Magic Lanthon

               

মাহ্ফুজা মৌ  

প্রকাশিত ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

বলিউডের পালে দক্ষিণা হাওয়া

ভাষিক দূরত্বে বাড়ছে রিমেকের কদর

মাহ্ফুজা মৌ  


২০০৮ সালের কথা, চারিদিকে একটা চলচ্চিত্রের নাম খুব শুনছিলাম-গজনি (Ghajini)।শুনতে শুনতে খুব ইচ্ছা হলো, কী আছে চলচ্চিত্রটায় দেখিতো একবার; পেয়ে গেলাম এক বন্ধুর কাছে।ভালোই লাগলো সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্রটি। কিন্তু, নায়ক আমির খান ছাড়া অন্য দুটি প্রধান চরিত্র, নায়িকা আর খলনায়ক-যার নামেই চলচ্চিত্রের নামকরণ গজনি, তাদেরকে চিনতে পারলাম না।বন্ধুদের কাছে জানতে চাইলাম এরা কারা? তারাও বললো চেনে না।কী আর করা, গুগলই (google.com) ভরসা, সার্চ দিলাম অসিন ও প্রদীপ রাওয়াত নাম দিয়ে।প্রায় পুরো বায়োডাটা চলে আসলো, জানতে পারলাম দুজনই দক্ষিণের অভিনেতা-অভিনেত্রী।আর মজার ব্যাপার হলো এই গজনি চলচ্চিত্রটাও আসলে তামিল চলচ্চিত্র গজনির রিমেক, পরিচালক এ আর মুরুগাদস নিজেই হিন্দিতে রিমেক করেছেন।

হলিউডের পরিচালক ক্রিস্টফার নোলেন ছোটো ভাই জোনাথন নোলান-এর গল্প মেমেন্টো মরি অবলম্বনে ২০০০ সালে নির্মাণ করেন নিও-নয়র সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার মেমেন্টো (Memento)।পরে,২০০৫ সালে মুরুগাদস মেমেন্টা থেকে নির্মাণ করেন তামিল গজনি;যা সে বছরই তেলেগুতে ডাবিং করা হয়।এরই ধারাবাহিকতায় গান আর সামান্য কিছু এদিক-ওদিক করে গজনি রিমেক হয় বলিউডে ২০০৮ সালে। তবে মজার ব্যাপার হলো,গজনির তামিল,তেলেগু এবং সর্বশেষ বলিউডি সংস্করণের প্রতিটাই দর্শক লুফে নেয়;হয়  ব্লকবাস্টার। এমনকি,বিভিন্ন চলচ্চিত্র অ্যাওয়ার্ডে ভরে ওঠে গজনি (২০০৫)ও গজনি (২০০৮)এর ঝুলি।

গজনির ইতিহাস উদ্ঘাটনের আগ পর্যন্ত আমি ভারতের চলচ্চিত্রে কলকাতা মানে টালিগঞ্জ আর বলিউডের বাইরে তামিল বলে একটি ইন্ডাস্ট্রির কথা জানতাম,কিন্তু এর ব্যাপকতা সম্পর্কে জানতাম না।অবশ্য স্যাটেলাইট চ্যানেল পাল্টানোর ফাঁকে সুন্দর দেহবল্লরী নায়িকা ও পৌরুষদীপ্ত-গোঁফওয়ালা-শক্তিশালী নায়কওয়ালা বেশকিছু ভালো গল্পের চলচ্চিত্র দেখা হয়েছিলো আগেই। কিন্তু তখনো জানা ছিলো না,এগুলো দক্ষিণের চলচ্চিত্র,যা হিন্দিতে ডাবিং করে দেখানো হয়। আসলে দক্ষিণের চলচ্চিত্র কী, কেমন-সেটাই তখন পর্যন্ত অনেকখানি অপরিচিত ছিলো।এখনো অনেকের কাছে দক্ষিণের চলচ্চিত্র মানেই তামিল কিংবা মহাতারকা রজনীকান্ত।

বলিউডের ঝকমকে আকাশে গজনির সাড়া দেখে বেশ আগ্রহবোধ করলাম দক্ষিণের চলচ্চিত্রের প্রতি,শুরু হলো দেখা। দেখতে দেখতে একটা চলচ্চিত্রের গল্প খুব পরিচিত লাগলো,আরে এতো তেরে নাম,আবারো উইকিপিডিয়ায় খোঁজ। মনে হলো,এটা দক্ষিণারাই বলিউড থেকে নকল করেছে। কিন্তু না,ঘটনা এখানেও সেই রাম-লক্ষণ। ১৯৯৯ সালে শ্রেষ্ঠ কাহিনীচিত্র হিসেবে পুরস্কৃত তামিল চলচ্চিত্র সেতুর বলিউডি সংস্করণই তেরে নাম (২০০৩)। ১৯৮৬ সালে ভারত থেকে অস্কারে যাওয়া তামিল স্বোয়াতি মুতিয়াম-এর অনুকরণে বলিউড তৈরি করে ঈশ্বর। তবে রিমেকের এই শুরুটা ঠিক কখন-আমি জানতে না পারলেও, বর্তমান অবস্থা আমরা অনেকেই জানি।বলিউডের সবচেয়ে ব্যবসা-সফল চলচ্চিত্রগুলোর অধিকাংশই এখন দক্ষিণা চলচ্চিত্রের রিমেক।

যদিও বলিউডে দক্ষিণের চলচ্চিত্র আর নায়িকাদের আনাগোনা অনেক আগে থেকেই, তবে বিগত কয়েক বছরে বলিউডকে কিছুটা বেশিই দক্ষিণ নির্ভর হতে দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণের চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে নায়িকা, কোরিওগ্রাফার, এমনকি তারকা রজনীকান্ত, ঐশ্বরিয়া, গায়ক এ আর রহমানকেও এনে বলিউডের ট্যাটু লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।আর সেটা করা হচ্ছে রাখ-ঢাক ছাড়াই।কিন্তু কেনো দক্ষিণের জানালা খুলে দেওয়ার এই ভাব বলিউডের, গরমটা (হিট)কি সত্যি অনেক বেশি? বিশ্বের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম একটি হলো বলিউড, ভারতে বৃহত্তম। এমন একটি ইন্ডাস্ট্রি হয়েও কেনো তারা দক্ষিণা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দিকে ঝুঁকে পড়ছে? প্রশ্ন ও উত্তরের দ্বন্দ্বে যাওয়ার আগে, চলুন একবার ঘুরে আসি দক্ষিণের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একেবারে গোড়া থেকে।

কথায় কথায় দক্ষিণা চলচ্চিত্রের ইতিকথা

আগেই বলেছি, দক্ষিণের চলচ্চিত্র বলতে অনেকেই শুধু তামিল চলচ্চিত্রকেই চেনে।অথচ দক্ষিণ ভারতের চারটি প্রদেশে রয়েছে চারটি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি; যাদের একসঙ্গে বলা হয়-সাউথ ইন্ডিয়ান ফিল্ম বা দক্ষিণের চলচ্চিত্র। এগুলো হলো- ক. তামিল নাড়ু, খ. অন্ধ্রপ্রদেশ, গ. কর্ণাটক, ঘ. কেরালা। আর এই চারটি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি পরিচালনা করে সাউথ ইন্ডিয়ান ফিল্ম চেম্বার অ্যান্ড কমার্স

ক. দ্বিতীয় বৃহত্তম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তামিল

দক্ষিণের চলচ্চিত্রের ভিত্তিভমি তামিলনাড় ভারতের সবচেয়ে বড়ো দুটি প্রদেশের একটি।এর প্রাদেশিক রাজধানী মাদ্রাজ; বর্তমান চেন্নাই।চেন্নাইয়ের একটি জায়গা কোডাম্বাকাম-এর আর হলিউড-এর লিউড মিলে তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নাম হয়েছে কলিউড। এটি ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।

ইতিকথা-১

প্রথমেই চোখ রাখছি আজকের ঝলমলে তামিল চলচ্চিত্রের সেই সাদা-কালো পর্দায়।শুরুটা ১৯১৭-তে নটরাজ মুদালিয়রের নির্বাক চলচ্চিত্র কিচক বধম দিয়ে। এ সময়ে মুদালিয়র পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে বেশকিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।আসলে শুরুর দিকে প্রায় সব তামিল চলচ্চিত্রের প্লটই ছিলো পৌরাণিক কাহিনীনির্ভর। সেসময়ের চলচ্চিত্রে আনন্দ,বিনোদনের মাধ্যমে মুনাফা লাভ করাই ছিলো পরিচালক-প্রযোজকদের উদ্দেশ্য। এরপর সবাক যুগের সূচনা ১৯৩১-এ এইচ এম রেড্ডির কালিদাস দিয়ে। ৩০ ও ৪০ দশকের তামিল চলচ্চিত্রে কিছুটা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা দেখা যায়, যা এখনো ব্যাপক মাত্রায় বিদ্যমান।অবশ্য এই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এমজিআর (এমজি রামচন্দ্র) বা জয়ললিতার মতো তারকাদের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগানোর জন্যই।মূলত তারা তাদের অভিনীত চলচ্চিত্রে,মহানায়করূপে গরীবদের রক্ষক ও অত্যাচারী শোষকদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী নেতা হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করে,মুখ্যমন্ত্রী হয়ে রাজনীতির ময়দানে চলচ্চিত্রকে নিয়ে গেছেন। আরো পরে ৫০ দশকের দিকে তামিল চলচ্চিত্রের পালে হাওয়া লাগে।নতুন নতুন নায়ক-নায়িকা-পরিচালক-প্রযোজক নিয়ে তামিল চলচ্চিত্রের চারা গাছটি রূপ নেয় মহিরুহে। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি এই ইন্ডাস্ট্রিকে,ফুলে-ফলে পরিণত হয়ে উঠেছে চলচ্চিত্র অরণ্যে।

খ. চলচ্চিত্র তৈরির কারখানা অন্ধ্রপ্রদেশ

অন্ধ্রপ্রদেশের চলচ্চিত্রকে বলা হয় তেলেগু চলচ্চিত্র। হায়দ্রাবাদকেন্দ্রিক এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নাম টলিউড।বিশ্বের বৃহত্তম চলচ্চিত্র স্টুডিও রামোজি ফিল্ম সিটি এখানেই অবস্থিত।

ইতিকথা-২

টলিউডের যাত্রা শুরু ১৯২২ সালে।শুরুর দিকে তেলেগু চলচ্চিত্রও ছিলো পৌরাণিক কাহিনীনির্ভর। চলচ্চিত্রের গল্পে ছিলো না কোনো ধারাবাহিকতা,খণ্ড-খণ্ড কাহিনীর উপস্থাপন হতো এগুলোতে। ভক্ত প্রহ্লাদ চলচ্চিত্রের হাত ধরে ১৯৩১ সালে তেলেগু চলচ্চিত্রের সবাক যুগের সূচনা।প্রথম চলচ্চিত্রই ব্যাপক ব্যবসা-সফল,যা অনেককেই চলচ্চিত্রে আগ্রহী করে তোলে।ফলে,তেলেগু চলচ্চিত্রে পরিবর্তনটা আসে খুব দ্রুতই;সময়টা ১৯৩৭ সালের দিকে।পরে তেলেগু চলচ্চিত্রে নবতরঙ্গের সূচনা হয় শ্যাম বেনেগাল,মৃণাল সেন ও গৌতম ঘোষের মতো প্রতিথযশা পরিচালকদের হাত ধরে।বর্তমানে প্রতি বছর দুইশটিরও বেশি তেলেগু চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়।

গ. বয়সে নবীন কান্নাড়া চলচ্চিত্র

ভারতের অষ্টম বৃহত্তম প্রদেশ কর্ণাটকের রাজধানী ব্যাঙ্গালোর।ভারতের সিলিকন ভ্যালি খ্যাত এই শহরেই গড়ে উঠেছে কান্নাড়া চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি।

ইতিকথা-৩

কান্নাড়া চলচ্চিত্রের ইতিহাসটা ঠিক তামিল কিংবা তেলেগু চলচ্চিত্রের মতো পুরনো নয়।প্রথমে ১৯২৪ সালের দিকে কান্নাড়া চলচ্চিত্র নির্মাণের একটা প্রচেষ্টা চলে। গাব্বি বীরান্না নামে ঐ সময়ের খ্যাতনামা মঞ্চাভিনেতা তার মঞ্চ নাটক ভক্ত কবীর চিত্রায়ণ করার চেষ্টা করেছিলেন তবে তা সফল হয়নি। পরে ১৯৩৪ সালে সতী সুলোচনা নামে প্রথম সবাক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন চমনলাল ডোঙ্গানি। এরপর ৩০ থেকে ৪০ দশকের মাঝামাঝি বেশ কিছু সবাক চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়,যেগুলো দক্ষিণের আর সব চলচ্চিত্রের মতোই পৌরাণিক কাহিনীনির্ভর। তবে কান্নাড়া চলচ্চিত্রের বিকাশ পর্বটা শুরু হয় মূলত ১৯৫০-এর পর থেকে। এই ধারায় কান্নাড়া সাহিত্য উঠে আসে চলচ্চিত্রে।পরবর্তী সময়ে কান্নাড়া চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিচালকদের আগ্রহ ও কর্ম তৎপরতায় দক্ষিণের আর সব ইন্ডাস্ট্রির মতো দাঁড়িয়ে যায়।

. এশিয়ার ভেনিস কেরালা

দক্ষিণের সবচেয়ে ছোটো প্রদেশ ও সবচেয়ে ছোটো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি হলো কেরালা।এখানকার চলচ্চিত্রকে বলা হয় মালায়লাম চলচ্চিত্র।মালায়লাম চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি মলিউড নামে পরিচিত।

ইতিকথা-৪

মালায়লাম চলচ্চিত্রের সূচনা ১৯২৮ সালে নির্বাক চলচ্চিত্র ভিগাদাকুমারন-এর হাত ধরে;পরিচালক জে সি ডানিয়েল। এরপর এস নোতানি ১৯৩৮ সালে নির্মাণ করেন প্রথম সবাক চলচ্চিত্র বালান। মালায়লাম চলচ্চিত্র সর্বপ্রথম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি লাভ করে রামু কারিয়াতের চেম্মিন (১৯৬৫)এর মাধ্যমে।এরপর থেকে মালায়লাম চলচ্চিত্রকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০ শতকের শেষদিকে মালায়লাম চলচ্চিত্রের মোড় ঘুরে যায়।লোকসাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র দিয়ে দক্ষিণের চলচ্চিত্র জগতে সর্বশেষ যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ভারতের চলচ্চিত্রের অন্যতম ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়েছে মলিউড।

এই হলো দক্ষিণের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি, যা ভারতের চলচ্চিত্রকে দিয়েছে এবং দিচ্ছে নতুনমাত্রা।আর এই মাত্রার যাত্রা এখন ঊর্ধ্বমুখী, যার প্রত্যক্ষতা বলিউডে এর হরহামেশা রিমেক।ঊর্ধ্বমুখী যাত্রার এই দক্ষিণা চলচ্চিত্রের গল্পের শুরুতেই কয়েকটা প্রশ্ন বেশ জায়গা করে নিয়েছিলো মনে, কী এমন আছে দক্ষিণের চলচ্চিত্রে যে জন্য তাদের মসলা নিতে হচ্ছে বলিউডের চলচ্চিত্রের স্বাদ বাড়াতে? তাই দক্ষিণের চলচ্চিত্রের মুখরোচক, উপাদেয় উপাদানগুলো নিয়ে কথা বলা জরুরি।

দক্ষিণা চলচ্চিত্রে আলোকের ঝরনাধারার উৎস

চলচ্চিত্র যেনো রূপকথার গল্পের মতো,স্বপ্ন আর বাস্তবতার এক অপূর্ব মিশেল,১৯১৭ সালের দিকে দক্ষিণে সে রূপকথার যাত্রা শুরু।শৈশব,কৈশোর পার করে তা আজ দুরন্ত যৌবনা।আর এখনতো নিজ সীমানা পেরিয়ে বলিউডের সীমানাতেও তার চঞ্চল পদচারণা।তবে শুরুর দিকে কিন্তু অবস্থাটা মোটেও এ রকম ছিলো না।চলচ্চিত্রবাজারে দক্ষিণ ও হিন্দি চলচ্চিত্রের ম্যারাথন দৌড়টা শুরু হয় মূলত ভাষার স্বকীয়তা বিস্তারের তাগিদ থেকে।৫০-এর দশকে ভাষার ভিত্তিতে ভারতে বিভিন্ন সীমানা নির্ধারণ করা হয়,আর হিন্দিকে ঘোষণা করা হয় সর্বভারতিয় ভাষা হিসেবে।ফলে যেটা হয়,জাতীয় স্বকীয়তার চিন্তা থেকে দক্ষিণের চারটি প্রদেশে নিজ ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মাণের চাহিদা বেড়ে যায়।একই সময়ে দক্ষিণ-ভারতে শুরু হয় বিদ্যুতায়ন ও নগরায়ন;ফলে তরতর করে বাড়তে থাকে চলচ্চিত্রের বাজারদর। নগরকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে জনকেন্দ্রিক বিনোদনের একচ্ছত্র মাধ্যম।অথচ বলিউডের বিপরীতে প্রাদেশিক ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে রুগ্ন দশা হবার কথা ছিলো দক্ষিণের চলচ্চিত্রের।কিন্তু হলো ঠিক উল্টো। কোনো কোনো সময় এমন হলো-বাজেট, আয় কিংবা পুরস্কারে পুরো ভারতের চলচ্চিত্রকে টক্কর দিতে শুরু করলো দক্ষিণ;সঙ্গে বছরে বছরে লম্বা হতে থাকলো চলচ্চিত্র মুক্তির তালিকা।

এখন একটু পিছন ফিরে তাকাই। ১৯৮৫ সাল, ওই বছর তেলেগু চলচ্চিত্র মুক্তি পায় একশ ৯৮টি,তামিল একশ ৯০টি,কান্নাড়া ৬৮টি ও মালায়লাম একশ ৩৭টি,বিপরীতে হিন্দি চলচ্চিত্র মুক্তি পায় একশ ৮৭টি। এর ঠিক পাঁচ বছর পর ১৯৯০ সালে দেখা যায়,বছরজুড়ে তেলেগু চলচ্চিত্র মুক্তি পায় দুইশ চারটি,তামিল একশ ৯৪টি,কান্নাড়া ৮১টি,মালায়লাম একশ ২৬টি এবং হিন্দি দুইশটি। যদিও পরবর্তী বছরগুলোতে হিন্দি চলচ্চিত্র মুক্তির সংখ্যা বেড়ে যায়,তবে দক্ষিণের চলচ্চিত্র সবসময় পাশাপাশিই ছিলো তাদের সঙ্গে।১৯৯৫ সালে ৯৯টি হিন্দি চলচ্চিত্রের বিপরীতে তেলেগু,তামিল,কান্নাড়া ও মালায়লাম চলচ্চিত্র মুক্তি পায় যথাক্রমে ২২টি,৯১টি,৩১টি ও ৭৫টি। এর আরো পাঁচ বছর পর ২০০০ সালে হিন্দি চলচ্চিত্র মুক্তি পায় ৯৮টি বিপরীতে তামিল ৬৬টি,তেলেগু ৪০টি,কান্নাড়া ৩১টি ও মালায়লাম ৪৫টি। তবে ২০১২ সালে এসে দৃশ্যপট বদলে যায়,এ বছর তামিল একশ ৫৩টি,তেলেগু একশ ৬৩টি,মালায়লাম একশ ৩০টি ও কান্নাড়া ৯২টি পক্ষান্তরে একশ ২৩টি হিন্দি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়।

আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়,শুধু চলচ্চিত্র মুক্তির সংখ্যায় নয়,অবকাঠোমোগত উন্নয়নেও দক্ষিণারা এ সময় মনোযোগ দেয়।বছর ষাটেক আগেও যেখানে চলচ্চিত্র করার মতো কোনো স্টুডিও ছিলো না,সেখানে এখন ভারতের সর্ববৃহৎ চলচ্চিত্র স্টুডিও রামোজি ফিল্ম সিটি গড়ে উঠেছে।হায়দ্রাবাদের এই স্টুডিওটির জন্য তারা গিনেস বুকেও নাম লিখিয়েছে ইতোমধ্যে।হঠাৎ করে দেখলে অনেকের মনে হতে পারে,দক্ষিণ-ভারতের চলচ্চিত্রের পরিবর্তনটা বোধহয় বেশ দ্রুতই হয়েছে,কিন্তু বিষয়টি মোটেও এমন নয়।মনে রাখতে হবে,অনেকদিন ধরে অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে দক্ষিণের চলচ্চিত্র আজ এই অবস্থায়।

ক. দক্ষিণের চমক

দক্ষিণারা সবসময়ই সংস্কৃতির দিক দিয়ে স্বতন্ত্র;তাদের নৃত্যকলা,সঙ্গীত-সুধায় রয়েছে ভিন্ন স্বাদের উপস্থিতি।ভরতনাট্যম,কথাকলি,কারাকাট্যাম ইত্যাদি নাচের জন্মভূমি দক্ষিণ ভারত।আর এসব কিছুর নির্যাস তারা সুন্দরভাবে ব্যবহার করেছে চলচ্চিত্রে।প্রভু দেবার অসাধারণ কোরিওগ্রাফির সেই মুককালা-মুকাবেলা লায়লা গান থেকে শুরু করে আজকের কলাভেরি ডি সারা বিশ্বকে একবার করে হলেও তাদের দিকে তাকাতে বাধ্য করেছে।একইভাবে তারা চলচ্চিত্রের গতানুগতিক,সাধারণ গল্পের মোড়কে অসাধারণ প্রলেপ মেখে হাজির করছে নতুন নতুন নাচ,গান ও উপস্থাপনার ভিন্নতায়।মাগাধিরা চলচ্চিত্রটির কথাই বলা যায়,এটি হিন্দু পুরাণে উল্লিখিত পুনর্জন্মের ধারণার ভিত্তিতে নির্মাণ হয়েছে;এক জন্মে প্রেমে মিলন না হলেও পুনর্জন্মে নায়ক-নায়িকার মিলন হওয়ার গল্প নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি অত্যন্ত দর্শকপ্রিয়তা পায়।এভাবেই গতানুগতিক গল্পকে তারা একটু অন্যভাবে উপস্থাপন করে দর্শককে নতুন বোতলে পুরনো মদ খাওয়ায়।আর ভাষিক দূরত্ব ঘুচিয়ে নিজেদের দর্শকদের চাহিদা পূরণের জন্যই বলিউড তা হিন্দিতে রিমেক করে।এই মাতাল বাতাস কিন্তু ব্যবসায়িক সফলতার জায়গাটাও ঠিক রাখে সমান্তরালে।গজনি,বডিগার্ড,রেডি,ওয়ান্টেড প্রভৃতির সফলতাই এর প্রমাণ।আর এই ব্যবসায়িক সফলতাই আরো কিছু ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণের বীজ বপন করে দেয় দক্ষিণাদের মধ্যে।

দক্ষিণা চলচ্চিত্রে জোয়ারটা আসে মূলত ৫০-এর দশকে,যখন ব্যবসায়ীরা চলচ্চিত্র নির্মাণে অর্থলগ্নি শুরু করে।মুম্বাইয়ের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে অনুসরণ করেই দক্ষিণের চলচ্চিত্রে ব্যবসায়ী-প্রযোজকদের আনাগোনা বাড়তে থাকে।এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ সালে এসএস ভাসান-এর মালিকানাধীন জেমিনি স্টুডিও ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে চন্দ্রলেখা।ওই সময়ে ৩০ লক্ষ টাকায় চলচ্চিত্র নির্মাণ ছিলো অকল্পনীয়;অনেকেই ভেবেছিলো টাকাটা বোধহয় জলেই গেলো। সবার ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে চলচ্চিত্রটি ব্যাপক ব্যবসায়িক সফলতা পায়।প্রচারেই যে প্রসার তা প্রমাণ করেন ভাসান।তারা শুধু চলচ্চিত্র নির্মাণেই টাকা ঢালেননি,বরং পরিবেশনের ক্ষেত্রে কারিগরি সুবিধা বৃদ্ধিসহ প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণেও মনোযোগ দেন।১০ বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশে গড়ে ওঠা দক্ষিণ ভারতের প্রথম ও ভারতের তৃতীয় আইম্যাক্স থিয়েটার এবং বিশ্বের বৃহত্তম থ্রিডি আইম্যাক্স স্ক্রিন১১ (৭২ ফুট দীর্ঘ ও ৯২ ফুট প্রস্থ)হচ্ছে এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।এর নাম প্রাসাদস আইম্যাক্স,যা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় আইম্যাক্স থিয়েটার১২

খ. চারটি ইন্ডাস্ট্রি যেনো একটি পরিবার

একের পর এক হিট নায়ক-নায়িকা ও চলচ্চিত্র দিয়ে পুরো ভারতের চলচ্চিত্র জগতসহ বিশ্বে সবার নজর কাড়তে থাকে দক্ষিণ। রজনীকান্ত,কমল হাসান,গনেশ,মায়াবতী,হেমামালিনী,রেখা থেকে হাল-আমলের অসিন,কাজল আগারোওয়াল-এর মতো নায়ক-নায়িকা;আর গতানুগতিকতার গায়ে স্বপ্নিল কারিগরি দক্ষতায় গুরু (১৯৮০),সিভা (১৯৮৯),মাহারাজু (১৯৮৫),থ্রি ম্যান আর্মি (১৯৯৫),আজাদ (২০০০),বিক্রমারকুডু (২০০৬),পোকিরি (২০০৭),রেডি (২০০৮),সিংহাম (২০১০),গাব্বার সিং (২০১২) এর মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে তারা।প্রাদেশিক রাজ্য হয়েও ইন্দিরান (২০১০;ব্যয় :২.৫৫ বিলিয়ন রুপি),থুপ্পাকি (২০১২;ব্যয় :১.৮২ বিলিয়ন রুপি),বিশ্বরুপম (২০১৩;ব্যয় :২.২ বিলিয়ন রুপি)এর মতো একের পর এক বড়ো বাজেটের চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং তার ব্যবসায়িক সফলতার মধ্য দিয়ে দক্ষিণের চলচ্চিত্র ঘোষণা করেছে তাদের শক্তিশালী অবস্থানকে।

এই সফলতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো,দক্ষিণের চারটি চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি তাদেরকে আলাদা কোনো ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে না দেখে একত্রে একটা পরিবারের মতো কাজ করে।একই নায়ক-নায়িকা একসঙ্গে চারটি প্রদেশেই কাজ করে থাকেন।একইভাবে অনেক চলচ্চিত্রই একসঙ্গে চারটি ভাষায় ডাবিং কিংবা রিমেক করে মুক্তি দেওয়া দক্ষিণে একধরনের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। ২০০৬ সালে তেলেগু চলচ্চিত্র বিক্রমারকুডু, তামিলে সিরুথাই ও কর্ণাটকে ভিরা মাদাকারি নামে মুক্তি পায় এবং ব্যবসা-সফলও হয়।আর এই চলচ্চিত্রটির বলিউডি সংস্করণ রাউডি রাঠোর (২০১২) বছরের তৃতীয় সর্বোচ্চ আয় করে।এরই ধারাবাহিকতায় হয়তো বলিউডও দক্ষিণের চলচ্চিত্র রিমেক করে সফলতার ঝুলি ভরতে চায়।

দক্ষিণা চলচ্চিত্রের বলিউড দর্শন

ক. বলিউড নিয়ে অল্প-স্বল্প গল্প

দাদা সাহেব ফালকের রাজা হরিশ্চন্দ্র-এর হাত ধরে হিন্দি চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু ১৯১৩ সালে।তখন মূলত নির্বাক চলচ্চিত্র নির্মাণ হতো।পরবর্তী সময়ে ১৯৩১ সালে প্রথম সবাক চলচ্চিত্র আলম আরা মুক্তি পায়,আরদেশির ইরানি নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক সফলতা পায়।১৯৪০ সালের দিকে বলিউডে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছায়া পড়লেও তা খুব তাড়াতাড়ি কাটিয়ে ওঠে তারা। নগরায়ন ও শিল্পায়নের প্রভাবে ৬০-এর দশকে চলচ্চিত্র নির্মাণ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফলতার কারণে এ দশককে হিন্দি চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ বলা হয়।এ সময় অর্থাৎ ৬০ দশকের শেষ দিকে এবং ৭০ দশকের শুরুতে রোমান্টিক ও অ্যাকশন ঘরানার চলচ্চিত্র নির্মাণে মনোযোগী হয়ে ওঠে বলিউডের পরিচালক-প্রযোজকরা।এই রোমান্টিক অ্যাকশন ধারা চলচ্চিত্রবাজার মাত করে;তৈরি হয় নতুন এক চলচ্চিত্র-ধারা-রোমান্টিক-অ্যাকশন।

প্রেম আর মারদাঙ্গা-নির্ভর এসব চলচ্চিত্রে বৈচিত্র্য আনতে খোঁজা শুরু হয় নতুন মুখ।তখন নায়ক হিসেবে আগমন ঘটে রাজেশ খান্না, ধর্মেন্দ্র, শশী কাপুর, অমিতাভ বচ্চন,মিঠুন চক্রবর্তী,অনিল কাপুরসহ অনেকের।এদের মধ্যে ধর্মেন্দ ৬০-এর দশকে রোমান্টিক হিরো হিসেবে অভিনয় শুরু করলেও,পরে তিনি অ্যাকশন হিরো হিসেবেই পরিচিতি লাভ করেন;পরে ৮০ দশকের শেষপর্যন্ত অনেকগুলো হিট অ্যাকশন চলচ্চিত্র উপহার দেন।যেমন :গোলামি (১৯৮৫),হুকুমাত (১৯৮৭), লোহা (১৯৮৭)ইত্যাদি।

১৯৭৩ সালে জাঞ্জির চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে বলিউডে আগমন ঘটে এক তেজস্বী যুবকের,যে কিনা একাই ভিলেনের গোষ্ঠী উদ্ধার করতে থাকে;সেই অ্যাকশন হিরো আর কেউ নয়,আজকের বিগ বি খ্যাত অমিতাভ বচ্চন।তার অভিনীত শোলে (১৯৭৫),ডন (১৯৭৮),কালিয়া (১৯৮১)এখনো অ্যাকশন চলচ্চিত্রের তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছে।৮০ দশকের শেষ অবধি অ্যাকশন নায়ক হিসেবে ধর্মেন্দ্র ও অমিতাভ পুরো বলিউড শাসন করলেও অ্যাকশন হিরো হিসেবে এ সময় আরো অনেকের আগমন ঘটে।এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সানি দেওল,অনিল কাপুর,সঞ্জয় দত্ত,সুনীল শেঠী প্রমুখ।বর্তমানে রোমান্টিক ও কমেডি নায়ক হিসেবে পরিচিত অক্ষয় কুমারের বলিউডে আগমন কিন্তু ৯০-এর দশকে অ্যাকশন হিরো হিসেবে।অক্ষয় সেসময় অ্যাকশন চলচ্চিত্রে যোগ করেন নতুনমাত্রা।তার পাঁচটি চলচ্চিত্র নিয়ে খিলাড়ি সিরিজ ব্যবসায়িকভাবে ব্যাপক সফল হয়।২০০০ সালের দিকে বলিউডের অ্যাকশন চলচ্চিত্রে আবারো কিছু পরিবর্তন আসে,আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রগুলোতে সাধারণত রোমান্টিক হিরোরাই অ্যাকশন হিরো হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন,এদের মধ্যে অন্যতম সালমান খান।

এতো গেলো নায়কদের কথা।মুদ্রার অন্য পিঠে আছে রোমান্টিক মুখশ্রী ও নৃত্যকলায় পটিয়সী নায়িকারা।শর্মিলা ঠাকুর,মুমতাজ,আশা পারেখ,রেখা,হেমা মালিনী,মাধুরী দিক্ষীতের আগমন বলিউডের রঙিন দুনিয়ায় সেই শুরুর সময় থেকেই।তবে এ কথা ঠিক,বলিউডে রোমান্টিক চলচ্চিত্রের বাইরে অ্যাকশন চলচ্চিত্রের দুর্দান্ত প্রতাপশালী নায়কদের পাশে নায়িকাদের উপস্থিতি খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখানো হয় না।নায়িকার সহায়ক ভূমিকা পালনের সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

খ. হলিউড+দক্ষিণ = বলিউড মাসালা

শুরু থেকেই বলিউড সাধারণত অ্যাকশন চলচ্চিত্রগুলো টুকলি করতো হলিউড থেকে,তবে ঠিক হলিউডের অ্যাকশন চলচ্চিত্রের মতো হতো না।তাই বলিউডের এসব চলচ্চিত্রকে সরাসরি অ্যাকশন চলচ্চিত্র না বলে,মাসালা চলচ্চিত্র বলা যেতে পারে;খাঁটি বাংলায় মশলা চলচ্চিত্র আর কী। বিষয়টা অনেকটা ভারতিয় উপমহাদেশের মানুষদের তরকারির স্বাদ বাড়াতে বিভিন্ন রকম মশলা ব্যবহারের মতো।বলিউডও তাদের চলচ্চিত্রের স্বাদ বাড়াতে হলিউডি অ্যাকশনের সঙ্গে উপমহাদেশিয় প্রেম-ভালোবাসা,পারিবারিক-ধর্মীয় মূল্যবোধ,নীতি-নৈতিকতা ও এক চিমটি আইটেম নাম্বার দিয়ে এক মাসালা তৈরি করে দর্শক-শ্রোতাকে খাওয়াতে শুরু করে।১৩

আর এখন পর্যন্ত বলিউড সেই মাসালা চলচ্চিত্রই খাইয়ে যাচ্ছে দর্শককে।গত কয়েক বছর ধরে এ ধরনের চলচ্চিত্রের কদর একটু বেশিই বেড়েছে যেনো,আর তাই বেড়েছে দক্ষিণের চলচ্চিত্রের নকল করা।আর বলিউডে অ্যাকশন চলচ্চিত্রের কদর বাড়ায় রোমান্টিক নায়ক হিসেবে পরিচিত সালমান খান,আমির খান,এমনকি ইতিহাসখ্যাত দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গের শাহরুখকেও অ্যাকশন হিরো হিসেবে দেখা যাচ্ছে ডন,রা.ওয়ান-এ।আর এ সুযোগে হিড়িক পড়েছে দক্ষিণের চলচ্চিত্র রিমেকের।কারণ,অ্যাকশন চলচ্চিত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারে ভারতের আর সব ইন্ডাস্ট্রির চেয়ে তামিল বা তেলেগু চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি অনেকখানি এগিয়ে গেছে।১৪ এর শুরুটা অবশ্য ৭০ দশকের দিকে;১৯৬৬-তে তামিল চলচ্চিত্র কাধালিক্কা নিরামিল্লাই (১৯৬৪) থেকে সিভি শ্রীধর হিন্দিতে নির্মাণ করেন পেয়ার কিয়ে যা।ঠিক একই বছর অর্থাৎ ১৯৬৪ সালেই তেলেগু চলচ্চিত্র রামুদু ভেমুদু মুক্তি পায়,সেটা থেকে ১৯৬৭ সালে তপি চানক্য রিমেক করেন রাম অর শ্যাম।১৫

আগে বেশ রাখ-ঢাক করেই নকলটা চলতো,তবে বেশকিছু টুকলি চলচ্চিত্রের জমকালো সফলতার পর পর্দা প্রথার বিলোপ করেছেন বলিউডের পরিচালকেরা।এখন মোটামুটি ঘোষণা দিয়েই দক্ষিণা চলচ্চিত্রের রিমেক হচ্ছে বলিউডে।দক্ষিণা চলচ্চিত্রের এ রকম বেশকিছু সফল রিমেক হলো-ওয়ান্টেড তামিল পোকেরির রিমেক,রেডি তেলেগু রেডি থেকে,তেলেগু বিক্রমারকুডু থেকে রাউডি রাঠোর,মালায়লাম বডিগার্ড থেকে বডিগার্ড।এছাড়াও নায়ক (২০০১),সাথিয়া (২০০২),রান (২০০৪),ইয়ুবা (২০০৪),নো এন্ট্রি (২০০৫) এর মতো হিন্দি হিট চলচ্চিত্র তামিল থেকে রিমেক করা।একটি বিষয় লক্ষণীয়,দক্ষিণের ইন্ডাস্ট্রিগুলো যে একেবারে সব চলচ্চিত্রই নিজেরা মৌলিক কোনো কাহিনী থেকে নেয়,এমন নয়।মৌলিক গল্পের পাশাপাশি দক্ষিণের পরিচালকরা মূলত হলিউড থেকে রিমেক করে;আর এসব চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক সফলতা দেখার পর তা রিমেক করে বলিউড।

গ. দক্ষিণের নায়িকাদেরকে নিয়ে বলিউডের আহ্লাদ

দক্ষিণের নায়কেরা বলিউডে অবস্থান করে নিতে না পারলেও দক্ষিণের নায়িকাদের কদর কিন্তু শুরু থেকেই ছিলো।৬০-এর দশকে জিস দেশ মে গঙ্গা বেহতা হ্যায় দিয়ে মালায়লাম চলচ্চিত্রের নায়িকা পদ্মিনী বলিউডে পা রেখেছিলেন।আর হাল আমলের তামান্না ভাটিয়া হিম্মতওয়ালে (২০১৩) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সেই স্রোত এখনো ধরে রেখেছেন।এছাড়া বলিউডের একসময়ের হার্টথ্রব ওয়াহিদা রেহমান ছিলেন তেলেগু নায়িকা,৫০-৬০ দশকের জনপ্রিয় নায়িকা বৈজয়ন্তীমালা বলিউডে এসেছিলেন কিন্তু তামিল চলচ্চিত্র থেকেই।বলিউডের স্বপ্নকন্যা হিসেবে পরিচিত হেমামালিনী ও রেখাও ছিলেন তামিল নায়িকা।এ ধারাবাহিকতা টিকে রেখেছেন হাল আমলের তামান্না,অসিন,কাজল আগারওয়াল,জেনেলিয়ারা।এদের অনেকেই এসেছেন স্বেচ্ছায় বলিউডের ঝলমলে আকাশে উজ্জ্বল তারকা হতে,আবার কাউকে কাউকে আনা হয়েছে ঝলমলে আকাশকে আরো ঝকমকে করতে।

চলচ্চিত্র রিমেক,নায়িকা আমদানি করা ছাড়াও বলিউড নিয়মিতই দক্ষিণের চলচ্চিত্রের হিট গানগুলো ও নাচের কোরিওগ্রাফিও রিমেক করে থাকে;যেমন ধিংকা চিকা,আ আনতে আমলাপুরাম,চিন তাক তাক চিতা চিতা ইত্যাদি জনপ্রিয় গানগুলো মূলত তামিল চলচ্চিত্রের।এছাড়া তামিল কোরিওগ্রাফার রেমো ডি সুজা,প্রভু দেবাদের আনাগোনা এখন বলিউডে খুবই স্বতঃস্ফূর্ত।সবচেয়ে বড়ো কথা,আজকের বিখ্যাত বলিউডি সঙ্গীত পরিচালক,গায়ক এ আর রহমানও দক্ষিণ থেকেই আসা।

বলিউডি স্রোতে দক্ষিণা জাহাজ

চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যমই নয়, বড়ো ব্যবসাও।ভারতের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত হয়েছে চলচ্চিত্র।তাই দর্শক-শ্রোতা ও মুনাফা-উভয় দিক বিবেচনা করে ভারতিয় চলচ্চিত্রে চলছে পাল্লা।একদিকে দক্ষিণের ছোটো রাজ্যগুলোর সঙ্গে বৃহৎ তামিল, তেলেগু অন্যদিকে একাই বলিউড।তবে এ কথা ঠিক, বলিউডের জন্য দক্ষিণ এখন নিজের বাড়ির ঝুল বারান্দার মতোই।ইচ্ছে হলেই ঘুরে আসা যায়, একটুখানি বসে নেওয়া যায় অনায়াসেই। তবে বলিউড আর দক্ষিণের চলচ্চিত্রের এই দো-আঁশলা চরিত্রের কিছু কারণও আছে।

প্রথমত, হিন্দি চলচ্চিত্রের সঙ্গে দক্ষিণের চলচ্চিত্র মিশে যাবার আপাত কারণ হিসেবে অর্থনীতির বিষয়টিকে মোটা দাগে চিহ্নিত করলেও, আরো কিছু বিষয় আমাদের নজরে পড়ে।এই পর্যায়ে মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে,একই কাহিনী,নির্মাণও প্রায় কাছাকাছি,কোনো কোনো ক্ষেত্রে বলিউডের চেয়ে নির্মাণ প্রাযুক্তিক দিক থেকে একটু ভালো মানেরই,তারপরও দক্ষিণের চলচ্চিত্র হিন্দি চলচ্চিত্রের মতো বাজার সৃষ্টি করতে পারছে না কেনো? অনেকে বলতেই পারেন, এর কারণ ভাষা।সহজ উত্তর,সাবটাইটেল দিলেই তো সমস্যার সমাধান হয়।তবে সাবটাইটেলের সমস্যা হলো-ভাষাটা একেবারেই না বুঝে পুরোটাই যদি সাবটাইটেলে বুঝতে হয়,তাহলে মনোযোগের বড়ো ধরনের ঘাটতি হয়।যদিও শিল্পমাধ্যম হিসেবে চলচ্চিত্রের একটা নিজস্ব ভাষা আছে,তারপরও দর্শকের অবচেতন মন অধিকাংশ সময়ই সাবটাইটেলের দিকেই চলে যায়।বিপরীতে ভারতের চলচ্চিত্র বলতেই হিন্দি ভাষা যেভাবে জনমানুষের মস্তিষ্কে জায়গা করে নিয়েছে,সেখানে কষ্ট করে কেনো দর্শক সাবটাইটেল পড়ে বিনোদন নিবে?

এছাড়া ভাষার মাধ্যমে আধিপত্য বা ক্ষমতা বিস্তারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।এখানে মিশেল ফুকোকে না এনে পারছি না।ফুকোর ভাষ্যমতে, পৃথিবীতে কোনো সীমাতিক্রমী অর্থ নেই,আমাদের চলার অগ্রসরতায় আমরা অর্থ সাজসজ্জা করি,ভাষার মাধ্যমে পৃথিবী পরিশ্রুত করি।১৬ তাছাড়া ভাষার গঠন কর্তৃত্বময়,এবং মানুষের অস্তিত্ব ভাষার মাধ্যমে দৃষ্টিগোচর হয়।সুতরাং কোনো ভাষার নিয়মের বাইরে কোনোকিছু চিন্তার ক্ষেত্রে কেউ মুক্ত নয়।১৭ আর তাই কিছুসংখ্যক মানুষ যাদেরকে বলা হয় উচ্চশ্রেণি,তারা অন্যসব মানুষকে তাদের চিন্তায় বশীভূত করতে চায় এবং ভাষা এক্ষেত্রে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে কাজ করে।এই লেখার শুরুর দিকেই বলেছিলাম,ভাষার বিষয়টি মাথায় রেখেই হিন্দি থেকে আলাদা হয়ে দক্ষিণের চলচ্চিত্রের পথচলা শুরু;তাই এদের মধ্যে ভাষার দ্বন্দ্ব,আদতে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব হিসেবেই থেকে যায়।তাই সাবটাইটেল দিয়ে প্রচার করার চেয়ে হিন্দিতে রিমেক করাটাই শ্রেয় মনে করে উচ্চশ্রেণি।কারণ,হিন্দি ভারতের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা আর ক্ষমতা কাঠামো জানে-আধিপত্য বিস্তারের জন্য নিজের ভাষা তথা হিন্দিই বেশি লাভজনক।সেই আধিপত্য বিস্তার দেশের মধ্যেই হোক,আর বাইরের জগতেই হোক।

উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের কথাই ধরা যাক,পাশাপাশি দেশ হবার পরও বাংলাদেশের মানুষ ভারতের চলচ্চিত্র বলতে সাধারণত হিন্দি,তারপর ভাষাগত যোগসূত্র থাকার কারণে কলকাতার বাংলা চলচ্চিত্রকেই বুঝে থাকে।এর যথেষ্ট কারণও আছে।বাংলাদেশের মিডিয়া-বাজারে ভারতের আধিপত্য এমন পর্যায়ে পৌঁছিয়েছে যে,হিন্দি সিরিয়াল আমাদের দেশের গৃহবধূদের কাছে গৃহস্থালি কাজের একটা অংশ হয়ে উঠেছে,ডোরেমন-এর হিন্দি সংস্করণ হয়েছে শিশুদের খেলার সঙ্গী।আর কারিনা,ক্যাটরিনা,সালমান,রণবীররা তো টিনএজারদের আইকন! আর এসবের মধ্য দিয়ে হিন্দি সুকৌশলে আমাদের সংস্কৃতি ও ভাষা জগতের একেবারে ভিতরে প্রবেশ করছে।আর ভাষা হিসেবে হিন্দির সঙ্গে বাংলার বেশ কিছু শব্দের উৎপত্তি সূত্রে মিলতো আছেই।এমতাবস্থায়,হিন্দি ভুলা দেনা মুঝে,হে আলবিদা তুঝে,তুঝে জিনা হে মেরে বিনা ঠিক না-বুঝেও যতোটা বোঝা যায়,ঠিক ততোটাই তেলেগু গান নাকোসাম নুভু,জুত্তু পেকুন্তে বাগুন্তি,নেইনান্টে পাড়ে চাচ্ছি পোতোন্টে বাগুন্দি,বোঝা দায়। দক্ষিণের চলচ্চিত্র নিয়ে একই অবস্থা হচ্ছে অন্যান্য দেশগুলোতেও।তাই বছর শেষে ভারতের ৫৮তম জাতীয় চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা পরিচালক,অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ প্রায় সব জাতীয় পুরস্কার দক্ষিণাদের ঘরে গেলেও১৮,কান চলচ্চিত্র উৎসবে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন কিংবা বিদ্যা বালানই।

দ্বিতীয়ত,আগেই বলেছি,দক্ষিণ যে একেবারে মৌলিক কাহিনী নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে এমন নয়।তারাও হলিউডের রোমান হলিডে (১৯৫৩) থেকে রিমেক করে মে মাধাম (১৯৯৪),দ্য গডফাদার (১৯৭২) থেকে নায়াগান (১৯৮৭);আবার তামিল নায়াগান ১৯৮৮-তে হিন্দিতে দয়াবান।সাধারণত দক্ষিণের রিমেক করা এসব চলচ্চিত্র ব্যবসা-সফল হলে সেগুলো রিমেক হয় বলিউডে।তবে কখনো কখনো দক্ষিণের ফ্লপ চলচ্চিত্রও হিন্দিতে রিমেক হয়ে ব্লকবাস্টার হয়েছে।হিন্দি হাউসফুল-২ (২০১২) তামিলের ফ্লপ বন্ধা পরমাশিবমে থেকে রিমেক করেন সাজিদ খান,যা এখানে হিট হয়।তাই দক্ষিণের চলচ্চিত্রের সঙ্গে পাল্লা না দিয়ে রিমেক করে বাজার ধরাটাই হয়তো বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করছে বলিউড।

শেষকথন

যে যা রিমেক করুক,যে-ই শাসন করুক,ভারতিয় চলচ্চিত্রের চালচিত্রকে-আপাতভাবে কিন্তু লাভবান হচ্ছে ভারতের চলচ্চিত্রশিল্পই।আর এই লাভ বা মুনাফাটাই তো আসলে কোনো ইন্ডাস্ট্রির মূল লক্ষ্য।অন্যদিকে আমরা যতো কথাই বলি,ভারতিয় চলচ্চিত্র বলতে কিন্তু প্রধানত বলিউডকেই বোঝায়।বলিউডই বিশ্ববাজারে ভারতিয় অন্যান্য ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির চেয়ে বহুল পরিচিত ও ব্যবসায় এগিয়ে।তাই বাজার ও দর্শক চাহিদা দুটোকে একই তালে ধরে রাখতে বলিউডের দরকার হয় নিত্য নতুন উপকরণের,যার অন্যতম জোগানদার দক্ষিণের চলচ্চিত্র।কিন্তু প্রশ্ন,দক্ষিণের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি কি শুধু বলিউডের জোগানদারই থেকে যাবে? নাকি বিশ্বদরবারে সেও আলাদা স্থান দখল করে নিবে?

লেখক : মাহ্ফুজা মৌ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী

[email protected]

 

তথ্যসূত্র

১. নিও-নয়ার সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ফিল্ম-অপরাধমূলক নাটকীয় ঘটনা নির্ভর চলচ্চিত্র, যেখানে চরিত্রগুলোর মানসিক অবস্থা তার পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো থাকে না।এখানে এক চরিত্রের সঙ্গে অন্য চরিত্রগুলোর একধরনের মানসিক বা মননের খেলা চলে।

২. http://en.wikipedia.org/wiki/Ghajini_%282005_film%29

৩. গোঁফওয়ালা-এটি আসলে দক্ষিণ ভারতের একটি ঐতিহ্য। তাদের ধারণা, গোঁফ পৌরুষের প্রতীক। তাই তাদের প্রায় সব নায়কেরই গোঁফ থাকে।

৪. বন্দ্যোপাধ্যায়, সূর্য (২০০৯:৪০০);দক্ষিণ ভারতের ছবি :ক্রমবিকাশের চিত্র;শতবর্ষে চলচ্চিত্র ২; সম্পাদনা-নির্মাল্য আচার্য ও দিব্যেন্দু পালিত;আনন্দ পাবলিশার্স প্রা.লি.,কলকাতা।

৫. বন্দ্যোপাধ্যায়,সুমন্ত (১৯৯৬:২৯৮); ভারতীয় চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তার উপকরণ;শতবর্ষে চলচ্চিত্র ১;সম্পাদনা-নির্মাল্য আচার্য ও দিব্যেন্দু পালিত;আনন্দ পাবলিশার্স প্রা.লি.,কলকাতা।

৬. প্রাগুক্ত; বন্দ্যোপাধ্যায়,সূর্য (২০০৯:৪০৩)।

৭. ভৌমিক,সোমেশ্বর (১৯৯৬:৯৭,১০৬); ভারতীয় চলচ্চিত্র :একটি অর্থনৈতিক প্রতিবেদন; প্যাপিরাস,কলকাতা।

৮. প্রাগুক্ত; ভৌমিক,সোমেশ্বর (১৯৯৬:৯৭,১০৬)।

৯. এই তথ্যগুলোর জন্য www.wikipedia.org-এর কাছে ঋণী।

১০. প্রাগুক্ত; ভৌমিক,সোমেশ্বর (১৯৯৬:১০৪)।

১১. আইম্যাক্স স্ক্রিন হলো উন্নত ধরনের প্রদর্শন ব্যবস্থা।যাতে সাধারণের চেয়ে অনেক বড়ো আকারে ও বেশি রেজুলেশনে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।কানাডিয়ান কোম্পানি আইম্যাক্স করপোরেশন এটি নির্মাণ করে।

১২. http://en.wikipedia.org/wiki/Prasads_IMAX

১৩. http://www.darashiko.com/2012/08/bollywood-action-films

১৪. http://www.darashiko.com/2012/08/bollywood-action-films

১৫.http://www.sbioak.org/movie_goof_ups/Bollywood%20Movies%20Copied%20From%20South%2 0Indian%20Films.htm

১৬. চৌধুরী,ফকরুল (২০০৭:১১৮);বিবিধ শাস্ত্রের তদন্তকারী;মিশেল ফুকো পাঠ ও বিবেচনা;সম্পাদনা-পারভেজ হোসেন;সংবেদ,ঢাকা।

১৭. প্রাগুক্ত;চৌধুরী,ফকরুল (২০০৭:১১৯)।

১৮. উধাও বলিউড;কালের কণ্ঠ,১২ সেপ্টেম্বর ২০১১।

 বি. দ্র. এ প্রবন্ধটি ২০১৩ সালের জানুয়ারির ম্যাজিক লণ্ঠনের ৫ম সংখ্যায় প্রথম প্রকাশ করা হয়। 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন