Magic Lanthon

               

নাজমুল রানা

প্রকাশিত ১৭ আগস্ট ২০২৫ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

দক্ষিণী রাজার বিজয় উপাখ্যান আমাদের বেহাত সাম্পান

নাজমুল রানা


পুষ্প-প্রেম-স্বপ্ন ও বাজার

ফুল দেখে কবি, সাহিত্যিক, চিত্রকর থেকে আমজনতা সবাই কমবেশি মুগ্ধ হয়, আবেগাপ্লুত নয়নে ফুলের সঙ্গে কারো মুখাবয়বের তুলনা খোঁজে; প্রশংসা করে প্রকৃতির নান্দনিক সৃষ্টি রহস্যের; কেউ আবার প্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় পছন্দের মানুষটির হাতে এই ফুল তুলে দিয়েই। তাই বলে ফুল কি কেবলই নান্দনিক; প্রেমিকের হাত ছুঁয়ে প্রিয়ার হাত জড়িয়ে প্রেমের কথা বলতেই ফোটে? এর মধ্যে কি সবাই কেবল প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যমণ্ডিত সৃষ্টি রহস্যই খোঁজ করে? হয়তো, হয়তো না। কারণ এই ধনতান্ত্রিক যুগে গাছে কলি আসার আগেই নির্ধারণ হয়ে যায় ফুটন্ত ফুলের বাজার দর! অথবা ফুলকে ফুটতেই হয় বাজারের নিয়মকানুন মেনে; অনেক ক্ষেত্রে ফুল কখন ফুটবে, কখন ফুটবে না তাও নির্ধারণ করে দেয় বাজার! অনেক চিত্রকর ফুলের চিত্রও আঁকেন টাকার জন্যে, প্রেমিকার হাতে ফুল তুলে দিতেও টাকা লাগে, নান্দনিকতাও এখন পরিমাপ হয় আর্থিক মানদণ্ডে! তবে এর ব্যতিক্রমও হয়তো আছে। সবচেয়ে বড়ো কথা হলো, বাজারের এই যুগে শুধু ফুলের মধ্যে নান্দনিকতা খুঁজে টিকে থাকাও দায়, কারণ শখ করে ফুলের বাগান করতে গেলেও অর্থ লাগে; তাই বাধ্য হয়ে ফুলপ্রেমীকে মাঝে মাঝে ফুল ব্যবসাতে নামতে হয়, আনন্দ বেচেই নিতে হয় আনন্দের স্বাদ।

ফুলের জায়গায় যদি রাখা হয় চলচ্চিত্রকে, তবে এর হালটা কেমন হতে পারে সেটা নিশ্চয়ই অনুমেয়; কারণ এই প্রযুক্তিনির্ভর মাধ্যমটির উদ্ভবই হয়েছে নিখাদ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে। এর উদ্ভাবকরা মূলত বিনোদন বেচে অর্থ কামাতেন। পরে কিছু সৃজনশীল মানুষের হাতের স্পর্শে যান্ত্রিক চলচ্চিত্রে শিল্পের ছোঁয়া লাগে। তাই বলে নিখাদ বিনোদনকে কিন্তু বাদ দেওয়া যায়নি ছেঁকেছুঁকে, এখনো সে ধারা অব্যাহত সপাটে। যদিও কিছু মানুষ এই ব্যবসা ও শিল্পকে সমন্বয় করেছেন দক্ষ হাতে; তারা বিনোদন দিয়ে অর্থ উপার্জন যেমন করেছেন, তেমনই চলচ্চিত্রকে শিল্পে মুড়িয়ে প্রত্যহ তৈরি করছেন নতুন ইতিহাস। আবার অনেক নির্মাতার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ধরা দিয়েছে কেবলই অর্থ উপার্জন। তবে ভালো-মন্দের মাপকাঠিতে এই উপার্জন ইচ্ছাকে পরিমাপ করা হয়তো অনুচিত; কারণ ব্যবসা করতে না পারলে প্রযোজকরা টাকা দিতে চাইবে না। অন্যদিকে মানুষ না দেখলে চলচ্চিত্র বানিয়েইবা লাভ কীএ প্রশ্নও অনেকে তুলতে পারে।

উল্টো প্রসঙ্গ অনেক হলো, চলুন পা বাড়াই আসল গন্তব্যে। ভারতের দক্ষিণী নির্মাতা এস এস রাজামৌলিকে নিয়ে কথা বলার তাগিদেই উপরের আলোচনার অবতারণা। রাজামৌলি এমন একজন নির্মাতা যার সব চলচ্চিত্রই ব্লকবাস্টার! তার পদচারণা দক্ষিণে হলেও তার পরিভ্রমণ পরিধি দক্ষিণকে ছাড়িয়ে উত্তর-পূর্ব-পশ্চিম সব দিকেই ছড়িয়েছে বহু আগেই। তার কয়েকটি চলচ্চিত্র রিমেকও হয়েছে বলিউড-টালিগঞ্জে। মৌলি মূলত প্রথম সবার নজর কাড়েন মাগাধিরা (২০০৯) দিয়ে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পায় মাগাধিরা, তবে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা কিংবা শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নয়, সিনেমাটোগ্রাফিতে। কিন্তু সেই মাইলফলক তার কাছে অধরা থাকেনি, তিনি ছুঁয়েছেন সদর্পে বিগত ইতিহাস সপাটে গুঁড়িয়ে দিয়ে। তার বাহুবালি : দ্য বিগিনিং (২০১৫) শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে। আলোচ্য প্রবন্ধে নির্মাতা মৌলিকে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে তার চলচ্চিত্র ও কথোপকথনের আলোকে।

রাজামৌলি রাজাই বটে

কাঁচা-পাকা দাড়ি, সুঠাম দেহ, স্যামন মাছের মতো উজ্জ্বল চোখ; গম্ভীর চেহারায় ফুটে ওঠা বিনয়ী ও আত্মবিশ্বাসী ভাবসব মিলেই রাজামৌলি। মৌলির এই আত্মবিশ্বাসী ভাব যে কেবল চেহারায়, এমন নয়; আদতেই তিনি যে আত্মবিশ্বাসের মূর্ত প্রতীক, তার কর্ম সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এই আত্মবিশ্বাসের কারণেই হয়তো তিনি একশো ২০ কোটি রুপির বাহুবালি : দ্য বিগিনিং প্রজেক্টটি কোনো দ্বিধা ছাড়াই হাতে নিতে পেরেছিলেন; যেটা তার জন্য ছিলো বড়ো চ্যালেঞ্জ। তার আগে বলিউডের বাইরের কোনো ভারতীয় নির্মাতা এতো বড়ো চ্যালেঞ্জ নেওয়ার দুঃসাহস দেখাননি।

ক. শুরুটা যেভাবে

দক্ষিণের বিখ্যাত নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার কে. রাঘবেন্দ্র রাও-এর শান্তি নিভসম নামে টেলিছবিতে সহকারী হিসেবে মৌলির কর্মজীবনের শুরু। শুরুতেই তিনি জাত চেনান! কঠোর পরিশ্রম ও কর্মদক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে গুরু রাঘবেন্দ্র তাকে ডাকতেন ওয়ার্কিং ডেভিল বলে। নিজ কর্মস্পৃহা এবং গুরুর কাছ থেকে দীক্ষা নিয়ে ধীরে ধীরে মৌলি নিজেকে তৈরি করতে থাকেন। গুরুর সঙ্গেও বাড়তে থাকে ঘনিষ্ঠতা। গুরুর কাছ থেকে পাওয়া দীক্ষার প্রথম প্রয়োগ মৌলি ঘটান ২০০১ খ্রিস্টাব্দে, নির্মাণ করেন নিজের প্রথম কাহিনিচিত্র স্টুডেন্ট নাম্বার ওয়ান। এতে মৌলি, অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাবার ইচ্ছে পূরণের জন্য ল কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী আদিত্যর গল্প বলেন। গুরু রাঘবেন্দ্র এ সময়ও মৌলির পাশে থেকেছেন, নানাভাবে পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথম চলচ্চিত্রেই মৌলি করলেন বাজিমাত! সাড়া ফেললেন বক্স অফিসে। এর পর তাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। দ্বিতীয়টি নির্মাণে সময় নিলেন পাক্কা দু-বছর। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত সিমহাদ্রিও তাকে এনে দেয় ব্যাপক সাফল্য। পিতৃমাতৃহীন যুবক সিমহাদ্রির গল্প সিমহাদ্রি, যে বেড়ে ওঠে অন্যের আশ্রয়ে। আশ্রয়দাতার নাতনি ভালোবাসে তাকে, আর সে ভালোবাসে অন্যজনকে। চলে ভালোবাসার টানাপড়েন।

সিমহাদ্রির পর মৌলি এবার মিথলজিনির্ভর চলচ্চিত্র-নির্মাণের কথা ভাবলেন; কিন্তু নানা কারণে তা আর হয়ে ওঠে না। সেই ছোটোবেলায় কমিক বই পড়ে যে চরিত্র তার মাথায় ঢুকেছিলো তা কি আর এতো সহজে ছেড়ে চলে যায়। তাই ইমেজগুলো প্রতিক্ষণ ঘুরপাক খেলেও বের হওয়ার যেনো সুযোগ পাচ্ছিলো না। তাই বলে বসে থাকেননি মৌলি; ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬-এ একে একে নির্মাণ করেনসাই, ছত্রপতি ও বিক্রমারকুডু। রাগবি-খেলাকেন্দ্রিক সাই-এ মৌলি কলেজের প্রতিপক্ষ দুই রাগবি দলের গল্প বলেন। যারা রাগবি খেলায় নিজ নিজ শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে একে-অপরের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায়; জড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষেও। কিন্তু স্থানীয় এক মাফিয়া কলেজের জায়গা দখলে নিতে চাইলে দুই দলই এক হয়ে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। কেবল কলিউড নয়, গোটা ভারতেই এটা ছিলো রাগবিকেন্দ্রিক প্রথম চলচ্চিত্র। শুধু এ কারণেই যে সাই অভিনব তা কিন্তু নয়, সাইয়ের আরেক অভিনবত্ব হলো প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল এক হয়ে শত্রুকে রুখে দেওয়ার ক্লাইমেক্স। ফলস্বরূপ সাইও ব্লকবাস্টার।

ছত্রপতিতে মৌলি বলেন মা, ছেলে ও সৎ ছেলের গল্প। যেখানে মা তার আপন ছেলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় সৎ ছেলেকে; আর এটা সহ্য করতে না পেরে তার আপন সন্তান প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে। আর বিক্রমারকুডুর বিশেষত্ব হলো, এটি মৌলির আগে নির্মিত সব চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক রেকর্ড ভেঙে দেয়। এখানে মৌলি খুন, সন্ত্রাস, দুর্নীতিসহ নানা সামাজিক সমস্যা এবং নায়কের অতিমানবীয় ক্ষমতার ব্যবহারে তার সমাধানের গল্প বলেন। এর বলিউডি রিমেক রাউডি রাঠোরও প্রবেশ করে একশো কোটির ক্লাবে।

খ. মৌলির ভিন্ন পথে গমন

মৌলি এবার একটু টার্ন করেন। সিমহাদ্রির পর তিনি যে মিথলজিনির্ভর চলচ্চিত্র-নির্মাণের কথা ভেবেছিলেন, এবার সে কাজে হাত দেন। ২০০৭-এ নির্মিত ইয়ামাদুঙ্গায় তিনি খানিকটা মিথলজির প্রয়োগ ঘটান। যদিও এ প্রয়োগ ক্ষুদ্র, তার পরও মৌলি এই ক্ষুদ্রেই যে বৃহতের সূচনা করেছিলেন তা কিছু না ভেবেই বলা যায়! কারণ তিনি যখন দেখলেন দর্শক ইয়ামাদুঙ্গায় মিথলজির প্রয়োগকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছে; তখনই হয়তো সামনে এগোলেন মাগাধিরা প্রজেক্ট নিয়ে। কেবল যে অভিজ্ঞতার অভাবে মৌলি পৌরাণিক কাজে দেরিতে হাত দিয়েছেনব্যাপারটা হয়তো পুরোপুরি এমন নয়। এ ধরনের চলচ্চিত্র-নির্মাণের ক্ষেত্রে যে রকম বাজেট প্রয়োজন হয় তা পাচ্ছিলেন না মৌলি। ইয়ামাদুঙ্গার সাফল্যই আকৃষ্ট করেছিলো প্রযোজকদের; যে কারণে তারা কোনো দ্বিধা ছাড়াই মৌলিকে দিতে পেরেছেন ৩৫ কোটি রুপির বিশাল বাজেট! বলিউডের হিসেবে যদিও ৩৫ কোটি রুপি তেমন আহামরি কিছু নয়, কিন্তু কলিউডের তৎকালীন পরিস্থিতিতে মৌলি একে বড়ো বাজেট বললে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ বলিউডি সূর্যকে কেন্দ্র করে যখন সবকিছু ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন এর বাইরে নজর দিয়ে প্রযোজকদের সময় নষ্ট করার মতো সময় কোথায়?

২০০৯-এ মৌলি নির্মিত মাগাধিরা দুম করে ভেঙে দিলো কলিউড বক্স অফিসের সর্বকালের সব রেকর্ড। বাড়ে মৌলির পরিচয়ের পরিধি। মৌলি সবাইকে অনেকটা চোখে আঙুল দিয়েই বুঝিয়ে দেন চিত্রনাট্য থেকে শুরু করে নির্মাণের সবগুলো ক্ষেত্রে সমানভাবে নজর দিতে পারলে, সব ধরনের চলচ্চিত্রই দর্শক দেখে। লগ্নি নিয়ে অতো বেশি ভাবতে হয় না। ব্যাপারটা এমন যে টাকার পিছনে আপনি ছুটবেন না, বরং আপনার দক্ষতার গুণে টাকাই আপনাকে খুঁজে নেবে। ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মাগাধিরার একশো ২৫ কোটি রুপি আয় তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ। যদিও মাগাধিরা পুরোপুরি মিথলজিনির্ভর নয়। ইয়ামাদুঙ্গা মাগাধিরাকে মৌলি নিজে আখ্যা দিয়েছেন সেমি-মিথলজিকাল ফিল্ম বলে।

গ. ছুঁয়ে দিলেই সোনা ফলে

মাগাধিরার পর মৌলি আর বিরতি নেননি। তবে মাগাধিরার মতো অতো বড়ো কাজে হাত না দিয়ে ২০১০-এ তিনি নির্মাণ করলেন মেরিইয়াদা রামান্না। এটি মাগাধিরার মতো ব্যবসা না করলেও ব্লকবাস্টার কিন্তু হয়েছে। মৌলির নিজের কাছে নাকি সবচেয়ে প্রিয় এই মেরিইয়াদা রামান্নাই। এটি বলিউডে পুনঃনির্মাণ হয় সান অব সরদার (২০১২) নামে। মৌলি আবারও বিরতি নেন, ২০১২-তে নির্মাণ করেন ইগা। এটি মৌলির নির্মাতা জীবনের আরেক মাইলফলক। পৌরাণিক থেকে এবার ফিকশন; এ যেনো নতুন রূপে প্রত্যাবর্তন! চমকের পর অন্য চমক! এতোদিন ভারতীয় চলচ্চিত্রে মৃত নায়ক বা নায়িকার আত্মা ভূত বা পুতুল হয়ে ফিরে আসলেও মৌলি তাকে ফিরিয়ে আনলেন মাছি করে। দর্শক তার এই অভিনবত্বকেও সাদরে গ্রহণ করে। দারুণ ব্যবসায়িক সাফল্য পায় ইগা। ২৬ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত ইগা আয় করে একশো ৩০ কোটি রুপি।

আবার সেই ভাতঘুম কিংবা খানিক বিশ্রাম, অথবা মহাকর্মযজ্ঞের প্রস্তুতি। তিন বছর পর ২০১৫-তে এসে মৌলি নির্মাণ করলেন বাহুবালি : দ্য বিগিনিং, জাস্ট কাঁপিয়ে দিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পকে। একশো ৬০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি আয় করে নিলো ছয়শো কোটি রুপি। মিথলজিকাল কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত বাহুবালি : দ্য বিগিনিং পোশাকি-ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্র হলেও, মৌলি এটাকে হিস্টোরিকাল ফিকশন বলে আখ্যা দিয়েছেন। এই ধারাটা একসময় বিশেষ করে ৮০র দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও সদর্পে বিরাজ করেছে, তবে তা এখন অস্তিত্বহীন সুখস্মৃতি কেবল; এ বিষয়ে পরে আসবো। মৌলির বাহুবালি : দ্য বিগিনিং-এও আছে অভিনবত্ব। তিনি পুরো গল্পটাকে দু-খণ্ড করে ফেললেন, ঘোষণা দিলেন একই গল্পের সমাপ্তি তিনি টানবেন দুই খণ্ডে।

এই হলো দক্ষিণের রাজা মৌলি। মজার বিষয় হলো, এই রাজা হওয়ার কোনো ইচ্ছেই নাকি তার ছিলো না। মৌলির ভাষায়, ‘‘নির্মাতা হওয়ার কোনো স্বপ্নই শৈশবে আমার মধ্যে কাজ করেনি; এটা আমার জীবনে একটা মধুর-দুর্ঘটনা মাত্র!

ঘ. চলচ্চিত্র তার রক্তেই আছে

মৌলিকে বোঝার ক্ষেত্রে একটা বিষয় ভুলে গেলে চলবে না, চলচ্চিত্র কিন্তু তার রক্তে আছে। বাবা কে ভি বিজেন্দ্র প্রসাদ বিখ্যাত কাহিনিকার, চিত্রনাট্য রচয়িতা ও নির্মাতা। যিনি বাজরাঙ্গি ভাইজান (২০১৫), বাহুবালি : দ্য বিগিনিংসহ অনেক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচয়িতা। বিশেষ করে মৌলির প্রায় সব চলচ্চিত্রের কাহিনিকার ও চিত্রনাট্য বিজেন্দ্ররই করা। কেবল বাবাই নয়, মৌলির পুরো পরিবার জুড়েই আছে চলচ্চিত্র। তার স্ত্রী রমা কস্টিউম ডিজাইনার, মৌলির প্রায় চলচ্চিত্রের কস্টিউম ডিজাইন রমারই করা। ছেলে কার্তিক তারই অ্যাসিস্ট্যান্ট। চাচাতো ভাই এম এম ক্রিম (M M Kreem) ও কল্যাণ মালিন সুরকার, পাশাপাশি আবহসঙ্গীত রচয়িতা। মৌলির ভাষায়, এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা তার পরিবার; কারণ পরিবারের লোকজনই তার চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড়ো সমালোচক; তারা কোনো দ্বিধা ছাড়াই সমালোচনা করতে পারে।

মাগাধিরার এপিঠ-ওপিঠ

যখন সবাই কলা বিক্রি করছে, আমি তখন বিক্রি করছি কমলা। দর্শক তো ভিন্ন কিছুই খেতে চায়।কথাগুলো রাজামৌলির। হয়তো তাই, না হলে মারদাঙ্গার ব্যাপক কাটতির সময় তিনি কেনো হাঁটছেন অন্য পথে। তবে কি মৌলি আগেই বুঝেছিলেন, কলা খেতে খেতে মানুষ বিরক্ত প্রায়। তাই তাদেরকে ভিন্ন কিছু দিতে হবে; যা কলার চেয়ে আরো সুস্বাদু, দেখতেও আরেকটু বেশি সুন্দর! কলার বাজারে মৌলি কীভাবে কমলা নিয়ে আসলেন তা তার কর্মের দিকে নজর দিলে খালি চোখেও পরিষ্কার ধরা পড়ে। তৃতীয় চলচ্চিত্র সাই-এ মৌলি নিয়ে আসলেন রাগবি খেলাকে; যেটা ছিলো রাগবি খেলা নিয়ে নির্মিত প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র সে কথা আগেই বলেছি। মৌলির কমলা বিক্রির শুরু এখান থেকেই। এরপর চললো আবার গতানুগতিক নির্মাণ! তবে সেখানেও ছিলো উপস্থাপনগত অভিনবত্ব। ষষ্ঠ চলচ্চিত্র ইয়ামাদুঙ্গায় এসে মৌলি প্রচলিত কাহিনির সঙ্গে মিশেল ঘটালেন খানিকটা মিথলজির। যেখানে পাশাপাশি হাত ধরে চললো হাল সমাজের নানা সমস্যা, কমেডি ও মিথলজি। মিথলজির প্রয়োগটুকু এখানে কাজ করেছে কেবল মোটিফ হিসেবে। সপ্তম চলচ্চিত্র মাগাধিরায় মৌলি অর্ধেকটা রাখলেন বর্তমান, অর্ধেকটা মিথলজি। আর এই দুইয়ের সমন্বয় এমনভাবে করলেন যা ঘোর লাগালো দর্শক চোখে। এর পর চমক নিয়ে আসলেন ইগা বাহুবালি : দ্য বিগিনিং-এ। সে চমক নিয়ে পরে কথা হবে।

তবে ইয়ামাদুঙ্গায় মৌলি যে কমলা এনেছিলেন তা তখনো পুরোপুরি পরিপক্ক নয়, রঙ ধরেছে কেবল। আর সেই হালকা রঙ ধরা কমলা যখন দর্শক লুফে নিলো হাভাতের মতো, তখন মৌলি আরো বেশি পাকা কমলা বাজারে আনলেন। নির্মাণ করলেন মাগাধিরা। অদ্ভুতভাবে দর্শক মৌলির এ কমলাও খেলো গোগ্রাসে। আর কমলা বিক্রেতা মৌলিও চিনতে থাকলেন কমলার বাজার, সঙ্গে ভালো কমলা বিক্রেতার সুনাম তো আছেই। কারণ খারাপ কমলা তো আর পাবলিককে বেশিদিন জোর করে খাওয়ানো যায় না।

মজার বিষয় হলো, যে মাগাধিরা দিয়ে মৌলি মাত করলেন, সেই মাগাধিরার কাহিনি লিখেছিলেন তার বাবা বিজেন্দ্রনাথ জাগাদিকা ভিরুডু শিরোনামের একটি চলচ্চিত্রের জন্য। কিন্তু যে নির্মাতার জন্য বিজেন্দ্র এ কাহিনি লিখেছিলেন তার সেটা পছন্দ হয় না। ফলে জাগাদিকা ভিরুডু আলোর মুখ দেখেনি। ওই কাহিনিটা মৌলির মনে ধরে, তিনি এর চলচ্চিত্রিক রূপ দেওয়ার বাসনাকে আঁকড়ে এগোতে থাকেন সামনের দিকে। তবে বিজেন্দ্রর গল্পটা ঠিক হুবহু বলেননি মৌলি। তার বাবা গল্পটি লিখেছিলেন এক দেহরক্ষীকে নিয়ে। যে তার রাজমাতাকে রক্ষার জন্য যুদ্ধ করে শত্রুপক্ষের একশো যোদ্ধার সঙ্গে। কিন্তু সেই দেহরক্ষী শেষ পর্যন্ত রাজমাতাকে তার হৃত সিংহাসন ফিরিয়ে দিতে ব্যর্থ হন। চারশো বছর পর সেই দেহরক্ষী তার অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতেই পুনরায় জন্ম নেন। এবং রাজমাতাকে ফিরিয়ে দেন তার সিংহাসন। মৌলি এখানেও খেল দেখালেন! যুদ্ধ, নায়কের সেই চারশো বছর পর পুনর্জন্ম, সবই ঠিক রাখলেন; তবে রাজমাতার জায়গায় প্রতিস্থাপন করলেন রাজকুমারীকে। ফলে আগের গল্পে যেখানে রাজমাতা ও দেহরক্ষীর সম্পর্ক ছিলো কেবল আনুগত্য ও সম্মানের, সেখানে সেনাপতি ও রাজকুমারীর সম্পর্ক হয়ে দাঁড়ালো প্রেমের। ফলস্বরূপ সেনাপতি কেবল শৌর্যবীর্যের সীমায় আটকে থাকা জড় পদার্থ হয়েই থাকলো না, আত্মপ্রকাশ করলো মহান প্রেমিক রূপেও। যা মাগাধিরাকে করে তুললো আরো প্রাণবন্ত।

মেটামরফোসিস থেকে ইগা : রূপান্তরের ভিন্নরূপ

মৌলি নিজেই দাবি করেছেন ইগা তার জন্য আরেকটা বড়ো চ্যালেঞ্জ। ইগা নিয়ে মৌলির ভাষ্য এমন

একজন বড়ো-স্টার, সাদামাটা গল্প, ছয়টা গান আর চারটা মারপিটএই উপাদানগুলোর সবই আছে আপনার চলচ্চিত্রে। যেটাকে অনেকে চলচ্চিত্রের সাফল্যের প্রধান শর্ত বলেও মনে করে থাকে! কিন্তু আপনি কি নিশ্চয়তা দিতে পারবেন, আপনার চলচ্চিত্র হিট করবেই? না, পারবেন না! তাই আমি ঝুঁকিটা নিয়েছি, আমার মতো করে বলেছি আমার পছন্দের গল্পটা। দর্শক চলচ্চিত্রটা দেখেছে, ফলস্বরূপ ইগা জায়গাও করে নিয়েছে একশো কোটির ক্লাবে।

নির্মাণ কাজে হাত দেওয়ার আগে নাকি মৌলির মাথাতেই ছিলো না যে তিনি ইগা-ই নির্মাণ করবেন! মেরিইয়াদা রামান্নার পর তিনি একটা চলচ্চিত্র-নির্মাণের কথা ভাবছিলেন, যার কাজ চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কারণ বাহুবালির মতো বড়ো কাজে হাত দেওয়ার আগে মৌলি মূলত একটু অবকাশ চাচ্ছিলেন। ব্যাপারটা এ রকম ছিলোতিনি তখন প্রেম ও কমেডি নিয়ে গতানুগতিক চলচ্চিত্র-নির্মাণেও আগ্রহী ছিলেন না, আর ভৌতিক চলচ্চিত্র তো তার একেবারেই অপছন্দ। তাই ভিন্ন কিছু ভাবলেন তিনি। আর সেই ভিন্ন ভাবনা থেকেই চোখ দিলেন ইগার গল্পে, যে গল্পটা অনেক বছর আগে তাকে বলেছিলেন বাবা বিজেন্দ্র। তিনি কিছুটা সময় নিয়ে ডেভেলপ করলেন গল্পটার। নির্মাণ করলেন ইগা

প্রত্যক্ষভাবে না হলেও ইগার কাহিনির সঙ্গে অপ্রত্যক্ষ মিল আছে ফ্রান্জ কাফকামেটামরফোসিস গল্পের। মেটামরফোসিস-এ গল্পের প্রধান চরিত্র গ্রেগরের রূপান্তর ঘটে জীবন্ত অবস্থায়। হতাশাগ্রস্ত গ্রেগর এক রাতে দুঃস্বপ্ন দেখার পর সকালে উঠে দেখেন, তিনি এক বিশাল আরশোলায় পরিণত হয়েছেন। প্রথমে তিনি একে দুঃস্বপ্ন ভাবলেও পরে দেখেন এটাই বাস্তব। তবে ইগায় সেটা এসেছে একটু অন্য রকম করে। এখানে নায়কের আত্মার রূপান্তর ঘটে মৃত্যুর পর। মৃত নায়কের আত্মা মাছি হয়ে ফিরে এসে তার হত্যাকারীর ওপর প্রতিশোধ নেয়। আপাতদৃষ্টিতে মেটামরফোসিসইগাকে আলাদা মনে হলেও দুটোর মূল বিষয় কিন্তু একই, রূপান্তর। কাফকা যে রূপান্তর ঘটিয়েছেন জীবিত অবস্থায়, মৌলি সেটা ঘটালেন মৃত্যুর পর। কাফকা জীবনকে অন্য এক জীবনী মোড়কে ঢেকে রূপান্তর ঘটালেও মৌলির রূপান্তরটা ভাববাদী ঘরানার। কাফকা আর মৌলির সবচেয়ে বড়ো পার্থক্য হলো—‘মেটামরফোসিস-এর গ্রেগর আরশোলায় রূপান্তরিত হওয়ার পর সবাই তার থেকে দূরে সরে যায়। অথচ একসময় এই গ্রেগরের টাকায়ই চলতো পুরো সংসার। এভাবে অনাদর অবহেলার দরুন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত গ্রেগর একসময় মারা যান। আর মৌলির নায়ক মাছি হয়ে ফিরে আসার পর প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। তার প্রেমিকার কাছ থেকে পায় অগাধ ভালোবাসা, প্রেমিকার সহায়তায়ই সে তার হত্যাকারীকে খুন করে। 

এতো কিছুর পরও সন্তুষ্ট নন মৌলি। ভাবনার সবটুকু সেলুলয়েডে দিতে না পেরে তিনি অপরাধবোধে ভোগেন। তাই অনেকটা আক্ষেপ নিয়েই তাকে বলতে শোনা যায়,

কেউ-ই ততোটুকু দিতে পারে না, ঠিক যতোটুকু সে মাথায় ধারণ করে। সে হোক শিল্প কিংবা কলমের আঁচড়ে কাগজের বক্ষপটে। কারণ মাথা বা মনের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, নেই কোনো সঙ্কীর্ণতা। মনকে ফ্রেম দিয়ে পরিমাপ করা যায় না, মন অসীম। ভাবনায় যা থাকে, যা মানুষ চায়; তা লিখিত রূপে কাগজে রাখা হোক বা সেলুলয়েডেই ধারণ করা হোক, সীমাবদ্ধতা এসে ভিড় করবেই। সুতরাং মনে কী আছে সেটা দিয়ে কখনোই নিজ সৃষ্ট কর্মকে বিচার করা যায় না। পরিপূর্ণভাবে অর্জন করা যায় না কিছুই। যখন আমি মনের ভিতরে যা প্রোথিত আছে তার শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি, তখন হয়তো তার ৯৫ ভাগ দিতে পারি, এই আর কি! এজন্য আমার মধ্যে একধরনের অপরাধবোধ প্রকট আকারে কাজ করে।

মৌলির আত্মমূল্যায়ন থেকে আত্মানুসন্ধান

মৌলি সবসময়ই নিজেকে নিজ কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে ভালোবাসেন। তিনি যা দিতে চান তার সবটুকু দিতে না পেরে একধরনের অতৃপ্তিতে ভোগেন সেটা আগে বলেছি। এই অতৃপ্তিই কি তবে মৌলির এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হিসেবে কাজ করে? হয়তো তাই, এই অতৃপ্তির আত্মদহন থেকে মুক্তি পেতেই মৌলি নির্মাণ করে যান একের পর এক চলচ্চিত্র। ইগায় সবটুকু দিতে না পারা মৌলি, হয়তো সেজন্যই সবটুকু দেওয়ার প্রচেষ্টা চালান বাহুবালি : দ্য বিগিনিং-এ।

যদিও এই অতৃপ্ত মৌলির সব চলচ্চিত্রই টাকার বিচারে ব্যবসাসফল; কিন্তু এই আর্থিক সফলতায় তিনি তৃপ্ত নন! চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক দিকটা মাথায় রাখতে হবে, এটা তিনি মানেন; মেনে চলেন বাজারি সূত্রও। তাই বলে তিনি বাজারের দাস হতে চান না। তার কাছে বাজার চলচ্চিত্রের অংশ হলেও চলচ্চিত্র বাজারের চেয়ে ঢের কিছু! তিনি চলচ্চিত্রকে সবটুকু উজাড় করে দিতে চান, সদা ডুবে থাকেন সৃষ্টির ঘোরে। যে কারণে তিনি নির্মাতা-স্রষ্টা মৌলিকে গুলিয়ে ফেলেন না ব্যবসাসফল মৌলির সঙ্গে। নিজেকে পণ্যের উৎপাদক ভাবেন না মৌলি; স্রষ্টা হিসেবে পরিচয় করাতেই ভালোবাসেন। কারণ উৎপাদক কেবল অর্থই চেনে, আর্থিক মানদণ্ডেই সে সবকিছুর বিচার করে। উৎপন্ন পণ্যের প্রতি তার আত্মার কোনো টান থাকে না!

মৌলি যে নিজেকে স্রষ্টা ভাবেন, ব্যবসার বাইরে দাঁড়িয়ে বিচার করেন চলচ্চিত্রকে; তার প্রমাণ মেলে মৌলি যখন বাহুবালি ভারতীয় চলচ্চিত্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে কি না এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন

হয়তো এগিয়ে নিতে খানিকটা সাহায্য করবে, পাশাপাশি কিছুটা ক্ষতিও করবে। যদি তারা (নির্মাতারা) বাহুবালিকে শুধু চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচনা করে অনুপ্রেরণা নেয় এবং উপলব্ধি করতে পারে যে তারাও এ রকম বড়ো মানের ভালো গল্প ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট সমৃদ্ধ চলচ্চিত্র বা ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে সক্ষমসেটা অবশ্যই ইতিবাচক। আর যদি তারা কেবল বক্স অফিসের দিকে তাকিয়ে নিছক টাকার জন্যই এ ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চায়, তবে সেটা হবে সত্যিই দুঃখজনক।

তার মানে মৌলি চলচ্চিত্রে একটা গল্প বলতে চান, যে গল্পটা হবে যথার্থ। আর চলচ্চিত্রে যা যা ঘটবে তার সবকিছুই হবে এই গল্পের প্রয়োজনে। পর্দায় সবকিছু মিলিয়ে ঠিক গল্পটা ঠিকঠাক মতো বলতে পারলে দর্শক যে প্রেক্ষাগৃহে যায় এটা মৌলি জানেন। মনে হতে পারে মৌলির এই কৌশল এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতোই। কিন্তু এক ঢিলে দুই পাখি না মেরে মৌলির মতো সৃষ্টির ঘোরে বিভোর মানুষদের আর কী-ইবা করার থাকে! তবে মৌলি কেবল ভালো গল্প বলেই বসে থাকেন না, তিনি সমান গুরুত্ব দেন উপস্থাপনেও। কারণ উপস্থাপনগত ত্রুটির কারণে ভালো গল্পও নিক্ষিপ্ত হয় আস্তাকুঁড়ে। আবার ভালো উপস্থাপনই সাধারণ গল্পকে করে তোলে অসাধারণ। তাই চলচ্চিত্র নির্মাণকালে মৌলির চোখ থাকে গল্প, উপস্থাপন শৈলীসহ নির্মাণের নানাদিকেবক্স অফিস সে চোখে খুব বড়ো হয়ে ওঠে না।

আবার একটা চলচ্চিত্র হিট করার পর সমসাময়িক নির্মাতারা সেদিকেই ঝোঁকে। ইন্ডাস্ট্রিতে ওই ধরনের চলচ্চিত্র-নির্মাণের প্রবণতা চিরন্তন। চলে নিজেদের প্রয়োজন মতো সংস্কৃতি ইন্ডাস্ট্রির মানপ্রমিতকরণ ও ছদ্মপ্রাতিস্বিকীকরণ। মানপ্রমিতকরণে জনপ্রিয় কোনো কিছুকে নকল করে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়। সংস্কৃতিভেদে এর উপস্থাপন ফর্ম একটু আলাদা হলেও আদতে এর মূল বিষয় থাকে একই। আর এখানে সব সংস্কৃতিকে একীভূত করে ফেলার প্রবণতাও লক্ষণীয়। ছদ্মপ্রাতিস্বিকীকরণে একই সাংস্কৃতিক বিষয়কে সমাজের উঁচু-নিচু মানুষের জন্য সামান্য হেরফের করে বাজারে আনা হয়। ফলে নতুন কিছু তৈরি হয় না বরং একপর্যায়ে তা মুখ থুবড়ে পড়ে। চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটা যেমন ক্ষতিকর, তেমন ক্ষতির কারণ হয় চলচ্চিত্রের জন্যও। এক্ষেত্রে মৌলির বিশ্লেষণও খুবই পরিষ্কার

প্রত্যেক হিট চলচ্চিত্রই পরবর্তী সময়ে নির্মানাধীন চলচ্চিত্রের ওপর প্রভাব ফেলে এটাই স্বাভাবিক। আর যখন কোনো চলচ্চিত্র বাহুবালির মতো বাইরে (বলিউডের) থেকে একাই হেঁটে এসে অকস্মাৎ এমন হিট করবে; প্রকৃতিগতভাবেই মানুষ এর দিকে ঝুঁকবেই; এবং চেষ্টাও করবে এ ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণে। যদি তারা এটাকে আদর্শগত জায়গা থেকে বিচার করে, তবে হয়তো এটা তাদের সাহায্য করবে। আর যদি বক্স অফিস কালেকশন দিয়ে বিচার করে, তবে এটা কোনো কাজেই দেবে না।

মৌলির চলচ্চিত্রের জাত বিচার

আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি না। কারণ সবকিছু ব্যক্তির করতে পারা, না পারার ওপর নির্ভর করে। যদি কোনো কিছুতে ত্রুটি দেখা যায়, নির্মাতা হিসেবে সে দায় আমার ওপরেই বর্তায়। আমি এটা কোনোভাবেই বলতে পারি না, এ দায় সঙ্গীত পরিচালকের বা এ দায় অমুকের। কারণ নির্মাতা হিসেবে আমার চলচ্চিত্রের সব ত্রুটির দায় আমারই।

কোনো দ্বিধা ছাড়াই মৌলি নির্মাতা হিসেবে তার দায়টুকু স্বীকার করেন এভাবে। ডিরেক্টরস মিডিয়াম চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে মৌলি সেটা মানেন বলেই হয়তো এ সৎ সাহস দেখান। আর দায় নিতে পারার এই ক্ষমতাই মৌলিকে দিনে দিনে করে তুলেছে অনন্য, অপ্রতিরোধ্য। তিনি নিজের জায়গায় বসেই ছাড়িয়ে গেছেন নিজেকে। এই সাহসী মৌলিকে এক দিক থেকে অঁতর নির্মাতা বললেও ভুল হবে না। কারণ তার প্রায় চলচ্চিত্রই ঠায় দাঁড়িয়ে আছে আপন স্বকীয়তা নিয়ে। তার চলচ্চিত্রের কাহিনি থেকে নির্মাণের সব ক্ষেত্রে আছে অভিনবত্ব; প্রতিটা ফ্রেমজুড়েই সৃজনশীলতার ছাপ। তার নির্মাণ স্বকীয়তার প্রমাণ মেলে ইগায়, মৃত নায়কের মাছি হয়ে ফিরে আসার অভিনবত্বে কিংবা বাহুবালির দুই খণ্ডে নির্মাণ ভাবনায়। যদিও অঁতর তত্ত্বানুযায়ী মৌলি পুরোপুরি অঁতর হয়ে উঠতে পারেননি এখনো। তবে তার নির্মাণ অভিনবত্ব, গল্প ভাবনা কিংবা উপস্থাপনগত জায়গার বিচারে তাকে অঁতর বললে খুব অত্যুক্তিও হবে না।

চলচ্চিত্রের গল্পটা নিজের মতো করে বলতে গেলে নির্মাতাকে জানতে হয় অনেক কিছু; তৃষ্ণা থাকতে হয় নতুন কিছু আহরণের। আর গল্পই যেহেতু চলচ্চিত্রের প্রাণ, তাই নির্মাতাকে ডুব দিতে হয় নানা গল্পের ভুবনে, ঠিক সমুদ্র থেকে সহস্র ঝিনুক ঘেঁটে মুক্তো তুলে আনা একনিষ্ঠ ডুবুরির মতো। তারপর সেই গল্প ঘেঁটে বের করতে হয় নিজের প্রয়োজনীয় গল্পটাকে। কারণ সব ঝিনুকে তো আর মুক্তো থাকে না! মাঝে মাঝে অকস্মাৎই কাক্সিক্ষত গল্পের দেখা মেলে। তৈরি হয় আরেকটা ভালো চলচ্চিত্রের সম্ভাবনা, স্রষ্টার হাতে বিকশিত হতে শুরু করে আরেকটা ভ্রুণ। আবার কখনো কখনো অনেক গল্পের নির্যাস মিলে নিজের মধ্যে অচেতনেই তৈরি হয় আরেকটা গল্পের। উত্তর কাঠামোবাদও এমনটাই বলে, এখানে নতুন বলে কিছু নেই। পুরনো গল্পটাকে নতুন পন্থায় নিজের মতো করে সামনে এগিয়ে নেওয়া মাত্র। কাহিনির এই মেলবন্ধন অবশ্য মৌলির চোখ এড়ায়নি। এ বিষয়ে তার ভাষ্য, বাইবেলে মোজেসকে তার মা যেমন বাক্সে বন্দি করে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিলো, ঠিক তেমন কাহিনি মহাভারতেও আছে। মহাভারতের প্রধান চরিত্র কর্ণকেও তার মা বাক্সে পুরে নদীতে ভাসিয়ে দেয়। সেদিক থেকে দেখলে পৃথিবীর সব কাহিনিই ঘুরপাক খায় একই বৃত্তে।১০

নির্মাণ বিষয়ে দক্ষ হতে হলে চলচ্চিত্রকে নিতে হয় ধ্যানজ্ঞান হিসেবে; দেখতে হয় উৎকৃষ্ট নির্মাণশৈলীর দেশি ও বিদেশি সব চলচ্চিত্র। এতো সব আয়োজন নির্মাতাকে ভাবতে শেখায়। এ নিয়ে মৌলি বলেন, অধিকাংশ সময়ই নির্মাতা জানেনই না, কোথা থেকে তিনি পরবর্তী নির্মাণ অনুপ্রেরণা পাবেন। শত শত গল্প পাঠের পর এই ব্যাপারটা অকস্মাৎ-ই ঘটে, ততোদিনে তিনি হয়তো ভুলেই যান এর মূল উৎস কী ছিলো।১১ গল্প বাছাইয়ে মৌলির অবশ্য একটা নিজস্ব সূত্র আছে। যে সূত্র তিনি নিজের সব চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করেন। এই সূত্রই হয়তো তার সফলতারও মূলমন্ত্র। বিষয়টা মৌলির ভাষ্যে—‘আমার সূত্রমতে আমি জানি, চলচ্চিত্রের যদি একটা সর্বজনীন থিম ও যথার্থ গল্প থাকে এবং সে গল্পটা ভালোভাবে বলা যায়; তবে এটা সব জায়গায়ই গ্রহণযোগ্যতা পায়।১২ তার এই সূত্র যে একেবারেই ভুল নয়, তার প্রমাণ বাহুবালি : দ্য বিগিনিং দিয়েছে।

পোশাকি-ফ্যান্টাসি : দেশীয় চলচ্চিত্রের স্মৃতি রোমন্থন

রাজামৌলিকে নিয়ে লিখতে গিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের যেকোনো দর্শকের স্মৃতিকাতর হওয়া ছাড়া উপায় নেই। কারণ মৌলি যেসব চলচ্চিত্রের জন্য আজ আলোচিত, ৮০ ও ৯০ দশক জুড়ে সেই ঘরানার চলচ্চিত্র দখল করে রেখেছিলো ঢালিউড। সেসময় পাগলা ঘোড়ার মতো দাপিয়ে বেড়িয়েছে লোককাহিনিনির্ভর ও পোশাকি-ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্র। পোশাকির রাজা যেমন চরম শৌর্যবীর্য নিয়ে পর্দায় মাত করে, তেমনই লোককাহিনিনির্ভর ও পোশাকি চলচ্চিত্র মাত করেছে গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে। সময়ের আবর্তনে সে ধারা আজ কেবলই স্মৃতি। উর্দু চলচ্চিত্রের কবলে পড়ে দেশীয় চলচ্চিত্রের প্রদীপ যখন নিভুনিভু, ব্যবসার জন্য অধিকাংশ নির্মাতাই তখন উর্দুর দিকে ঝোঁকেন।

জহির রায়হানের মতো নির্মাতাও এই ঝোঁকে টালমাটাল হয়েছেন। তখন বাংলা চলচ্চিত্রের মোড় ঘুরিয়ে দেয় লোককাহিনিনির্ভর প্রথম দেশীয় চলচ্চিত্র রূপবান (১৯৬৫)। সেই রূপবান দেখতে প্রেক্ষাগৃহে উপচে পড়ে দর্শক, উর্দু চলচ্চিত্রের চরম কাটতির যুগে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে ব্যাপক ব্যবসা করে। চলচ্চিত্রকে নিয়ে দেশের মানুষের সামাজিক-ধর্মীয় আচারে অনেকখানি আঘাত হানে রূপবানরূপবান-এর টানে নারীরাও প্রেক্ষাগৃহমুখী হতে থাকে। যাত্রাপালা দেখে অভ্যস্ত দর্শকরাও ভিড় করতে থাকে প্রেক্ষাগৃহে।১৩ ফলে ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে লোককাহিনিনির্ভর চলচ্চিত্র-নির্মাণের হিড়িক পড়ে। আগের বছরের তুলনায় চলচ্চিত্র-নির্মাণ সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

রূপবান সেসময় এমন নতুন কিছু নিয়ে এসেছিলো, যা দর্শককে চৌম্বকীয় শক্তির মতো টেনেছে প্রেক্ষাগৃহে। উর্দু চলচ্চিত্র দেখতে দেখতে হাঁপিয়ে ওঠা দর্শকের অন্য ভাষার কথা শুনে নিশ্চয় মন ভরছিলো না। দর্শক হয়তো চলচ্চিত্রের মধ্যে নিজেকে খুঁজে পেতে চাইতো। তাই পরদেশি কৃষ্টির মধ্যে রূপবান স্বদেশি স্বকীয়তা নিয়ে হাজির হয়। কিন্তু স্বকীয়তা বেশিদিন ধরে রাখা যায়নি। অল্প দিনের মধ্যে ফর্মুলা ধরে লোককাহিনিনির্ভর চলচ্চিত্র হতে থাকে। মুক্তিযুদ্ধ ও ৭৫-এ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে ৭০-এর দশকে এই ফর্মুলা অতোখানি জেঁকে বসতে না পারলেও ৮০র দশকে তা প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায়। ফলে এই দশকজুড়ে রাজত্ব করে একই ফর্মুলার লোককাহিনি ও পোশাকি-ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্র। মৌলি যেটাকে ব্যাখ্যা করেন এভাবেবক্স অফিসের দিকে তাকিয়ে চর্বিতচর্বণ করতে থাকলে তা সবসময় ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যার ভার বয়ে বেড়াতে হয় পরবর্তী প্রজন্মকে। সাময়িক সুখই স্থায়ী অসুখের কারণে রূপ নেয়। ঢাকাই চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছিলো। নির্মাতারা সাময়িক সুখের কথা ভেবেছিলেন। এই সাময়িক সুখ নির্মাতারা পরবর্তী সময়েও খুঁজেছে ২০০১-২০০৫ খ্রিস্টাব্দে। তারা চলচ্চিত্র দর্শককে খাওয়ানোর জন্য নিয়ে এসেছিলো কাটপিস ফর্মুলা। এ ফর্মুলায় কয়েকটি চলচ্চিত্র ব্যবসা করলেও কিছুদিনের মধ্যে এ ধারা চুপসে যায় বাতাস-লাগা হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো।

ইবনে মিজান (নিশান, ১৯৭৭) ও এফ কবীর চৌধুরীর (বুলবুল-এ-বাগদাদ, ১৯৭৯) হাত ধরে লোককাহিনি থেকে খানিকটা বেরিয়ে এসে পোশাকি-ফ্যান্টাসির পথচলা শুরু। বিশেষত উদ্ভট-অচেনা কাহিনি আর অশালীন নাচ-গানের কারণে এ চলচ্চিত্রগুলো বেশ ব্যবসাসফল হয়।১৪ তবে সেটাও স্থায়ী হয় না বাংলা চলচ্চিত্রের প্রচলিত প্রবণতার কারণে। ফ্যান্টাসি উদ্ভট হবে, এটাই স্বাভাবিক! কিন্তু সেই উদ্ভট কাহিনিকে পর্দায় বাস্তব করে তোলাই তো নির্মাতার কাজ। যা দর্শককে ঘোরে ফেলবে, বিভ্রমাচ্ছন্ন করে আটকে রাখবে পর্দার বাস্তবতায়। এই কাজটি করতে নির্মাতাকে দেখাতে হয় উপস্থাপনগত মুন্সিয়ানা। না হলে দর্শক দেখবে কেনো সেই উদ্ভট গল্প? সে কাজটি করতে বাংলাদেশের নির্মাতারা যে সেসময় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিলো, সেটা তেমন কিছু না ভেবেই বলা যায়। তারা এসব নিয়ে না ভেবে, একই নৌকায় ভিড় জমিয়েছিলেন একই রকমের মালসামানা নিয়ে। ফলে নৌকা ভার বইতে না পেরে বিনা ঝড়েই ডুবে গেছে যাত্রার সূচনা লগ্নেই। তারা যদি ভিন্ন ভিন্ন গল্পের ঝুড়ি নিয়ে আলাদা আলাদা নৌকায় যাত্রা করতেন তবে পোশাকির ভবিষ্যত হয়তো এমন হতো না। অকাল মৃত্যুর মুখে পতিত হতো না অপার সম্ভাবনা। যার প্রমিত প্রমাণ হয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন রাজামৌলি। তিনি ২০১৫-তে এসে পোশাকি-ফ্যান্টাসি বাহুবালি : দ্য বিগিনিং নির্মাণে ঠিকই মাত করেছেন।

বেশকিছু দিন পর ২০১৫-তে ঢাকাই ইন্ডাস্ট্রিতে নির্মাণ হয় লোককাহিনিনির্ভর মহুয়া সুন্দরী। নির্মাতা এর কাহিনি নিয়েছেন জনপ্রিয় যাত্রাপালা মহুয়া সুন্দরী থেকে। তিনি চাইলে মূল কাহিনি হুবহু তুলে ধরতে পারতেন কিংবা পারতেন বিনির্মাণ করতে; ছায়া অবলম্বন করলেও হয়তো দোষের কিছু ছিলো না। তিনি তা করেননি! অর্ধেক রেখেছেন হুবহু মূলগল্পের মতো; বাকি অর্ধেক নিজের মতো। অর্থাৎ মিশেল ঘটিয়েছেন অতীত ও বর্তমানের। তাতেও ক্ষতি ছিলো না, যদি তিনি যথার্থ গল্পটা যথাযথভাবে বলতে পারতেন। কারণ মৌলি তো এমনটা করেছেন তার মাগাধিরায়। মৌলি দুই সময়কে একই সুতোয় বাঁধতে পেরেছেন নিপুণতায়, কিন্তু মহুয়া সুন্দরীর নির্মাতা পারেননি। ফলে মৌলির মাগাধিরা কিংবা মহুয়া সুন্দরীর সমসাময়িক বাহুবালি ব্যবসা করলেও মহুয়া সুন্দরী মূলধনই তুলে আনতে পারেনি। এই ধরনের ফর্মুলার স্রোতে ভাসতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলার প্রবণতা ঢাকাই চলচ্চিত্রের জন্য যেনো চিরন্তন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই প্রবণতাই গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে গ্রাস করেছে রাহুর মতো। এর শেষ কোথায়, কবে ফিরবে সুদিনসে প্রশ্ন সময়ের কাছেই রইলো।

ইহাকে শেষ না বলাই ভালো

চাইলেও কেনো জানি কিছু গল্পের ইতি টানা যায় না, নিজের মতো করে সে এগিয়ে যায় সামনের দিকে; গল্পকার হারিয়ে ফেলে সমাপ্তিকরণের অধিকার। মৌলির গল্পটাও এমন; চলছে, হয়তো অনেক দিন চলবে। চলচ্চিত্র-চাষী মৌলি নিজভূমি আবাদ করে ঘরে তুলবেন নব নব ফসল। যে ফসলের টানে প্রেক্ষাগৃহে আসবে দর্শক। দর্শকের দেওয়া রাজমুকুট পরে ঘুরে বেড়াবেন মৌলি। আবার বিপরীত ঘটনাও ঘটতে পারে! নতুন কিছু না দিতে পারলে তিনিও হারিয়ে যেতে পারেন বাংলাদেশের ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্রের মতো। সে যাই হোক, সময় সাপেক্ষ প্রশ্ন সময়ের হাতেই থাক।

তবে মৌলির কাছে অনেক কিছু শেখার আছে, চলচ্চিত্র নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য। যে পোশাকি-ফ্যান্টাসি দিয়ে মৌলি কাঁপাচ্ছেন, সেই ফ্যান্টাসিতেই ফিরতে পারে সুদিন। ইতিহাসের তো পুনরাবৃত্তি ঘটে। হতে পারে এই পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন দেখাও একধরনের ফ্যান্টাসি। তবুও স্বপ্ন তো দেখাই যায়, মৌলি পারলে এদেশীয় নির্মাতারাও একদিন পারবেন। অসহায় চোখের তো স্বপ্নই শেষ আশ্রয়, বিপন্নকে তো স্বপ্নই বাঁচায়।

 

লেখক : নাজমুল রানা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী।

[email protected]   

তথ্যসূত্র

১. ফুল ফুটতেও মানা; কালের কণ্ঠ, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬।

২. http://ssrajamouli.in/filmography; retrieved on 02.04.2016

৩. http:/ww/w.thehindu.com/todays-paper/tp-features/tp-metroplus/everyone-sells-bananas-i-sell-oranges/article7292456.ece; retrieved on 02.04.2016

৪. http:/ww/w.thehindu.com/todays-paper/tp-features/tp-metroplus/everyone-sells-bananas-i-sell-oranges/article7292456.ece; retrieved on 02.04.2016

৫. http:/ww/w.forbes.com/sites/robcain/2015/08/29/an-interview-with-baahubali-director-ss-rajamouli-the-conclusion/#13c8e778706f; retrieved on 02.04.2016

৬. http:/ww/w.forbes.com/sites/robcain/2015/08/29/an-interview-with-baahubali-director-ss-rajamouli-the-conclusion/#13c8e778706f; retrieved on 02.04.2016

৭. Mv‡qb, Kv‡eix; Ôd«v¼dzU ¯‹y‡ji Ôms¯‹„wZ BÊvw÷ªÕ aviYv : GKwU ZË¡xq ch©v‡jvPbvÕ; Administration, communication and society; Editor: Salim Reya Newton; Center for Social Science Research, Rajshahi University, vol.1 no.1, January-June, 1992, p. 81

৮. http:/ww/w.forbes.com/sites/robcain/2015/08/29/an-interview-with-baahubali-director-ss-rajamouli-the-conclusion/#13c8e778706f; retrieved on 02.04.2016

৯. http:/ww/w.forbes.com/sites/robcain/2015/08/29/an-interview-with-baahubali-director-ss-rajamouli-the-conclusion/#13c8e778706f; retrieved on 02.04.2016

১০. http:/ww/w.forbes.com/sites/robcain/2015/08/27/an-interview-with-baahubali-director-ss-rajamouli-the-beginning/#2f7b679f73ca; retrieved on 02.04.2016

১১. http:/ww/w.forbes.com/sites/robcain/2015/08/27/an-interview-with-baahubali-director-ss-rajamouli-the-beginning/#2f7b679f73ca; retrieved on 02.04.2016

১২. http://timesofindia.indiatimes.com/home/sunday-times/We-havent-explored-Hindi-market-enough-Bahubali-director-SS-Rajamouli/articleshow/48128185.cms; retrieved on 02.04.2016

১৩. নাসরীন, গীতি আরা ও ফাহমিদুল হক (২০০৮ : ৪৬); বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প : সংকটে জন সংস্কৃতি; শ্রাবণী প্রকাশন, ঢাকা।

১৪. প্রাগুক্ত; নাসরীন ও ফাহমিদুল হক (২০০৮ : ৫৯)।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন