদা করা, ডিটারজেন্টের ফেনার ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাওয়া, রান্নার শুরুতে কড়াইয়ের গায়ে লেগে থাকা পানির বাষ্প হয়ে যাওয়া, আর কড়াইয়ে তেল গরম হওয়ার চড়চড় শব্দ। আবার আগরবাতির ছাইটুকু পড়ার যে একটা শব্দ আছে, তা কতজনের কানেইবা ধরে! এই শব্দ শোনার একটা কান থাকতে হয়, আদিত্যর কিন্তু সেই কানটি আছে।
চলচ্চিত্রজুড়ে অসংখ্য গূঢ় দৃশ্য আছে, যেগুলো দর্শক চাইলে নিজের মতো করে ডিকোড করে নিতে পারে। যেমন : মাছের বাজারে দেখা যায়, তাজা মাছের উদাহরণ হিসেবে একটি মাছকে খাবি খেতে। আজকের মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত তো এভাবে খাবি খেতে খেতে বেঁচে আছে? আবার শেষের দিকে যখন সারারাতের প্রেসের কাজ শেষে স্বামী ঘরে ফিরছেন, তখন লম্বা দৃশ্যের সাইকেল চালানো দেখানো হয়। প্রথমে খানিক অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও কিছুক্ষণ পর কেমন একটা ঘোর লাগে। আচ্ছা, সাইকেলের চাকার অবিরাম ঘূর্ণন কী আমাদের জীবনের নিরবচ্ছিন্ন বহমানতার কথা বলে? চলচ্চিত্রে দুইবার স্বামীকে সাইকেল চালাতে দেখি, শেষের বার ঘরে ফেরার সময় মনে হয় যেনো সাইকেলটি দ্রুত চলছে। এটা সম্ভবত স্ত্রীর সঙ্গে যদি আরো কয়েকটি সেকেন্ড বেশি কাটানো যায়, সেই তাড়না থেকে। আহা! কী প্রেম! এজন্যই কী চলচ্চিত্রের নাম Labor of love?
আরেকটি প্রশংসা করার মতো ঘটনা নির্মাতা ঘটিয়েছেন, আমাদের জীবনে যা ঘটে না, তা দেখানোর কোনো তাড়াহুড়ো তিনি করেননি। আবার চলচ্চিত্রের কোথাও বহু চর্চিত নারীবাদ-পুরুষবাদের কচকচানিটাও নেই। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে যা যা ঘটে, ঠিক তাই চলচ্চিত্রজুড়ে বলে গেছেন তিনি। অবলীলায় দেখিয়েছেন, দিনের শেষে বাড়ির থালা-বাসন থেকে শুরু করে স্বামীর ফেলে যাওয়া নোংরা কাপড় স্ত্রীকেই পরিষ্কার করতে হয়। স্বামীর ছিঁড়ে যাওয়া প্যান্ট সেলাইয়ের দায়িত্বও তার, আর রান্না তো বলাই বাহুল্য। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভারটা নির্মাতা ছেড়ে দিয়েছেন দর্শকের ওপর—তারা এই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি আর কতদিন ধরে হতে দেবেন। নাকি ক্রমান্বয়ে স্ত্রীদের কাজেও হাত লাগানো শুরু করবেন। মনোযোগী, স্পর্শকাতর পুরুষ মাত্রেরই এই দৃশ্যগুলো দেখে একটা খচখচানি হবে; আমার মনে হয়, সেই অভিপ্রায় থেকে ইচ্ছে করেই আদিত্য দৃশ্যগুলো রেখেছেন।
চলচ্চিত্রে শব্দের ব্যবহারটাও কী অসম্ভব যত্নে সম্পন্ন করা হয়েছে, তা এটি যে দেখেনি তাকে বোঝানো যাবে না। এতো ডিটেইলসের কাজ আমি শেষ কবে বাংলা চলচ্চিত্রে দেখেছি মনে করতে পারি না। ফ্যানের বিরক্তিকর শব্দ, প্রেসের মাথা ধরিয়ে দেওয়া চিৎকার, রাস্তার মনোহারি বিক্রেতার হাঁক-ডাক, পানির পাম্পের বিরক্তিকর শব্দ কিংবা বয়ামে চাল-ডাল ঢালার ঝিরঝিরানি শব্দ—সবই মিশে একীভূত হয়ে যায় চলচ্চিত্রের মন্তাজে। চলচ্চিত্রের আরেকটি ব্যাখ্যাতীত সংযোজন হলো গীতা দত্তের দুটি গান—কী অদ্ভুত প্রাসঙ্গিক! এ যেনো গান দুটিকেও নতুন করে আবিষ্কার করা। বিশেষ করে শেষের গানটি—‘তুমি যে আমার’—যখন ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে এবং স্লো-মোশনে স্বামীর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়া ও স্ত্রীর ঘরে ফেরার দৃশ্যে, পর্দায় যেনো এক জাদুবাস্তবতা তৈরি হয়। এই ক্ষমতা আপনি কোথায় পেলেন আদিত্য!
ভোর দেখানোর জন্য এমন দারুণ সব দৃশ্যের আশ্রয় আদিত্য নিয়েছেন—বিশেষ করে ভোরের খানিক আগে আগে রাখাল বালকদের ছাগলের পাল নিয়ে হেঁটে চলা। এছাড়া গোসল শেষে পুরনো দিনের লাল মেঝেয় লেগে থাকা পায়ের ছাপের ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাওয়া—এ দেখে তার কাছে প্রত্যাশা বেড়ে যায়। তাইতো কিছু দর্শক যখন প্রশ্ন তোলেন, গল্পের কাঠামোটা ইতালো ক্যালভিনো’র১ (Italo Calvino) ছোটোগল্প থেকে ধার করা, তখন তাদের কী খুব দোষ দেওয়া যায়? ছোট্ট করে তো বলাই যেতো, এটার ইন্সপিরেশন কোথা থেকে এসেছে। তাহলে মানুষগুলো আর এই প্রশ্ন তোলার সুযোগ পেতো না।
সবকিছু কী মুখে বলতে হয়, কিংবা মুখে বলে কি সবকিছু বোঝানো যায়? কিট্স এর লাইনটি মনে আছে; ওই যে ‘Heard melodies are sweet but those unheard are sweeter’। কিট্সের এই একটি বাক্যই যেনো আদিত্যর হাত ধরে ৮০ মিনিটের চলচ্চিত্র হয়ে গেছে। সাতসকালে উঠে স্ত্রীর কারখানায় যাওয়া, সারাদিন সেখানে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে চলা; সারারাতের কাজ সেরে শরীর ভেঙ্গে পড়া ক্লান্তি নিয়ে স্বামীর ঘরে ঢোকা, তারপর স্ত্রীর রান্না করে যাওয়া, খাবার খাওয়া, এরপর বাঙালির চিরায়ত ভাতঘুম। স্ত্রীর ফোন-কলে স্বামীর ক্ষয়ে যাওয়া ব্যাটারির ফোন বেজে ওঠা; ঘুম ঠিকই ভেঙ্গে যায়, কিন্তু কথা হয় না তাদের। এর একটু পরে স্বামীর কাজে বেরিয়ে যাওয়া ও স্ত্রীর ঘরে ফেরা এবং টুকটাক নানা কাজ সেরে একা একা শুতে যাওয়া এবং ভোরে স্বামীর ফোন-কলে ঘুম ভেঙে যাওয়া, কিন্তু কথা হয় না তাদের। সকালবেলায় স্বামীর প্রেস থেকে ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে ক্ষণিক দেখা। আচ্ছা ওদের কি প্রতিদিন দেখা হয়?
কী অদ্ভুত ডিপ্রেস্ড জীবন পার করছে ওরা! কোনো বন্ধু নেই, নেই কারো সঙ্গে কোনো শেয়ারিং। সারাদিনে স্বামী-স্ত্রীরই পরস্পর দেখা হবার নিশ্চয়তা নেই, অন্য আত্মীয়-স্বজন তো দূর অন্ত। কী পাবার জন্য ওরা আজকের এই ত্যাগ স্বীকার করছে, আদৌ কী তা কখনো পাবে, কেউ কী পায় শেষ পর্যন্ত? এই না-মানুষের জীবনে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা কোথা থেকে আসে ওদের! তাহলে কী এই ক্লেদে ভরা পৃথিবীর যাবতীয় নষ্টামী ও লোভ থেকে কোনো এক ঐশ্বরিক ক্ষমতাবলে নিজেদের আলাদা রাখতে পেরেছে ওরা! ওরা কী আমাদের পরিচিত এই জীবনে বাঁচছে না? আদিত্য আপনি এটিরই খোঁজ দিতে চেয়েছেন, না?
চলচ্চিত্রের শেষ দৃশ্যটি তো নিজেই আলাদা করে আরেকটি চলচ্চিত্র। যে মিলনের কথা এখানে বলা হয়েছে, তা কোনো চার দেয়ালে মধ্যে হয় না। এই মিলনের বিশালতা কোনো শব্দে তো বটেই, কোনো লোকালয়েও ধারণ করা যায় না। তার জন্য পৃথিবীর আদিতে ফিরে যেতে হয়, তার জন্য এক নিষ্কলুষ সভ্যতার সূচনা করতে হয়। আসলে সে মিলন শুধু শোষিতের কল্পনাতেই হয়। এ রকম কতো সম্পর্কের দীর্ঘশ্বাস যে জ্বালানি হয়ে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আজকের আধুনিক সভ্যতাকে, তার খোঁজ কেউ কি রাখছি? সেই সম্পর্করা কিন্তু অভিশাপ দিচ্ছে আমাদের। আর আসা যাওয়ার মাঝে কিন্তু আমাদের আরেকবার সতর্ক করে দিলো।
লেখক : অনিক ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন।
তথ্যসূত্র ও টীকা
১. সমকালীন ইতালি সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ লেখক ও সাংবাদিক ইতালো ক্যালভিনো। অনেকে মনে করেন, আসা যাওয়ার মাঝের গল্পটার সঙ্গে ইতালো ক্যালভিনো’র ছোটোগল্প ‘Adventure of a married couple’ এর মিল রয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন