Magic Lanthon

               

মাজিদ মিঠু

প্রকাশিত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

চলচ্চিত্রে নায়ক অনুসন্ধান

মাজিদ মিঠু


নিজ চরিত্র গুণে যে অন্যকে ছাপিয়ে মুখ্য হয়ে ওঠে সে-ই নায়ক। প্রথাবদ্ধ এ কথাটি বাস্তব জীবনে যেমন সত্য, তেমনই চলচ্চিত্রে নির্মিত বাস্তবতাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতেও এর কোনো বিকল্প নেই। লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় যখন বাজারে নতুন জাদু নিয়ে এসে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামাচ্ছিলেন, তখন কেবল বাস্তবতাই অকপটে উঠে এসেছিলো সেলুলয়েডে। তাই পর্দায় যখন প্রথমবার মানুষ ট্রেন আসতে দেখেছিলো, তারা নিজের আসন ছেড়ে ছুটে পালিয়েছিলো, ভয়ে! তারপর যখন চলচ্চিত্র মানুষের কথা বলা শুরু করলো, তখন প্রয়োজন পড়লো এক বা একাধিক ঘটনা, বিষয়, ব্যক্তির উপস্থাপন; যাকে কেন্দ্র করে বর্ণিত হবে কোনো অবস্থা। জাদুকর জর্জ মেলিয়ের যখন চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে নির্মাণ করে দেখালেন, বরফের মানুষদের যাপিত জীবন যখন তুলে ধরলেন ফ্ল্যাহার্টিতখন একটা গল্প আবশ্যক হয়ে উঠেছিলো। একটু ঘুরিয়ে বললে, সেই গল্পগুলো তুলে এনেছিলো এক বা একাধিক ব্যক্তি, বিষয়কে। মেলিয়েরের সেই গল্পে মুখ্য হয়ে উঠেছিলো স্বপ্ন, যা মানুষকে চাঁদে নিয়ে যায়; আর ফ্ল্যাহার্টির নানুকের মাধ্যমে মানুষ দেখলো বরফের দেশে মানুষের জীবন; যেখানে মুখ্য নানুক। দুটি গল্পে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণপ্রথমটিতে স্বপ্ন, দ্বিতীয়টিতে ব্যক্তি। চলচ্চিত্র আলোচনায় এ দুটি বিষয়ই এক কেন্দ্রে এসে মিলিত হয়েছে। হয়তো সব শিল্পের ক্ষেত্রেই তাইকে বা কী। যা নির্দেশ করে চলচ্চিত্রের গল্প কাকে বা কী নিয়ে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। দুটি প্রশ্নের উত্তরইনিজ চরিত্র বা বৈশিষ্ট্য গুণে অন্যকে ছাপিয়ে মুখ্য হয়ে ওঠেএ কথাটিতে এসে মিলিত হয়েছে।

চলচ্চিত্রে নিজ চরিত্র গুণে অন্যকে ছাপিয়ে নায়ক হয়ে উঠলেও নায়কের চলতি ডিসকোর্স কিন্তু ভিন্ন কথা বলে। লৈঙ্গিক পরিচয়ের বাধ্যবাধকতায় এর বিপরীতে নির্মাণ করা হয়েছে নায়িকা ডিসকোর্স। তার মানে নায়কের সঙ্গে পুরুষের একটা সম্পর্ক আছে। কেননা নায়ক বলতে শুধু পুরুষ প্রটোগনিস্টদেরই বোঝায়। পুরুষ প্রাধান্যশীল সমাজের সবকিছুর কর্তা যখন পুরুষ, তখন তারই ছায়ায় নির্মিত বাস্তবতা কীভাবে ভিন্ন হতে পারে! যাহোক, সে ভিন্ন প্রসঙ্গ।

টাকাকড়ি উপার্জনের প্রযুক্তি-পণ্য হিসেবে যে চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু করেছিলো, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা তত্ত্ব, আন্দোলনের ছোঁয়ায় সেটি শিল্প হয়ে ওঠে। যেখানে প্রযুক্তির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সমাজ-সংসার তথা মানুষ। কিন্তু তা পুরোপুরি পণ্যের তালিকা থেকে মুক্তি পায়নি; হয়তো মুক্তি সম্ভবও নয়। তাই বাণিজ্যিক ঘরানার চলচ্চিত্র বাদ দিয়ে এ শিল্পের কথা চিন্তাও করা যায় না। কিন্তু এই বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে নায়ক ডিসকোর্সটির ফরমেশন কী? পেশিবহুল শরীর, ফর্সা-লম্বা-মাথাভর্তি চুল থাকবেনায়ক পদে মনোনয়ন পাওয়ার এটাই চলতি যোগ্যতা।


কিন্তু প্রশ্ন হলো, সম্প্রতি ঢাকাই ইন্ডাস্ট্রিতে যে চলচ্চিত্রগুলো নির্মাণ হচ্ছে, সেখানে এই নায়কদের উপযোগিতাটা কোথায়? গল্পের প্রয়োজনে কি তাদের সঠিক নির্মাণ হচ্ছে, বা তাদের কেন্দ্র করে কি গল্প গড়ে উঠছেযেখানে তাদের যথাযথ মনে হয়? চরিত্রের সঙ্গে কি তারা একাত্ম হতে পারছে? সম্প্রতি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র দেখার পর তা নিয়ে প্রশ্ন জাগে। নায়কের সঙ্গে চলচ্চিত্রের সফলতাসে বাণিজ্যিক হোক আর মানের দিক থেকে হোকঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। গত কয়েক বছরে মুক্তি পাওয়া বেশিরভাগ চলচ্চিত্রই সফলতার মুখ দেখেনি। তাই অনেকগুলো প্রশ্নের সঙ্গে এটাও ওঠে যে, সাম্প্রতিক বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে নায়ক আছে কি না, বা যারা আছে তাদের কাজে লাগানো হচ্ছে কি না?

২.

চলচ্চিত্রের নির্মিত বাস্তবতায় দর্শকের সঙ্গে উৎকৃষ্ট যোগাযোগ তখনই সম্ভব, যখন সেটা দর্শকের কাছে জীবন্ত হয়ে ওঠে। আর এজন্য অনেকগুলো উপাদানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো অভিনয়। চলচ্চিত্রের প্রধান উপাদান গল্পকে সার্থক করতে তার বিভিন্ন চরিত্রে রূপদানকারীরা যদি চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে উঠতে না পারে, তখন দর্শকের মোহ ভঙ্গ হয়। দর্শক কিন্তু প্রেক্ষাগৃহে এটা জেনেই ঢোকে যে, কিছু বানানো বিষয় তারা দেখবে। তার পরও তারা সেখানেই তাদের কিছু আশা-কল্পনা-ইচ্ছার প্রতিফলন দেখতে চান, যা হয়তো বাস্তবে তাদের পক্ষে দেখা বা করা সম্ভব নয়। প্রেক্ষাগৃহের চেয়ারে বসেই তারা রোমাঞ্চ করে, খলঅভিনেতাদের পেটায়, হাসে, কাঁদে; কখনো নায়কের জায়গায় নিজেকে রেখে কল্পনার মোহ যাত্রায় সামিল হয়।

দর্শকের আবেগের এই মোহ ধরে রাখতে তাই নায়কের চরিত্রের সঙ্গে শতভাগ একাত্মতা প্রয়োজন। চলচ্চিত্রে একটি অবস্থার বর্ণনা থাকে। যেখানে প্রতিটি উপাদানকে তাদের নিজ দায়িত্বটুকু যথাযথ পালন করতে হয়। ফিল্মে অভিনয়টা ফিল্মের সমগ্রতার অন্যতম উপাদান। যখনই অভিনয়ের ফলে অভিনেতা অন্য উপাদানগুলোর সঙ্গে ঐকতান সৃষ্টি না করে বিশিষ্ট হয়ে পড়েন, তখনই সেই সমগ্রতা ব্যাহত হয়। আবার সেই অখণ্ড সমগ্রতার মধ্যে থেকেও অভিনেতাকে ত বিশিষ্ট হতেই হবে, নইলে আর তার ক্ষমতার প্রতিফলন কোথায় ঘটবে। প্রায় সিম্ফনিক অর্কেষ্টার মত। প্রত্যেকটা বাদ্যযন্ত্রকেই সমগ্রকের অংশ হতে হবে, এবং অংশ হয়েই থাকতে হবে। কিন্তু সেই সেই বাদ্যযন্ত্রের নিজস্ব পার্ফেকশন ছাড়া সেই অংশ হয়ে ওঠা সম্ভবই নয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক ঢাকাই ইন্ডাস্ট্রির যে চলচ্চিত্রগুলো প্রেক্ষাগৃহে চলছে, সেখানে নায়ক চরিত্রের সেই পারফেকশন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থাকছে না। ফলে দর্শকের সেই মোহ ছিন্ন হচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে হালের কিছু আলোচিত চলচ্চিত্রের কথা বলা যেতে পারেদুই পৃথিবী, হিরো দ্যা সুপার স্টার, লাভ ম্যারেজ, সেরা নায়ক, বিগ ব্রাদার, সুইটহার্ট, মুসাফির। এর কোনোটিতেই নায়করা দর্শকের মন জয় করে মোহ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি। বাণিজ্যিকভাবে বেশিরভাগ সফল হলেও মন জয়’ করা শব্দগুচ্ছ এজন্য যে, এসব চলচ্চিত্রে নায়ক চরিত্রে রূপদানকারীদের দেখে মনে হয়নি, তারা চরিত্রের জন্য যোগ্য রূপে আবির্ভূত হয়েছেন।

মুসাফির। সাম্প্রতিক আশা জাগানিয়া নায়কদের একজন আরেফিন শুভর এই চলচ্চিত্র দেখে দর্শক হিসেবে ঠিক হলো না’ বা হতে গিয়ে হলো না’ ধরনের অনুভূতির মুখোমুখি হতে হয়। মিথ্যা মামলায় ১০ বছর জেল খাটা একজন মানুষ বের হয়ে জড়িয়ে পড়েন গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডে। যিনি নিজেকে এই ১০ বছরে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য একজন যথার্থ মানুষ হিসেবে তৈরি করেছেন। কিন্তু গোটা চলচ্চিত্রেই তার প্রতিটি মুভমেন্ট, মারপিট বা রোমাঞ্চ কোনো চরিত্রেই মানানসই বা পারফেক্ট নয়। কাহিনি এগিয়েছে খাপছাড়া গতিতে। সংলাপ শুনে মনে হয়, বলতে বলা হয়েছে তাই বলে যাচ্ছে। কিস্তিমাত, ওয়ার্নিং চলচ্চিত্রগুলোতেও সেই পারফেকশনেরই অভাব পরিলক্ষিত হয়।

এদিকে ঢাকাই চলচ্চিত্রের সবেধন নীলমণি শাকিব খানের সেরা নায়ক দেখে মিশ্র অনুভূতি হয়েছিলো। তিনি একজন মঞ্চনাটক অভিনেতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রে যখন মঞ্চে অভিনয় করছেন, তখন সেটার পারফেকশন ছিলো। কিন্তু মঞ্চের বাইরে যখন চলচ্চিত্রের কাহিনির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তখনই যেনো সব গুলিয়ে ফেলেনপারিপার্শ্বিকতা ভেঙে তার সেই ছাঁচে ঢালা একই স্টাইল, চোখের ভাষা, হাত নাড়া, চিৎকার করে কথা বলা, মারপিট সব মিলে চলচ্চিত্রের সুর ভেঙেছে। আবার হিরো দ্যা সুপার স্টার-এ দুটি তামিল চলচ্চিত্রের কাহিনি গুলে তৈরি একটি গল্পে অভিনয় করেছেন তিনি। যেখানে দুটি চরিত্রে তার দুই রূপও যথার্থভাবে ফুটে ওঠেনি। লাভ ম্যারেজ-এ পুরান ঢাকার এক ধনবান বাবার ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্র জুড়েই অতিরিক্ত সংলাপ, ফ্রেমে প্রয়োজনের অতিরিক্ত মুভমেন্ট চলচ্চিত্রের অন্যান্য অনুষঙ্গ থেকে তাকে আলাদা করেছে। যাতে ছিন্ন হয়েছে মূল সুর।

ভালোবাসার রঙ দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখা বাপ্পী চৌধুরী নায়ক হিসেবে বেশ পরিচিত। লাভার নাম্বার ওয়ান, রোমিও, লাভ স্টেশন, দবির সাহেবের সংসার-এ অভিনয় করে ইতোমধ্যেই তার একটি বৈশিষ্ট্য দাঁড়িয়ে গেছে। কিন্তু পারফেকশনের প্রশ্নে সেইভাবে একাত্ম হতে পারেননি তিনিও। কমেডি খ্যাত দবির সাহেবের সংসার-এ তার অভিনয় অনেকখানি স্বতঃস্ফূর্ত থাকলেও কাজের ছেলের চরিত্রটি চলচ্চিত্রের পারিপার্শ্বিকতাকে ছিন্ন করেছে। কমেডি করতে গিয়ে অনেক সময়ই অতিঅভিনয়, অসামঞ্জস্যপূর্ণ সংলাপ দর্শকের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে সুইটহার্ট-এ চরিত্রের সঙ্গে অনেকখানি মানিয়ে গেছেন বাপ্পী। কলেজ শিক্ষার্থীর চরিত্র, প্রেম, বিচ্ছেদ এবং সবশেষে প্রেমিকাকে হারানোর ব্যথা খুব ভালোভাবেই তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

আবার, খোঁজ : দ্য সার্চ, দ্য স্পিড, মোস্ট ওয়েলকাম, মোস্ট ওয়েলকাম ২, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা খ্যাত তারকা অনন্ত জলিল-একই সঙ্গে প্রযোজক, পরিচালক, নায়ক হিসেবে তার আবির্ভাব। ঢাকাই চলচ্চিত্রে নতুন কিছু বিষয় যোগ করলেও অভিনয়ে তিনি সেই পারফেকশন আনতে পারেননি। এছাড়া নিরব, ইমন, সাইমন, জায়েদ খানসহ নবীনতম শিপনের বেলাতেও অভিনয় নিয়ে দর্শক হিসেবে অতৃপ্তির পরিমাণ ক্ষুদ্র নয়। যে কোনো শিল্পের রীতিনীতি নির্ধারিত হয় সেই শিল্পের শারীরিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে। ফিল্ম হচ্ছে টুকরো টুকরো দৃশ্যের সমাবেশ, টুকরো টুকরো গতির সমাবেশ, টুকরো টুকরো ভঙ্গির সমাবেশ।’ এই টুকরোগুলোর সম্মিলিত প্রয়াস একটি সার্থক চলচ্চিত্র। সেখানে অন্যতম অনুষঙ্গ অভিনয়। উপরের আলোচনায় এই সময়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রচলিত প্রায় সব নায়কদের অভিনয়ের বিষয়টি সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে অভিনয়ে, চলচ্চিত্রের পারিপার্শ্বিকতার একটি অনুষঙ্গ হিসেবে অন্যগুলির সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি সুর তৈরিতে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা। ফলে নায়ক ডিসকোর্সের চলতি যোগ্যতাসুন্দর মুখাবয়ব, লম্বা পেশিবহুল শরীর ইত্যাদি থাকা সত্ত্বেও ঢাকাই চলচ্চিত্রে নায়ক সঙ্কট প্রকট।

৩.

ভালো চলচ্চিত্রের জন্য ভালো অভিনয়এর বিকল্প নেই। কিন্তু সেই ভালো অভিনেতা গড়ে উঠবে কীভাবে? বলা হয়, অভিনয় স্বভাবজাত। দীর্ঘদিন ধরে বাংলার মাটিতে যে যাত্রাপালা বিকশিত হয়েছেনানা অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বণ, নাটকসহ হাজারও কলাতা স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া অভিনেতাদের অবদান, তা তো নয়। বরং এ হলো প্রশিক্ষিত একদল মানুষের শ্রম, যারা তাদের অনুজ তৈরি করে গেছে। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে সেই শিক্ষার কথাই বরং বলা উচিত। যেখানে একটা পরম্পরার মধ্য দিয়ে অভিনেতা গড়ে উঠবে। দেখে দেখে শিখবে। কিন্তু ঢাকাই চলচ্চিত্রে এই পরম্পরার অভাবটা এখন সর্বস্তরে। একমাত্র শাকিব খানই তার বেড়ে উঠার সময়ে চলচ্চিত্রে তার অগ্রজদের সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়েছেন। পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনয় করে নায়ক হয়েছেন। অন্যরা তো প্রথম চলচ্চিত্র থেকেই নায়ক। প্রশ্ন আসতে পারে, প্রথম অভিনয় থেকে নায়ক হওয়া যায় না? যায়। কিন্তু তাকে অভিনয়ের সেই ধাপগুলো পার করে আসতেই হবে, যেখানে দর্শক তুষ্টি আসে।

বর্তমান বিশ্বে চলচ্চিত্র-অভিনয় শেখার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রও তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্রশিক্ষার জন্য নানা স্কুল-ইন্সটিটিউট-বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। যেখানে কারিগরি দিকের সঙ্গে সঙ্গে অভিনয়ও শেখানো হয়। জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে হাতেকলমে যে শিক্ষা সেই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে দেওয়া হয়, তা চলচ্চিত্রের জন্য একজন যোগ্য নায়ক তৈরি করতেই পারে। কিন্তু বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত তেমন কোনো প্রতিষ্ঠানই গড়ে ওঠেনি। যে দু-একটির কথা শোনা যায়, তা কেবল নামসর্বস্ব। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে নায়ক তৈরির পরিবেশও বাংলাদেশে নেই। ফলে এদিক থেকে প্রশিক্ষিত নায়ক পাওয়ার চিন্তা বাদ দিতেই হচ্ছে। কিন্তু যে পরম্পরা থেকে নায়ক তৈরি হয়, তাও ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নায়ক সঙ্কটের এটিও অন্যতম একটি কারণ। 

৯০-এর দশকে সালমান শাহকে হারানো এবং এ শতকের প্রথম দশকে নায়ক মান্নার মৃত্যু, রিয়াজের অনিয়মিত হয়ে যাওয়ায় জনপ্রিয়তায় আসেন শাকিব। পরে একে একে আসতে থাকেন বাপ্পী, জায়েদ খান, অনন্ত, শুভ। কিন্তু মান্না মারা যাওয়ার পর যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা বাংলা চলচ্চিত্রকে অনেকখানি পিছিয়ে দেয়। এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণঢাকাই চলচ্চিত্রে এক দশকের বেশি কিন্তু কেউই নায়ক হিসেবে টিকে থাকতে পারেনি। অথচ হলিউডে, এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে তাকালেও দেখা যায়, যারা আমাদের বাপ-দাদাদের নায়ক ছিলেন, তারা আজ আমাদেরও নায়ক। বাংলাদেশে এটা হচ্ছে না কেনো? এর কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, স্বাস্থ সচেতন না হওয়ায় তারা বয়স ধরে রাখতে পারে না। দ্বিতীয়ত, অনেকেই মৌসুমী জনপ্রিয়তা পেয়ে গেলেও পরে আর দর্শকপ্রিয়তা পায়নি। এটারও কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। যেমন : ভালো গল্পের অভাব। ভালো গল্প না থাকায় একই ধাঁচের চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা হারিয়েছে অনেকে। আবার গল্পের সঙ্গে নিজেকে উপস্থাপনের অভাবেও হারিয়ে গেছে কেউ কেউ। সাম্প্রতিক চলচ্চিত্রে যারা নায়ক হিসেবে আছেন, তারা বেড়ে উঠছেন অভিভাবকহীন সন্তানের মতো। অভিজ্ঞতার সঙ্গে যে প্রতিযোগিতা এবং তা থেকে যে জ্ঞান আহরণ বা অভিনয় শেখা, তার সুযোগ এদের নেই। শাকিব খান যতোটুকু শিক্ষা পেয়েছিলেন উলুবনে শিয়াল রাজা হয়ে তাও হারাতে বসেছেন। তবে ঢাকাই চলচ্চিত্রে নায়কদের সংগ্রামটা কোথায়?

হাতে গোনা নায়কের ওপর নির্ভর করে যে চলচ্চিত্র নির্মাণ চলছে তাতে অভিনয় ও চলচ্চিত্রের মান রক্ষা করা সম্ভব নয়। নতুন মুখের যে অভাব তাও নয়। সঙ্কট দক্ষ নায়কের। দু-একজন নায়ক যদি বছরে সিংহভাগ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তবে তাদের পক্ষে ভালো কাজ করা কতটা সম্ভব! মাঝে মধ্যে যে নতুন দু-একজন আসছেন তাদের মধ্যে অল্প পরিশ্রমে দ্রুত তারকা খ্যাতি ও অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার লোভ বেশি। মেধাহীনতায় ভুগছে তারা। নির্মাতারাও নতুনদের শিখিয়ে পড়িয়ে কাজ আদায় করতে পারছেন না।

নাকি বাংলাদেশে নায়ক হওয়ার জন্য যে মানের ভালো অভিনেতার কথা বলছি, তা হওয়ার সাংস্কৃতিক পরিবেশই গড়ে ওঠেনি!

৪.

জারি-সারি-ভাটিয়ালির দেশ বাংলাদেশ। লোকনাট্য-যাত্রাপালা-মুর্শিদি গানের আসর এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের আচার-অনুষ্ঠান। বিবাহ, ঈদ-পূজা-পার্বণ, বৈশাখী মেলায় প্রাণের উৎসব যেখানে হয়, সেখানকার সংস্কৃতিতে চলচ্চিত্র সাদরে গৃহীত হয়েছিলো। যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে দল বেঁধে চলচ্চিত্র দেখতে যাওয়াটা উৎসবেই পরিণত হয়েছিলো। যে দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নীচে খড়ের ওপর বসে যাত্রাপালা দেখতে অভ্যস্ত, সেই দেশে অভিনেতা তৈরির সাংস্কৃতিক পরিবেশ নেই, এটা মানতে কষ্ট হয়। এক দশক আগেও যেখানে বৈশাখী মেলার রাতের আকর্ষণ থাকতো নাটক, যাত্রাপালা। গ্রামে গ্রামে মাইকিং করে চাল, ধান উঠানো হতো নাটক করার জন্য। এখন যদিও এসবের দেখা পাওয়া মুশকিল। যেভাবে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে চলচ্চিত্র দেখা উৎসবে পরিণত হয়েছিলো, সেই প্রেক্ষাগৃহগুলো আজ ধ্বংসের পথে! গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে ধীরে ধীরে প্রেক্ষাগৃহগুলো সরে শহরের উঁচুতলার শপিংমলগুলোর সর্বোচ্চ তলায় চলে যাচ্ছে। এটা কি একটা সংস্কৃতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত? হয়তো। কিন্তু অদ্যাবধি যে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এদেশের নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে, তাতে নায়ক তৈরির উদ্যমটায় ভাটা পড়লো কেনো?

এ প্রশ্নের জবাবে দুই ধরনের উত্তর খোঁজা যেতে পারে। প্রথমত, দেশীয় চলচ্চিত্রশিল্পে অশ্লীলতার যুগ বলে যে ভাঙন তৈরি করা হয়েছিলো তার প্রভাব। দ্বিতীয়ত, বর্তমানে দেশীয় চলচ্চিত্রশিল্পের ভঙ্গুর অবস্থা, যেখানে কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নেই। তার পরও যে গুটিকয়েক নতুন মুখের দেখা পাওয়া যায় তারাও টিকতে পারছে না। হয় সেটা ভালো অভিনয় না জানার জন্য, নয়তো তাদেরকে ভালোভাবে উপস্থাপন না করার জন্য। অনেকেই সত্যিকারের ভালোবাসা থেকে নয়, বরং অল্প সময়ে তারকাখ্যাতি পাওয়ার আশায়ও চলচ্চিত্রে আসেন, ফলে আস্থা তৈরিতেও ব্যর্থ হন। তবে এতে সংস্কৃতির দায় তো আছেই। পূর্বসূরিরা এমন একটি আবহাওয়া তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে, যেখানে ভালো মানের দক্ষ নায়ক গড়ে উঠতে পারে।

তাছাড়া কোনো সংস্কৃতিতে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে দুটি বিষয় জরুরিসেই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক এবং সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাহ্যিক সম্পর্ক। এ দুই সম্পর্কের মধ্যে টানাপড়েন তৈরি হলে সেটি সেই সংস্কৃতিতে টিকে থাকতে পারে না। আর এই সম্পর্ক বজায় রাখতে কিছু নিবেদিতপ্রাণ মানুষও থাকে। এখন আমাদের সংস্কৃতিতে চলচ্চিত্র নামক প্রতিষ্ঠানের সেই মানুষ হলো চলচ্চিত্রবোদ্ধা, সমালোচক, নির্মাতা, প্রযোজক, অভিনেতা, দর্শকসহ সংশ্লিষ্টরা। এই প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে এদের মধ্যে একধরনের নিবিড় সম্পর্ক থাকা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে এরা সবাই মিলে আবার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সম্পর্ক রক্ষা করবেযেমন ধর্ম, শিক্ষা, পরিবার, সমাজ। এখন যেহেতু এটি ইন্ডাস্ট্রি, তাই সরকারের সঙ্গেও এর সম্পর্ক সরাসরি। কিন্তু সাম্প্রতিক বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এ উভয় সম্পর্কের মধ্যেই দ্বন্দ্ব চলছে।

এমন একটি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তৈরি হয়েছে যেখানে রাষ্ট্র, ধর্ম, সমাজ, পরিবার এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চলচ্চিত্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। বিগত দশকে অশ্লীলতা, চলচ্চিত্রের মান নীচে নেমে যাওয়া, প্রেক্ষাগৃহগুলোর পরিবেশগত অবনতিসহ নানা কারণে চলচ্চিত্রকে নেতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ভাবছে, প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র দেখার পরিবেশ নেই; এদিকে যারা যায় তারাও চলচ্চিত্রের মানের কারণে আগ্রহ হারাচ্ছে। অন্যদিকে এ মান অবনমনের দোষ একে অন্যের ঘাড়ে চাপাচ্ছে, প্রযোজক দায় চাপাচ্ছে পরিচালক-অভিনেতার ঘাড়ে, আর পরিচালক বলছে ভালো অভিনেতা নেই। আবার অভিনেতারা বলছে, পরিচালক হলো চলচ্চিত্রের মূল, তিনি ঠিক না থাকলে চলচ্চিত্র কীভাবে ঠিক হবে!

এই যখন অবস্থা, তখন এ সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল থেকে ভালো নায়ক উঠে আসা মুশকিল। যারা একটু ভালো, তারা পরিচর্যার অভাবে চলতি বাজারে গতানুগতিক হয়ে পড়ছে। আর যারা নতুন আসছে, তাদের পরিচর্যা করার কেউ নেই। ফলে দক্ষ নায়ক গড়ে উঠছে না। একটা সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার অভাব আজ গোটা চলচ্চিত্র প্রাঙ্গণেই। যারা একটু ভিন্ন চিন্তা করে, গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে গল্প লিখে, নায়ক তৈরি করে, তারা সমালোচকের দৃষ্টিতে উঁচুতে, বিভিন্ন পুরস্কারে ঝুলি ভরে, কিন্তু দর্শকের কাছে সেটি পৌঁছায় না। আর যারা দর্শকের কাছে চলচ্চিত্র নিয়ে যায়, তারা মানসম্মত গল্প, নায়ক দিতে পারে না। এখানেও কিছু প্রশ্ন আছে, যেমন বর্তমান নায়কদের বৈশিষ্ট্য কী দাঁড়িয়েছে? যে চরিত্রে তারা অভিনয় করে, সেখানে তাদের মানায় কি না, বা মানানসই করে তোলা হয় কি না? এই যে চরিত্রের সঙ্গে নায়ককে মানানসই করে গড়ে তোলা, এ কাজটি মূলত পরিচালক তথা নির্মাতার।

বলা হয়, গল্প নির্বাচন থেকে শুরু করে চরিত্র নির্ধারণ এবং সেই চরিত্রানুযায়ী অভিনেতা নির্বাচন করে তার কাছ থেকে সঠিক অভিনয় আদায় করে নেওয়া নির্মাতার দায়িত্ব। আবার অভিনেতা তথা নতুন নায়ক তুলে আনাও অনেকাংশে তার ওপরই নির্ভর করে। আবার অন্য কোনো মাধ্যমে যদি নতুন মুখ আসে, তাকে শিখিয়ে পড়িয়ে দক্ষ করে নেওয়ার দায়িত্বটাও নির্মাতারই। নির্মাতারা তাদের সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছে না বলেই জ্বলে উঠতে গিয়েও বারবার নিভে যাচ্ছে তারা। যেমন : এফ ডি সি’র নতুন মুখের সন্ধানে’ থেকে জায়েদ খান উঠে এসেছেন। কিন্তু তার কোনো অগ্রগতি বা অভিনয়ের দক্ষতা এখনো গড়ে ওঠেনি। সেই প্রক্রিয়াটাও বন্ধ হয়ে গেছে এফ ডি সি’র। আবার সঙ্কট কাটাতে সুপার হিরো, সুপার হিরোইন’ নামের প্রতিযোগিতাও হয়েছে, কিন্তু সেখান থেকেও কেউ উঠে আসেনি। আসলে শুধু প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম চালিয়ে লাভ নেই। এতে স্বচ্ছতা থাকতে হবে, উত্তীর্ণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।’ কিন্তু তাদের কাজে লাগাতেই ব্যর্থ হচ্ছে নির্মাতারা। ফলে দক্ষ নায়কের সঙ্কট কাটছে না।

৫.

অনেক নতুন মুখ আসলেও বাংলা চলচ্চিত্রে নায়ক সঙ্কট না কাটার অন্যতম কারণ হলো দক্ষ অভিনয়শিল্পী গড়ে না ওঠা। ইন্ডাস্ট্রি, নির্মাতার পাশাপাশি এতে যারা নায়ক হতে আসছে তাদের দায়টাও কম না। অনুকরণ প্রবৃত্তি এদেশের নায়কদের ঘিরে ফেলছে, অভিনয় ছেড়ে বডি বিল্ডিং, সিক্স প্যাকের দিকে নতুনদের ঝোঁক একটু বেশিই। তবে সময়ের প্রয়োজনেও এ পরিবর্তন দরকার। হয়তো সেটা চলচ্চিত্রের কল্যাণ বয়ে আনতেও পারে। কিন্তু এটা এমন হচ্ছে না তো যে, আমার বন্ধুকে লাল শার্ট পরলে ভালো দেখাচ্ছে, তাই পরদিন আমিও একটা লাল শার্ট কিনে ফেললাম। যদি এমন হয়, তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, বন্ধুর ব্যক্তিত্ব, গায়ের রঙ, তার চলাফেরা, তার সংস্কৃতি সবমিলিয়ে তাকে লাল শার্টে ভালো লাগে। কিন্তু সেই একই শার্ট বন্ধুর থেকে ভিন্ন হলেও কি নিজেকে সুন্দর করে তুলবে, নাকি অন্যের হাসির পাত্রে পরিণত করবে তা লক্ষ রেখেই আগানো উচিত। হলিউড, বলিউডের নায়কদের দেখে নিজের বডি বানালেন অথচ নিজের সংস্কৃতি, চরিত্র, গল্পের ধারা তা যদি সমর্থন না করে, তবে তো হাসির পাত্র হতেই হবে। এ দায়টাও অনেকটা প্রযোজক-নির্মাতার। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন চলচ্চিত্রের নকল করতে করতে আসল গল্প বলতেই ভুলে গেছে তারা। ভালো গল্প না থাকলে ভালো নায়ক আসবে কীভাবে?

মূলত ঢাকাই চলচ্চিত্রের চাকা এখনো প্রায় উল্টোই ঘুরছে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা নেই। নতুন মুখ খোঁজা ও তাদের তুলে আনার সুযোগ নেই। যে দু-একজন কারো হাত ধরে আসছে, তাদের পরিচর্যা নেই। এমতাবস্থায় যে যেভাবে পারছে নায়ক হয়ে যাচ্ছে। ফলে দক্ষ নায়কের সঙ্কট আর কাটছে না। তবে আশার কথা একটাই, একজন হোক, দুজন হোক বাংলা চলচ্চিত্রে আবার নায়কের দেখা মিলছে। এরাই যখন পরিপক্ব হয়ে উঠবে তখন ভালো গল্পের দাবি জানানোর ক্ষমতাও তৈরি হবে। আর সেই ভালো গল্প ও পরিপক্ব নায়ক মিলে তৈরি হবে এমন চলচ্চিত্র, যা দর্শককে আবারও প্রেক্ষাগৃহমুখী করবে।

 

লেখক : মাজিদ মিঠু, রেডিও ধ্বনিতে নিউজ ব্রডকাস্টার হিসেবে কর্মরত।

[email protected]

তথ্যসূত্র

১. সেন, মৃণাল (১৯৯২ : ৯৩); সিনেমা, আধুনিকতা; সম্পাদনা : শিলাদিত্য সেন; প্রতিক্ষণ প্রেস প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা।

২. প্রাগুক্ত; সেন (১৯৯২ : ৯৬)।

3. http://www.bd-pratidin.com/entertainment-news/2016/04/20/139623; retrieved on 20.12.16

4. http://www.bd-pratidin.com/entertainment-news/2016/04/20/139623; retrieved on 20.12.16

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন