Magic Lanthon

               

হিরু মোহাম্মদ

প্রকাশিত ২৮ আগস্ট ২০২৫ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

কলম্বাসের আবিষ্কার থেকে বৃহত্তর বদ্বীপে

হিরু মোহাম্মদ


অভিজ্ঞতা যা বলে ...

রাষ্ট্র কীএমন প্রশ্ন করা হলে, সাধারণভাবেই উত্তরটা সবার কাছে একই রকম হবে না। কৃষক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যন্ত সকলেরই মত প্রায় ভিন্ন হবে। কারণ রাষ্ট্র নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। কেউ রাষ্ট্রের কাছ থেকে পায় সন্ত্রাস-নির্যাতন-নিপীড়ন; আবার কেউ রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থে, নিজের মতো করে এবং নেয় হাজারো সুযোগ-সুবিধা। রাষ্ট্রের উৎপত্তি নিয়ে যতো মত-পথের কথা বলা হোক না কেনো, জনগণকে এ মন্ত্রই দেওয়া হয় যে, তাদের কল্যাণেই রাষ্ট্র। যদিও সবসময়ই এই রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করেছে রাজা, জমিদার, সামন্তপ্রভুসহ উচ্চশ্রেণির লোকেরা। তারা উৎপাদনের কেন্দ্রে সাধারণ জনগণ, শ্রমিক শ্রেণিকে রেখে পেশি, সৈন্যসামন্ত, অস্ত্রের জোরে আবার তাদেরই শোষণ করেছে।

জনগণ যে সবসময়ই অস্ত্রের ভয়ে শাসকদের সব অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করে নিয়েছে, তা নয়। স্পার্টাকাসের মতো স্বাধীনতাকামীরা বারবার পতাকা তুলেছে রাষ্ট্রের অপশাসনের বিরুদ্ধে; পরাজিত হয়েছে, তবু হাল ছাড়েনি। এরই ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির আশায় সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতাস্লোগান নিয়ে দেখা দেয় ফরাসি বিপ্লব। জনগণ আবার স্বপ্ন দেখে নতুন করে বাঁচার। বিপ্লবে বিজয় হয় জনগণের। যে মুক্তির আশায় জনগণ ও শ্রমিক বিপ্লব করে, সেই আশা যে পূরণ হওয়ার নয়, তা তারা বুঝতে পারে বিপ্লবের অল্প সময় পরেই। ততোদিনে সমাজে নতুন কাঠামোর বিস্তার শুরু হয়েছে। ফলে একদিকে সাম্যের বিপরীতে শ্রমিকরা দিনের পর দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেছে। অন্য দিকে পুঁজিপতিদের পুঁজির পাহাড় আকাশচুম্বী হয়েছে। মৈত্রী আর স্বাধীনতার সেই বাণীর বাস্তবায়ন যেমন রুশো দেখে যেতে পারেননি, তেমনই সাধারণ জনগণও সেই সাম্য ও স্বাধীনতাকে ছুঁতে পারেনিনা অর্থনৈতিক, না রাজনৈতিক। রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা ছিলো তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আরো বেশি অর্থ, অস্ত্র, গণমাধ্যমসহ নানা শক্তি নিয়ে হাজির হয়েছে পুঁজিপতি শাসক। তারা নতুন উপায়ে শোষণ করতে শুরু করে শ্রমিক ও জনগণকে।

এই পুঁজিপতিদের শোষণের বিরুদ্ধে জনগণ ও শ্রমিক শ্রেণির প্রতিনিধিরা যে সবসময় রাজপথে আন্দোলন করেছে, তা নয়! তারা কখনো কখনো আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমকে। কেউ সমাজ-বাস্তবতা, কেউ মিথকে আবার কেউবা অন্য উপায়ে শোষণ-অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে। মিথকে কেন্দ্রে রেখে এস এম সুলতান বাংলার কৃষকের শোষণের কথা তুলে ধরেন। তিনি মনে করতেন বাংলার কৃষকরা দৈহিকভাবে অনেক শক্তিশালী ও কর্মঠ। তাই তিনি বাংলার কৃষককে চিত্রায়ণ করেন পেশিওয়ালা বিশাল দেহের অধিকারী হিসেবে। আবার সমাজ-বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে জয়নুল আবেদিন তুলে ধরেন ৪৩-এর দুর্ভিক্ষের চিত্র। যা বিশ্ববাসীর মানবতাকে নাড়া দিয়েছিলো। এসব চিত্রকর্ম শোষণের বিরুদ্ধে কথা বলে, একই সঙ্গে নিজের অধিকার সম্পর্কে সজাগ করে তোলে। এভাবে চিত্রকলা, নাটক, উপন্যাস ও চলচ্চিত্রসহ প্রায় প্রতিটা শিল্পেই স্পার্টাকাস-এর জন্ম হয়, হয়েছে। তারা স্ব স্ব শিল্প দ্বারা সমাজের শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতন, বৈষম্য ও অনিয়মসহ সব অসঙ্গতিকে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা কাজ করেন মানবতার অগ্রদূত হিসেবেও। তেমনই একজন চার্লি চ্যাপলিন।

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম চলচ্চিত্রে যার পদচারণা। চলচ্চিত্রকে তিনি ব্যবহার করেছেন শোষণ-অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি তুলে ধরেছেন সমাজের বাস্তবতা, প্রশ্ন তুলেছেন সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে। তার চলচ্চিত্র দেশ-কাল-সমাজকে ছাড়িয়ে সব দেশকালের প্রতিনিধিত্ব করে। এ প্রবন্ধে একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের রাষ্ট্র-সমাজকে মূল্যায়নে বেছে নেওয়া হয়েছে তার অমর সৃষ্টি সিটি লাইটসকে। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের সিটি লাইটস কীভাবে বর্তমান সমাজ, রাষ্ট্র ও ব্যক্তি জীবনকে প্রতিফলিত করে তা ধরার প্রয়াস থাকবে এই প্রবন্ধে।

ব্যক্তি চ্যাপলিন ও চলচ্চিত্রের চ্যাপলিন

চলচ্চিত্রজগতের মহাপুরুষ চার্লি চ্যাপলিনের জন্ম ফরাসি বিপ্লবের ঠিক শত বছর পরে লন্ডনের ইস্ট লেনে। যে অর্থনৈতিক মুক্তির ধুয়া তুলে ফরাসি বিপ্লব, তাতে কিন্তু মানুষের মুক্তি মেলেনি। পুঁজির ফেরে আটকে পড়া তেমনই এক পরিবারে জন্ম চ্যাপলিনের। উত্তরাধিকারসূত্রে ধনসম্পদ না পেলেও, পেয়েছেন শিল্পবোধ ও তা চর্চার অফুরন্ত সুযোগ। মা-বাবা দুজনেই ছিলেন পেশায় সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেতা। এই দম্পতি অন্যের মনকে খুশি করার জন্য নিবেদিত থাকলেও, নিজেরা সুখী হতে পারেননি। অভাব-অনটন আর মদ্যপ বাবার কারণে চার্লির পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকতো। এর মধ্যেই চলে চার্লির সঙ্গীত, নাটক ও মূকাভিনয় চর্চা। কিন্তু বাবার অকাল মৃত্যু আর মা মানসিক ভারসাম্য হারালে বাল্যকালেই শুরু হয় চার্লির উদ্দেশ্যহীন জীবন। কখনো রাস্তায়, কখনোবা থিয়েটারে নাচ-গান-অভিনয় করে চলে বেঁচে থাকার জীবনযুদ্ধ।

এই যুদ্ধটা চার্লি শেষ পর্যন্ত ধরে রেখেছিলেন তার প্রায় প্রতিটি কর্মের মধ্যেই। রাস্তায় অভিনয় থেকে যে নাটকের পথচলা তা পরে খ্যাতি ছড়ায় দেশ থেকে ভিন্ন দেশে। ঘটনাক্রমে চার্লির আলাপ হয় বিখ্যাত পরিচালক ডি ডব্লিউ গ্রিফিথ-এর ছাত্র চলচ্চিত্রনির্মাতা ম্যাক সেনেট-এর সঙ্গে। তিনিই প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য আমন্ত্রণ জানান চ্যাপলিনকে। কিছু সময় পর চ্যাপলিন যোগ দেন সেনেটের কিস্টোন কোম্পানিতে। তার প্রথম চলচ্চিত্র মেকিং লিভিং (১৯১৪), যার পরিচালক ছিলেন অরি লোর্মা। সময়টা ছিলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কিছু আগে। শিল্পমাধ্যম পরিবর্তন হলেও ভিতরের ভবঘুরে স্বভাবটা তাকে ছাড়েনি। প্রথম দিকে চলচ্চিত্রে চরিত্রের প্রয়োজনে বিভিন্ন পোশাকে অভিনয় করলেও, কিড অটো রেসেস অ্যাট ভেনিস-এর (১৯১৪) মধ্য দিয়ে এক বিশেষ পোশাকে শুরু করেন ভবঘুরে জীবনঢোলা প্যান্ট, চিপাচাপা কোট, ছোটো হ্যাট, হাতে ছড়ি আর নাকের নীচে ছোটো এক টুকরো গোঁফ নিয়ে। এই চরিত্র দিয়ে ওই যে শুরু করেন, তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্ব চলচ্চিত্রের এক মডেল। বৃদ্ধ থেকে আবাল সব শ্রেণি-পেশার লোক চার্লিকে ভবঘুরে হিসেবে জানতে শুরু করে। যে ভবঘুরে চরিত্রটা দিয়ে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মনে স্থায়ী আসন করে নেন চার্লি, সেই চরিত্রের রহস্য সম্পর্কে তার নিজের ভাষ্য,

এই ভবঘুরে স্বভাবটা ভেতরেই ছিল আমার, আমি বাইরে প্রকাশ করেছি শুধু। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া আমাকে প্রাণিত করেছিল, কিন্তু কখনও তা বুঝতে দিইনি তাঁদের। ব্যাপারটা শেষ হলেই দর্শকদের ভূমিকা, ঘটে যখন তখন নয়। একটা মজার মন সব সময়েই সঙ্গী ছিল আমার, ভেতরেই ছিল সেটা, আমাকে বলত, এটা মূর্ত করতেই হবে। মজারই বটে।

তিনি বিমূর্ত বিষয়কে মূর্ত করার জন্য সবসময়েই কাজ করেছেন, করছেনও বটে।

এ এক ‘আজব’ অভিনয়!

ক্ষুধা-দারিদ্র-হতাশা-বেকারত্ব সর্বোপরি মানুষের দুঃখগুলো যে শিল্প হয়ে মানুষকে আনন্দ দিতে পারে, সেটা চ্যাপলিনের চলচ্চিত্র না দেখলে হয়তো অনেকেই বুঝতে পারতো না! তাতে করে চলচ্চিত্র হয়ে উঠেছে শিল্প থেকে অনন্য। তিনি চলচ্চিত্রের মধ্যে শত বার অবহেলা-বঞ্চনার শিকার হন, পশ্চাৎদেশে লাথি খেয়ে ফিরে তাকান কিন্তু কোনো প্রতিবাদ করেন না। দর্শকও তৎক্ষণাৎ হয়তো ব্যথা পান না ঠিকই, কিন্তু কী যেনো একটা হয়। পর্দায় চার্লির কষ্টের মাত্রা যতো বাড়ে দর্শকের হাসি আর আনন্দের ফোয়ারা ততোই ছড়িয়ে যায়। এই হাসির ফোয়ারা যখন চরমে, তখনই চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু দর্শককে ভাবায়, ব্যথিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

দ্য গোল্ড রাশ-এ (১৯২৫) ক্ষুধার জ্বালায় চার্লির জুতো সেদ্ধ, ডগস লাইফ-এ (১৯১৮) চুরি করে খাওয়া দেখে দর্শক আনন্দ পেলেও পরক্ষণেই সম্বিত ফিরে পায়। চার্লির এ পরিবেশনা সভ্য সমাজ, রেনেসাঁকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সভ্যতা আর বর্বরতার মধ্যে যে মৌলিক পার্থক্য নেই, সেটা উপলব্ধি করতে শেখায়। যে মানুষ একসময় হিংস্র প্রাণী আর মানুষের মধ্যে লড়াই দেখে আনন্দ পেতো, সভ্যতার বলে সেই লড়াইয়ের ধরনে পরিবর্তন হলেও, লড়াইটা কিন্তু আছে। চার্লি সেই বিমূর্ত লড়াইটাকে অভিনয়ে মূর্ত করেন। তাই হয়তো চ্যাপলিনের চলচ্চিত্রে শত আনন্দের মধ্যেও হাসিতে দাঁত নয়, অশ্রু চিকচিক করে। তার চরিত্রের এই রহস্য ভেদ করা তাই বড়ো দায়!


তবে বিমূর্ত বিষয়ের মূর্ত প্রতিবাদ খুব বেশিদিন চালিয়ে নিতে পারেননি চার্লি; রাষ্ট্র ধরে ফেলেছিলো তার এই খেলা। তারা সক্রিয় হয়েছে চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে তার লড়াই সম্পর্কে। তাই লাইম লাইট (১৯৫২) মুক্তি উপলক্ষে চার্লি লন্ডনে গেলে, তাকে আর ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে তিনি ইউরোপে আরো দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করলেও অভিনয় করেন একটিতে। বাকি জীবন তিনি কাটিয়ে দেন জন্মভূমি ব্রিটেন ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে। কারণ তিনি সাম্রাজ্যবাদ পছন্দ করতেন না; তাই জন্মভূমি ব্রিটেনকেও ছাড় দেননি। যে মানুষটি সারাজীবন দুঃখ পেয়েও আনন্দ দিয়েছেন মানুষকে, ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের ২৪ ডিসেম্বর তিনিই সবাইকে কাঁদিয়ে পাড়ি দেন না ফেরার পথে। সশরীরে বিদায় নিলেও প্রতিনিয়তই চার্লির কর্ম আমাদেরকে তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাইতো ২০১৬-তে এসেও পৃথিবীর বৃহত্তর বদ্বীপে বসে তার সিটি লাইটস (১৯৩১) দিয়ে সমাজ-বাস্তবতাকে ধরার চেষ্টা করা যায়।  

এক নজরে সিটি লাইটস

সাংবাদিক রিচার্ড মেরিম্যান (১৯২৬-২০১৫) একবার চ্যাপলিনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনার প্রিয় কোনো চলচ্চিত্র আছে? চ্যাপলিন জবাবে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার মনে হয়, সিটি লাইটস। এটা ভালো লাগে আমার। এটা ভরাট, ভালো ছবি।’ নিজের নির্মিত ৮৮টি চলচ্চিত্রের মধ্যে সিটি লাইটসকে ভালো লাগার কারণটা চার্লি অবশ্য সরাসরি বলেননি। তবে এটা হতে পারে, অন্যান্য চলচ্চিত্রে হাসি, আনন্দ, প্রেম, ট্র্যাজেডি, রাষ্ট্র— যেকোনো একটি অথবা দুটি বিষয় উপস্থিত। কিন্তু সিটি লাইটস-এ সম্মিলন ঘটেছে এর সবগুলো উপাদানের। সিটি লাইটস-এর কাহিনি ভবঘুরে আর এক অন্ধ নারীর ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে। শান্তি ও উন্নতির জন্য রাষ্ট্র যখন মনুমেন্ট বানাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুল বিক্রি করা এক অন্ধ নারীকে প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলেন ভবঘুরে চার্লি। এরপর চলে একে অন্যকে জানাশোনা আর ভাবের আদান-প্রদান। অন্যদিকে রাতে এক মদ্যপ নদীতে আত্মহত্যা করতে গেলে, তাকে রক্ষা করে নতুনভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখান চার্লি। তার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়। সেই রাতেই মদ্যপ ওই ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চার্লি বুঝতে পারেন, তিনি অঢেল সম্পদ আর ক্ষমতার অধিকারী। মদ্যপ অবস্থায় তার সঙ্গে ভালোই চলছিলো বন্ধুত্ব; কিন্তু গোল বাধে তখনই, যখন তার নেশা কেটে যায়। সম্পদশালী ওই ব্যক্তি আর চিনতে পারেন না ভবঘুরে চার্লিকে।

এদিকে প্রিয় মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে প্রাণপণ চেষ্টা চলতে থাকে প্রেমিক-চার্লির। নিরুপায় চার্লি একপর্যায়ে জীবন বাজি রেখে নামেন বক্সিং রিঙে। সফল হন না। ভগ্নহৃদয় চার্লির সঙ্গে সেই রাতে আবারও দেখা হয় মদ্যপ ধনী বন্ধুটির। বন্ধুকে প্রেমিকার চিকিৎসার কথা বললে নেশার ঘোরে তাকে টাকাও দেন তিনি। ঠিক এই মুহূর্তে ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়, বাড়িতে চোর ঢোকে এবং তাদের আঘাতে ধনী বন্ধু প্রথমে জ্ঞান হারান ও পরে নেশা কেটে যায়। ধনী বন্ধু তখন আর ভবঘুরেকে চিনতে পারেন না, উল্টো পুলিশ তাকে চোর সাব্যস্ত করে। কৌশলে পালিয়ে গিয়ে চার্লি সেই টাকা ওই নারীকে দিতে পারলেও চুরির অপরাধে পরে তার সাজা হয়। সাজা শেষে তার কাছে ফিরে আসেন চার্লি। ততোদিনে অবশ্য সে চোখের আলো ফিরে পেয়েছে।

সিটি লাইটস : দেশে দেশে রাষ্ট্রের একই রূপ

চলচ্চিত্রের শুরু শান্তি ও উন্নতির প্রতীক হিসেবে নির্মাণ করা একটি মনুমেন্টের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। উদ্বোধনের পর্দা তুলতেই দেখা মেলে মনুমেন্টের উপর শুয়ে আছেন ভবঘুরে চ্যাপলিন। তাকে দেখে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের চোখ চড়ক গাছ! শান্তির প্রতীকে কেনো এই ‘অশান্তি’! এটা তাদের অস্বস্তিতে ফেলে। ফ্রয়েডের সুখনীতি (pleasure principle) সাড়া দেয়। দুঃখ-কষ্টের কথা ভুলে যেতে মন চায়। চার্লিকে সরিয়ে তারা স্বস্তি খোঁজে। সিটি লাইটস-এর মতো আমাদের চারপাশের মানুষরাও সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে শান্তি ও উন্নতির মনুমেন্ট বানাতে চায়। নিজেদের সফলতাগুলোকেই বারবার সবার সামনে এনে আত্মতৃপ্তি পেতে চায়। তাই সারাদেশে আকাশছোঁয়া বিলবোর্ড, ব্যানার ও মনুমেন্টসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উন্নয়নের ধারা তুলে ধরার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু ওই বিলবোর্ড, ব্যানার ও মনুমেন্ট চার্লির মতো সাধারণ মানুষের কাজে আসে না, এর ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়া ছাড়া। আবার কখনো কখনো কালবৈশাখি ঝড়ে সেই বিলবোর্ড ভেঙেই সাধারণ পথচারীর মৃত্যু হয়। রাজধানীর সৌন্দর্য বর্ধনে করা বাঘের ভাস্কর্য উল্টে অসহায় রিকশাওয়ালার প্রাণ যায়।

দৈত্যাকৃতি এসব বিলবোর্ডে ‘এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ’, ‘বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল’, ‘পরিবর্তনে অঙ্গীকারবদ্ধ’সহ আত্মতৃপ্তির নানা কথা লেখা থাকে। আবার এই বিলবোর্ডের নীচে দাঁড়িয়েই প্রতিদিন হকারদের চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘আজকের তাজা খবর! আবার ব্লগার খুন, ঘরে ঢুকে জোড়া খুন, ব্যবসায়ী গুম, শিশু অপহরণ, নিখোঁজের পর খুন ও আদিবাসী নারী ধর্ষিত’ হওয়ার শিরোনাম। প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তায়-দোকানে নাস্তিকের ধুয়া তুলে ব্লগার খুন হয়, ক্যান্টনমেন্টের মতো সংরক্ষিত এলাকায় তনুর লাশ পাওয়া যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়, প্রতিদিন কোনো না কোনো স্থানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়; অন্যদিকে বিলবোর্ডে অপ্রতিরোধ্য গতিতে দেশ এগিয়ে চলে!

চার্লিকে বারবার মনুমেন্টের উপর থেকে সরে যেতে বলে রাষ্ট্রের ধ্বজাধারীরা। উদ্ভ্রান্ত চার্লি তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে তার প্যান্ট আটকা পড়ে মনুমেন্টে থাকা এক সৈনিকের তরবারির আগায়। চার্লি সেখানে ঝুলতে থাকেন আর সেই মুহূর্তে শুরু হয় জাতীয় সঙ্গীত। দেশপ্রেমিক চার্লি সৈনিকের তরবারির মাথায় ঝুলে ঝুলেই জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান দেখাতে থাকেন। ঝুলন্ত চার্লির সম্মান জানানো সেই হাত বারবার পড়ে যেতে থাকলেও তিনি চেষ্টার কমতি করেন না। একপর্যায়ে জাতীয় সঙ্গীত শেষ হয়, চার্লি কৌশলে উদ্ধার পান সৈনিকের তরবারির আগা থেকে। এবার তার মনুমেন্ট থেকে নামার পালা। ঠিক তার আগ মুহূর্তে চার্লি তরবারি ধরে থাকা ওই সৈনিকের মুখে পশ্চাৎদেশ আর পাশের মূর্তিতে পা ছুঁয়ে মনুমেন্ট থেকে নেমে যান। চার্লির এই অভিনয় থেকে সাময়িক হাসি পায় ঠিকই, কিন্তু আমরাও যে চার্লির মতো সৈনিকের তরবারির আগায় ঝুলে আছি তা বুঝতে কষ্ট হয় না। আমরাও ঝুলে ঝুলেই উপায়হীনভাবে দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করছি। সবকিছু জানছি-বুঝছি কিন্তু কথা বলছি না। তিন মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অপহৃত ১৬ জনের মধ্যে কেবল তিনজনের লাশ নিয়ে হাহাকার করছি; অন্যদিকে নারীরা লাঞ্ছনার শিকার হবে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আছে— এই কথা বলে নববর্ষের দিন বিকাল পাঁচটার মধ্যে সব ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ করছি। চার্লির মতো ঝুলতে ঝুলতে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা অবশ্য তা মঙ্গল ভেবে মেনেও নিচ্ছি।

তবে রাষ্ট্রের এটাও মনে রাখা উচিত যে, চার্লি কিন্তু তরবারির আগা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। তারপর তিনি তার ক্ষমতা দেখিয়েছেন। জনগণও তাই; তারাও ইতিহাসের নানা বাঁকে নানাভাবে তার অসীম ক্ষমতা দেখিয়েছে। তখন কিন্তু চার্লির মতো তারাও ওই সৈনিকের মুখে পশ্চাৎদেশ ছুঁয়ে যাবে; ওই তরবারি আর কাজ করবে না; অন্তত ইতিহাস সেই সাক্ষ্যই দেয়।  

নিশ্চিত পরাজয়ে বাঁধা জীবন, তার পরও ...

ভালোবাসার মানুষের মানবেতর জীবন চার্লিকে পীড়া দেয়; এর গভীরতা এতো বেশি যে, সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও তার বাড়িভাড়া পরিশোধের দায়িত্ব নেন চার্লি। এদিকে যে একটা ছোটো কাজ চার্লি জুটিয়েছিলেন, সেটাও চলে যায় দেরি করে আসার জন্য। কিন্তু সকাল হওয়ার আগেই প্রেমিকার বাড়ি ভাড়ার টাকা চাই-ই, চাই। সঙ্গে ভালোবাসার মানুষটির চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন তো আছেই। এই দুঃখ নিয়ে নীরবে পথ চলতে শুরু করেন চার্লি। তার এই অসহায়ত্বের সুযোগ নেয় এক দালাল। তিনি চার্লিকে আশা দেন, বক্সিং রিঙে জীবন বাজি রেখে লড়াই করলেই টাকা সংগ্রহ করা যাবে। চার্লির প্রয়োজনকে পুঁজি করে তাকে বক্সিং রিঙে চড়ানো দালালের কাছে স্বাভাবিক হলেও, চার্লির জন্য তা মোটেও সহজ ছিলো না।

চার্লির মতো নিরুপায় হাজারো মানুষের স্বপ্নকে পুঁজি করে বর্তমানে এক শ্রেণির দালালের ব্যবসা চলে। কেউ দীর্ঘদিন বেকার থেকে, কেউ কর্মক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে, কেউ আরেকটু সুখের জন্য এই দালালদের কথায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামান্য ট্রলারে চেপে বিদেশে পাড়ি জমাতে আগ্রহী হয়। চার্লিও শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না দেখে জীবন বাজি রাখেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনেও বক্সিং রিঙে নামেন। চার্লির জন্য যেমন চেয়ে থাকে তার ভালোবাসার মানুষ, বিদেশগামী এ মানুষগুলোর জন্যও তাদের পরিবার-স্বজন।

ড্রেসিং কক্ষে বক্সারদের নানা আচরণ দেখে চার্লির বুঝতে কষ্ট হয় না, তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু ততোক্ষণে আর কিছুই করার নেই, রিঙের তালিকায় তার নাম উঠে গেছে। প্রতিপক্ষকে একপর্যায়ে তিনি প্রস্তাব দেন নিজের ইচ্ছায় হেরে যাওয়ার, যাতে পুরস্কারের টাকা দুজন ভাগ করে নিতে পারেন। কিন্তু পেশাদার বক্সার প্রতিপক্ষ তার কথায় কর্ণপাত না করে, তাকে নিশ্চিত পরাজয়ের মুখোমুখি হওয়ার পরামর্শ দেন। একইভাবে বিদেশে যাওয়ার জন্য দালালের হাতে টাকা তুলে দেওয়া এই মানুষগুলো একপর্যায়ে চার্লির মতো হয়তো বুঝতে পারেন তারা ভুল করেছেন। কিন্তু ততোদিনে জমি বিক্রি বা ধার-দেনা করে সংগ্রহ করা টাকা দালালের পকেটে ঢুকে গেছে। কিংবা তাদেরকে নিয়ে ট্রলার হয়তো মাঝ দরিয়ায় ভেসে চলেছে। ফলে নিরুপায় এই মানুষদের চার্লির মতো সবকিছু ‘নিয়তির’ ওপর ছেড়ে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

ছোটো ট্রলারে খাবার ফুরিয়ে আসে, তখন শুরু হয় অন্য এক লড়াই। বক্সিং রিঙে রেফারিকে ঢাল করে চার্লির সেই টিকে থাকার লড়াইয়ের মতো। কীভাবে নিজে বেঁচে থাকা যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেকে বাঁচিয়ে বেঁচে থাকার এ লড়াই সফল হয় না। যেমনটা শেষরক্ষা হয় না চার্লিরও। প্রতিপক্ষের আঘাতে জ্ঞান হারিয়ে রিঙ ছাড়তে হয়। চার্লি শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে গেলেও ওই মানুষগুলো বাঁচে না। তারা সংবাদপত্রের শিরোনাম হন “অথৈ সাগরে যেন ভাসমান ‘কফিন’” কিংবা ‘থ্যাইল্যান্ডে অবৈধ অভিবাসীদের গণকবরে জীবিত বাংলাদেশি।’ কালো হরফে উঠে আসে স্বপ্ন নয়, বেঁচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টার করুণ কাহিনি আর কঙ্কালসার মানুষের ছবি।

কিন্তু রাষ্ট্র একবারও প্রশ্ন তোলে না, কেনো ওই মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে অভিবাসী হয়, দেশ ছাড়ে। যেমনটা চার্লির কাছে কেউ জানতে চায় না, কেনো সে নিশ্চিত পরাজয় জেনেও লড়াইয়ে নামে!  উল্টো রাষ্ট্র তার ব্যর্থতা ঢাকতে সেই সহিংস রূপ নিয়ে হাজির হয়। দেশ ছাড়ার কারণ, পাচারের মূলহোতা না খুঁজে সামান্য দালাল নিধনে নামে। বিচারের সংস্কৃতি ভূলুণ্ঠিত হয়, সংবাদপত্রের পাতায় খবর আসে ‘‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন মানব পাচারকারী নিহত’। জনগণ সাময়িক সন্তুষ্ট হয় এই ভেবে যে, রাষ্ট্র মানব পাচার রোধে কাজ করছে। তাদের কাছে অন্যান্য মৃত্যুর মতো এই মৃত্যুও কোনো প্রশ্ন নিয়ে হাজির হয় না। রাষ্ট্রের এই ‘পাপের’ কাফফারা আবার কোনো না কোনো নাগরিককে দিতে হয় তাদের জীবন দিয়েই। রাষ্ট্র বারবার ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যায়, আর পরাজয়ের বৃত্তে ঘুরতে থাকে চার্লির মতো সাধারণ মানুষের জীবন!

তাল-মাতালের খেলা!

কোট-টাই পরা কেতাদুরস্ত এক ব্যক্তির সঙ্গে চার্লির প্রথম দেখা হয় নদীর পাড়ে। মদ্যপ সেই মানুষটি আত্মহত্যার জন্য সেখানে যান। আর বাড়িঘর না থাকায় চার্লিও নদীর পাড়ের ঠিক ওই নির্জন জায়গায় ঘুমাতে যেতেন। ঘটনাক্রমে চার্লি তাকে আত্মহত্যা থেকে বিরত রাখেন। এবং তার সঙ্গে চার্লির বন্ধুত্বও হয়। লোকটি চার্লিকে তার বাড়ি নিয়ে যান। মদ্যপ অবস্থায় তিনি চার্লিকে নিয়ে আমোদ-ফুর্তিতে মেতে ওঠেন। তাকে সঙ্গে করে পার্টিতে যান। কোনো কিছুর হিসাব ছাড়াই চার্লির পিছনে টাকা খরচ করেন। এমনকি চার্লির জন্য অন্যের সঙ্গে বিবাদ করতেও দ্বিধা করেন না তিনি। যে মানুষ বন্ধুর জন্য এতোকিছু করেন, সেই মানুষই নেশার ঘোর কেটে গেলে বন্ধুকে একেবারেই চিনতে পারেন না। চার্লির ধনী বন্ধুর এ ধরনের আচরণের সঙ্গে দেশের রাজনীতিবিদদের কিন্তু অনেকটাই মিল খুঁজে পাওয়া যায়। অবশ্য রাজনীতিবিদদের নেশা মদের নয়, ক্ষমতার। তারাও ক্ষমতার নেশার ঘোরে চার্লির বন্ধুর মতো মোক্ষম সময়ে সাধারণ জনগণকে কাছে টানে, ভালোবাসে; কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাদের নিয়ে মিছিল, সভাসমাবেশ করে; বক্তৃতায় বুলি আওড়ায়

মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক,

আমি তোমাদেরই লোক

আর কিছু নয়,

এই হোক শেষ পরিচয়।

তারপর ‘তোমাদের লোকের’ বেশ ধরেই তারা ক্ষমতার মসনদে বসে। এরপর কীভাবে যেনো এই মানুষগুলোর ঘোর কেটে যায়! যে জনগণের ওপর ভর করে তারা ক্ষমতায় আসীন হয়, সবার আগে তাদেরকেই ভুলে যায়। তারপর কড়ায়-গণ্ডায় সেই ভালোবাসার ঋণ জনগণের কাছ থেকে তারা শোধ করে নেয়। যে জনগণকে সকল শক্তির উৎস বলে তারা স্বপ্ন দেখায়, তাদেরকে চার্লির বন্ধুর মতো সবার আগে ক্ষমতাহীন করে ফেলে।

চার্লির ধনী বন্ধুর মতো রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় যাওয়ার আগে জনগণের কাছে গিয়ে তাদের ভালো-মন্দের খোঁজখবর রাখে। তাদের ব্যথায় ব্যথিত হয়। সুখে-দুঃখে জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরিস্থিতি এমন হয় যে, ওই ধনী বন্ধু চার্লিকে আলাদা ঘরে রাখতেও অনাগ্রহ দেখায়। ভালোবাসার তোড়ে একই বিছানায় তাকে নিয়ে ঘুমায়। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে নেশা কেটে গেলে চার্লিকে আর চিনতে পারেন না। তাকে তাড়িয়ে দেন। রাজনীতিবিদরাও নির্বাচনের সময় ঘরে ঘরে যায়, মাঠে কাজ করা ঘামের গন্ধওয়ালা কৃষককে বুকে টেনে নেয়; কোলে নেয় কাদামাটিতে খেলা করা নিম্নবিত্তের শিশুকে। ক্ষমতায় গেলে ওই রাজনীতিবিদরাই আবার সব ভুলে যায়। বিপদে সেই ক্ষমতাসীন রাজনীতিককে পাশে পাওয়া তো দূরের কথা, তার সঙ্গে জরুরি বিষয় নিয়ে দেখা করতে গেলেও সাত দিন আগে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করতে হয়। এর ব্যত্যয় হলে ধনী বন্ধুর কর্মচারীর মতো তাদের লোকরাও অর্ধচন্দ্র দিয়ে জনগণকে বের করে দেয়।

হাড়ভাঙা পরিশ্রমের টাকায় জনগণ নিয়মিত রাজস্ব দেয়, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন রাজনীতিকরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ব্যবহার করেন। আবার সেই গাড়িতে করে রাজনীতিবিদরা এলে, তাদের অভ্যর্থনা দেওয়ার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের জনগণকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এই মানুষগুলোই অবশ্য তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিলো! চার্লির গাড়ি পছন্দ হয়েছে শুনে তাকে নিজের গাড়িটা দিয়ে দেন ধনী বন্ধু। ঘোর কেটে গেলে ধনী বন্ধু চার্লিকে গাড়ি তো দেনই না, বরং তার সামনে দিয়ে সেই গাড়িতে চড়েই ধুলো উড়িয়ে চলে যান। 

যে শান্তি-নিরাপত্তার ধুয়া তুলে রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় আসে, তাদের হাতেই জনগণের সর্বস¦ ভূলুণ্ঠিত হয়। যেমনটা হয় চার্লির ক্ষেত্রেও। ধনী বন্ধু চার্লিকে তার ভালোবাসার লোকের ঋণ পরিশোধ ও চোখ ভালো করার টাকা নিয়ে কোনো চিন্তা না করে, নিশ্চিতে থাকার পরামর্শ দেন। টাকাও দেন নেশার ঘোরে, কিন্তু যখন চোরের অস্ত্রের আঘাতে ঘোর কেটে যায়, তখন তিনি চার্লিকে চোর অভিযোগে পুলিশের হাতে তুলে দেন। একইভাবে জনগণের জন্য আইন প্রণয়নে তাদের ভোটে যে রাজনীতিবিদ সংসদে যান, সেই সাংসদই আইন না মেনে বন্দুকের নিশানা করেন জনগণকেই। সাংসদের গুলিতে শিশুও রক্তাক্ত হয়।

সত্য না বাস্তব?

কোনটা সত্য, কোনটা বাস্তব; চোখে দেখা সবকিছুই কি সত্য— এমন প্রশ্ন চিরন্তন। সত্য ও বাস্তবের এ দ্বন্দ্ব চলছে। এর ফেরে পড়ে অনেক মানুষকে জীবনে বড়ো ধরনের মাশুলও গুণতে হয়েছে। সিটি লাইটস-এ চার্লিও ঠিক এই ফেরেই পড়েন। চার্লি যখন ভালোবাসার মানুষের ঋণ ও চিকিৎসার টাকার জন্য বক্সিং লড়াইয়ে হেরে বিধ্বস্ত, ঠিক সেসময় আবার দেখা হয় সেই ধনী মাতাল বন্ধুর সঙ্গে। ধনী বন্ধু চার্লিকে তার বাড়ি নিয়ে আসেন। তার কষ্টের কারণ জানতে চান। চার্লি সব খুলে বললে, ধনী বন্ধু তাকে আশ্বস্ত করেন, তার ভালোবাসার মানুষের ঋণ ও চিকিৎসার সব দায়-দায়িত্ব নেন। মাতাল অবস্থায় ধনী বন্ধু এক হাজার ডলারও দিয়ে দেন চার্লিকে। এরপর চার্লি আর তার বন্ধু মিলে বসে গল্প করতে থাকেন। এ সময় হঠাৎই ঘটে এক দুর্ঘটনা। ঘরের ভিতরে আগে থেকেই ঢুকে থাকা চোর পিছন থেকে এসে মাতাল বন্ধুর মাথায় আঘাত করে; তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। চার্লি চোরকে দেখে ফেলেন এবং পুলিশকে খবর দেন। একই সঙ্গে বন্ধুকে সুস্থ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকেন। এদিকে তখনই ঘরে প্রবেশ করে বাড়ির এক কর্মচারী। তখন চার্লি বন্ধুর জ্ঞান ফেরানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কিন্তু ওই কর্মচারী চার্লির এই আচরণে মনে করেন, তিনি তার মালিকের শরীর তল্লাশি করছেন। ততোক্ষণে অবশ্য চোরেরা মালিকের মানি ব্যাগ নিয়ে চলে গেছে। এদিকে পুলিশ এসে চোরকে ধাওয়া করা দেখে ও কর্মচারীর বক্তব্য শুনে চার্লিকে ধরে ফেলে চুরির অভিযোগে। চার্লি বারবার বোঝাতে থাকেন, তিনি টাকা চুরি করেননি। এদিকে কর্মচারী সাক্ষ্য দেন, তিনি চার্লিকে তার মালিকের শরীর তল্লাশি করতে দেখেছেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ চার্লির শরীর তল্লাশি করে বন্ধুর দেওয়া সেই এক হাজার ডলারও পান। পুলিশ চার্লিকে ওই টাকা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। চার্লি জানান, তার বন্ধু এ টাকা দিয়েছে। কিন্তু ততোক্ষণে ধনী বন্ধু মাতাল অবস্থা থেকে স্বাভাবিক হয়েছেন; ফলে তিনিও আর চার্লিকে চিনতে পারেন না। চলচ্চিত্রের এক ঘণ্টা ১০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত চার্লি ও তার ধনী বন্ধুর মধ্যে যা যা ঘটে এর সবকিছুই বাস্তব কিন্তু কোনোটাই সত্য নয়।

চলচ্চিত্রে যেমন কখনো কখনো দেখানো হয় নায়ক ১০ তলা ভবন থেকে লাফ দেন কিংবা বিশাল কোনো ভবন আগুনে পুড়ে যায়এর সবই হয়তো বাস্তবে ঘটে মানে নায়ক নয়, নায়কের পরিবর্তে কেউ হয়তো লাফ দেন (এখন অবশ্য আধুনিক প্রযুক্তির বদৌলতে লাফ না দিয়েও এ ধরনের দৃশ্য দেখানো সম্ভব) কিংবা সেটে বানানো কোনো ভবন হয়তো পোড়ানো হয় তবে এর কোনোটাই কিন্তু সত্য নয়। চার্লির ক্ষেত্রেও এমনটিই ঘটে। চার্লি তার বন্ধুকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন আর কর্মচারী দেখেন তিনি শরীর তল্লাশি করছেন। পরে আবার চার্লির কাছ থেকে টাকাও পায় পুলিশ। সবমিলিয়ে বাস্তবে প্রমাণ হয় চার্লিই চোর। এর ফলে তারা আর সত্য খোঁজার চেষ্টা করেন না। তাই শেষ পর্যন্ত চার্লিকে সত্য সত্যই কারাগারে যেতে হয়। সত্য ও বাস্তবের এই খেলা সবসময় সব দেশেই চলছে। ডাকাত, খুনি, আসামি কিংবা জঙ্গিদের সঙ্গে র‌্যাব-পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ-ক্রসফায়ার’ হয়তো চলচ্চিত্রের মতো বাস্তবেই হয়; সেখানে মৃত্যুটা সত্য হলেও ‘বন্দুকযুদ্ধ-ক্রসফায়ার’-এর গল্পটি থাকে হয়তো বাস্তব।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এই সত্য অনুসন্ধানের অধিকার জনগণের হাতে থাকে না; যেমনটি ছিলো না চার্লির। যাদের হাতে এ অধিকার থাকে, তারা নিজেদের মতো করে সত্য-বাস্তবতার নয়-ছয় করে বিচার করেন। যার ফলে সঠিক বিচার না পেয়ে কখনো জনগণকে চার্লির মতো গুলির তাড়া খেয়ে পালাতে হয়, কখনো রাষ্ট্রের বিভিন্ন বাহিনীর বানানো বাস্তবতার ফেরে পা দিতে হয়। ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের ২১ আগস্টের আলোচিত গ্রেনেড হামলার ‘আসামি’ জজ মিয়ার কথাই ধরুন। রাষ্ট্রযন্ত্র ও তার লোকবল জজ মিয়াকে নিয়ে এক বাস্তব গল্প বানায়। সহজ-সরল দিনমজুর জজ মিয়া এই হামলার প্রধান আসামি হয়ে রাতারাতি হয়ে যান ভয়ঙ্কর নায়ক। অথচ ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলে ‘ভয়ঙ্কর নায়ক’ বানানোর বিনিময়ে জজ মিয়ার পরিবারকে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় একটি গোয়েন্দা সংস্থা। একইভাবে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ক্ষেত্রে একধরনের বাস্তবতা নির্মাণ করা হয়। হবিগঞ্জের আলোচিত চার শিশু হত্যার প্রধান আসামি বাচ্চু মিয়া বিচার শুরুর আগেই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। র‌্যাব দাবি করে, বাচ্চু মিয়া গোপনে ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলো, এই খবরে তারা অভিযান চালালে একদল লোক তাদের চ্যালেঞ্জ করে। সেখানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাচ্চু নিহত হন। কিন্তু বাচ্চুর পরিবারের দাবি, মামলার একদিন পর বাড়ি থেকে র‌্যাবই তাকে তুলে নিয়ে যায়। সত্য ও বাস্তবতার এই দ্বন্দ্বে যেটা হয়, তাতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়।

এ যেনো আত্মরতির খেলা

মনুমেন্টের উদ্বোধনের অনুষ্ঠান থেকে তাড়া খেয়ে রাস্তার চার্লি আবার রাস্তায় চলতে শুরু করেন। পথের পাশেই শো-রুমের সামনে কাচে ঘেরা এক নগ্ন নারী মূর্তি দেখে থমকে দাঁড়ান তিনি। নারী মূর্তিটির এক পাশে রাখা এক দুরন্ত ঘোড়া, অন্যপাশে এক নারী পুরুষের হাত ধরে হেঁটে চলছেন। চার্লি দাঁড়িয়ে থাকা অপরূপ সেই নারীর নগ্ন শরীর দেখে বিভোর হন, তাকে নিয়ে হয়তো পাশের মূর্তির পুরুষের মতো হেঁটে বেড়ানোর স্বপ্নও দেখেন। পাশের দুরন্ত ঘোড়া তাকে এতে অবশ্য সহায়তাও করে। কারণ মহামতি ফ্রয়েড থেকে পালাবার তো উপায় নেই। পাহাড়ে চড়া, আকাশে ওড়া ও ঘোড়ায় চড়ার মধ্যে ফ্রয়েড যে রতির চিহ্ন দেখেছিলেন তা হয়তো চার্লিতে ভর করে। সময়ের সঙ্গে ওই নারীর উন্মুক্ত বক্ষ, নিতম্ব, কোমর চার্লিকে এতোটাই বিভোর করে যে শো-রুমের পাশের ফুটপাতে চলা সংস্কার কাজের কথা তিনি ভুলে যান। অপরূপ সেই নারী মূর্তি দেখে তিনি বারবার সামনে-পিছনে যাতায়াত করতে থাকেন, তার পিছনেই ফুটপাতের নীচ দিয়ে যাওয়া পয়ঃনিষ্কাশন ড্রেনে সংস্কার কাজ চলছিলো, যেখানে পড়ে গেলে বড়ো ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা ছিলো। ‘বিপজ্জনক’ লেখা সাইনবোর্ড উপেক্ষা করে তিনি বার বার বিভিন্ন দিক থেকে নারী মূর্তিটি দেখতে থাকেন। যদিও শেষ পর্যন্ত বিপদে পড়তে পড়তে বেঁচে যান চার্লি। চার্লি বিপদ থেকে বেঁচে গেলেও পুঁজি প্রাধান্যশীলতার এই যুগে সাধারণ মানুষের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া কিন্তু সহজ হয় না।

প্রতিদিন টেলিভিশন, সংবাদপত্র, নাটক, চলচ্চিত্র, বিলবোর্ডসহ নানা মাধ্যমে হাজারো নারী শরীর আমাদের সামনে হাজির হয়। তাদের ‘অস্বাভাবিক’ সৌন্দর্য আমাদের মসৃণ, চকচকে, স্বার্থপর জীবনের প্রতি কামুক করে তোলে। ‘আমরা না করতে পারা মধুচন্দ্রিমা (কারণ, আমার এরকম অমানুষিক রকম সুন্দর স্ত্রী নেই; আমার উড়তে, ভাসতে এবং গাইতে পারার মতো অবাস্তব প্রযুক্তি আয়ত্তে নেই) ও পর্যটনের তৃপ্তি অনুভব করতে পারি।’ তাই আমরা চার্লির মতো ওই নারীদের শরীর নিয়ে স্বপ্নে বিভোর হই। এই বিভোরতা এতোটাই থাকে যে, কোনো কিছু চিন্তা না করেই আমরা তাদের অনুসরণ করি, তাদের মতো হতে চাই; তাদের পেতে চাই। এক্ষেত্রে দুই ধরনের ঘটনা হয়পুরুষরা ওই নারীকে পেতে চায় আর নারীরা পুরুষের সেই কাক্ষিত নারী হয়ে উঠতে চায়। এই দুই চাওয়াকে কাজে লাগায় পুঁজি। পুঁজি তার পণ্যগুলোকে সেই নারীদের হাতে তুলে দেয়। সে তার পণ্য নিয়ে হাজির হয় নানা রঙে, ঢঙে। আর এই করতে গিয়ে আমরা চার্লির মতো বিপদের মধ্যে থেকেও তা অনুভব করতে পারি না। চাওয়া থেকে চাহিদা আর চাহিদা পূরণে চলে উত্তরোত্তর শ্রম; আর যতো শ্রম ততো পুঁজি। একপর্যায়ে সেই নিজের কামানো পুঁজির দ্বারা নিজেই শোষিত হওয়া। চার্লির মতো বিপদে পড়ে হয়তো আমরা কোনোমতে বেঁচে যাই ঠিকই, কিন্তু সে বেঁচে থাকা হয় দাসত্বের। এ দাসত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়, এ দাসত্ব পুঁজির। পুঁজি এমনভাবে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র ও সমাজকে মোহিত করে রাখে, যে কেউ চাইলেও এর বাইরে যেতে পারে না। পুঁজির ধোঁকায় বেশিরভাগই আত্মরতিতে ভাসে।   

এখানেই শেষ নয় ...

প্রায় শত বছরের কাছাকাছি বয়স হতে চললো চার্লির অমর সৃষ্টি সিটি লাইটস-এর। এতো বছর পরেও সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবার, সর্বোপরি জীবনের নানা ক্ষেত্রে সিটি লাইটস কোনো না কোনোভাবে হাজির থেকেছে; যা বাস্তবতা ও হাসি-আনন্দকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ভাবিয়েছে প্রতিক্ষণ। এই অনন্যতা খুব কম নির্মাতা, অভিনেতাই পৃথিবীতে ধারণ করতে পেরেছেন। চলচ্চিত্রে পুঁজি ও ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা দেখে এক সাংবাদিক চার্লিকে প্রশ্ন করেছিলেন, আপনি বলশেভিক কি না? চ্যাপলিনের স্পষ্ট উত্তর ছিলো, ‘আমি একজন শিল্পী এবং মানুষের জীবন নিয়েই আমার কাজ। বলশেভিজম মানব জীবনের একটি নতুন অধ্যায়। কাজেই জীবন প্রেমিক হিসেবে আমি অবশ্যই এতে আগ্রহী।’ শিল্পী চার্লি কাজ করেছেন মানুষের জীবন নিয়ে, আর সেই জীবনের পরাজয় যেখানেই হয়েছে, সেখানেই তিনি আজো হাজির হন ভবঘুরে হয়ে।

 

লেখক : হিরু মোহাম্মদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এর পাশাপাশি তিনি ইতিহাস কারখানা নামের একটি অনলাইন আর্কাইভ-এ কর্মরত।

[email protected]

তথ্যসূত্র

১. মেরিম্যান, রিচার্ড (১৯৮২ : ২২); ‘ভবঘুরে স্বভাবটা ভেতরেই ছিল আমার’; কবিতীর্থ; সম্পাদনা : উৎপল ভট্টাচার্য; কবিতীর্থ প্রকাশনী, কলকাতা।

২. প্রাগুক্ত; মেরিম্যান (১৯৮২ : ২৪)।

৩. ‘নিখোঁজ আতঙ্ক চলছেই’; কালের কন্ঠ, ১৮ এপ্রিল ২০১৬।

৪. “‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন মানব পাচারকারী নিহত”; প্রথম আলো, ৯ মে ২০১৫।

৫. এই পঙক্তিগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পরিচয়’ কবিতা থেকে নেওয়া।

৬. ‘সাংসদের গুলিতে রক্তাক্ত শিশু’; প্রথম আলো, ৩ অক্টোবর ২০১৫।

৭. হোসেন, মাহমুদুল (২০১০ : ৯২); ‘চলচ্চিত্রে মতানৈক্যের কণ্ঠস্বর: বিকল্প চলচ্চিত্র’; সিনেমা; ধানমণ্ডি, ঢাকা-১২০৯।

৮. রফিক, মনিস (২০১০ : ৭৭); ‘বেদনার্ত চিরঞ্জীব চার্লি চ্যাপলিন’; চলচ্চিত্র বিশ্বের সারথি; রোদেলা প্রকাশনী, ঢাকা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন