Magic Lanthon

               

আসাদ লাবলু

প্রকাশিত ১১ নভেম্বর ২০২২ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

ফারুকীর সিনেমা : নতুন ভাষা, নতুন পরিচয় নির্মাণ   

আসাদ লাবলু


ভাষার সহজ-সরল-সাধারণ সংজ্ঞা দিয়ে যদি শুরু করি তাহলে বলতে হয়, মানুষের মনের ভাব আদান-প্রদান এবং জ্ঞান অর্জনের প্রতীকময় মাধ্যমই হলো ভাষা। পৃথিবীর প্রত্যেকটি ভাষার একটি নিজস্ব কাঠামো থাকে। শব্দের উচ্চারণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক-বোধ প্রভৃতি নিয়েই ভাষার সেই আন্তরিক কাঠামোটি তৈরি হয়। যখনি কোনো ভাষা এই কাঠামোর বাইরে চলে যায়, তখনি সেই ভাষার যে-কোনো প্রতীকের অর্থ উদ্ধার করা মুশকিল হয়ে পড়ে। আন্তরিক কাঠামোর বাইরে ভাষার আরও একটি কাঠামো রয়েছে, যেটিকে আমরা ব্যাকরণ হিসেবে জানি। কিন্তু ভাষার এই কাঠামোটি আয়ত্ত্ব করতে পারলেই ভাষাও আয়ত্ত্ব করা যাবে-বিষয়টি তা নয়। কিছুটা পারা যাবে কি যাবে না, তাই নিয়েই ভাষাতাত্ত্বিকদের মধ্যে মত-পার্থক্য রয়েছে। কারণ, বাস্তব জীবনকে আমরা যেভাবে বোধ করি, যেভাবে দেখি, তার অনেকটাই নির্ভর করে আমরা যে-ভাষা ব্যবহার করি তার ওপর। আমাদের বাস্তব বিশ্বদৃষ্টি অনেকটা ভাষানির্ভর। ভাষার বাইরে কোনো বাস্তবতা নেই।

আমরা বাস্তব জগতকে দেখি, বুঝি, উপলব্ধি করি ভাষার সাহায্যে। আবার ভাষা আয়ত্ত্ব করা আর বাস্তব জগতকে বোঝা এমন ব্যাপার যে, দুটির একটিকে অন্যটি থেকে পৃথক করা যায় না। ভাষা আয়ত্ত্ব করতে করতে আমরা জগতকে বুঝি, আবার জগতকে বুঝতে বুঝতে ভাষা ব্যবহার করতে শিখি। তাই আমাদের বাস্তব জগতবোধ আমাদের ভাষা দ্বারা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। আমরা আদিম সমাজের দিকে ফিরে তাকালে দেখবো, আদিম মানুষ ভাষা ব্যবহার করতো তাদের দরকারি কাজে, আর যেসব জিনিস ও ব্যাপার তাদের কাছে দরকারি নয় সেগুলো সম্বন্ধে তাদের ভাষায় কোনো শব্দ নেই।

এই ভাষার আরেকটি সহজ-সরল-সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো, ভাষা পরিবর্তিত হয়। আমাদের এই বাংলা ভাষা আজ থেকে একশ বছর আগে যেমনটা ছিলো,এখন নিশ্চয়ই সে-রকম নেই। তবে ভাষা পরিবর্তন হওয়া মানে কেবল ভাষার পরিবর্তনই নয়, সামগ্রিক বাস্তবতাই পরিবর্তন। ঘুরিয়েও বলা যেতে পারে, বাস্তবতার পরিবর্তন মানে ভাষার পরিবর্তন। এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরে করবো। কিন্তু সেই আলোচনা যে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে করতে চাই তা হলো, বিগত কয়েক বছরে বাংলা ভাষা-রীতির একটা পরিবর্তন লক্ষণীয়। এই পরিবর্তন ঘটেছে আমাদের বাস্তব জগতে, সাহিত্যে, এমনকি গণমাধ্যমেও। গণমাধ্যমের যেহেতু বিবিধ ধরন, সেহেতু এই পরিবর্তনের পরিমাণগত ছাপ গণমাধ্যমের সব ধরনগুলোতে একই নয়। যেমন, সংবাদপত্রে এই পরিবর্তনের ছাপ যতোটা লক্ষণীয়, তার চেয়ে বেশি চোখে পড়ে নাটক ও চলচ্চিত্রে। আজকের এই আলোচনা চলচ্চিত্রকে ধরেই এগোবে। এ-ক্ষেত্রে আমরা বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর তিনটি চলচ্চিত্রকে ধরে কথাবার্তা বলার চেষ্টা করেছি। মেইড ইন বাংলাদেশ, ব্যাচেলর এবং থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার এই তিনটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেখার চেষ্টা করেছি ভাষার পরিবর্তন এবং সেই পরিবর্তনের ধরন। সেই সঙ্গে দেখার চেষ্টা ছিলো-পরিবর্তনের এই ধরন কখন একটি ভাষায় দেখা যায়, এই পরিবর্তন কেনো প্রয়োজন হয়ে পড়ে এবং এই পরিবর্তন কী ইঙ্গিত দেয়? 

আলোচনার সুবিধার্থে তিনটি চলচ্চিত্রকে আলাদা-আলাদা আলোচনা না করে একই সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। মেইড ইন বাংলাদেশ, ব্যাচেলর এবং থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার  চলচ্চিত্র তিনটিতে ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে মোটাদাগে যে পরিবর্তনগুলো একজন সাধারণ দর্শক হিসেবে আমার নজরে এসেছে সেই পরিবর্তনগুলো আলোচনায় আনার চেষ্টা ছিলো। সে-ক্ষেত্রে পরিবর্তনগুলোকে নির্দিষ্ট দুটি শিরোনামে ফেলে শুরু করতে চাই।


ভাষার
উচ্চারণগত পরিবর্তন

মেইড ইন বাংলাদেশ-এর প্রধান চরিত্র খোরশেদ। শুরুতেই খোরশেদ বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় নৌকায় বসে থাকা ছেলেটির সঙ্গে যে-ভাষায় কথা বলে সেটি মূলত সিরাজগঞ্জের আঞ্চলিক। এখন, চলচ্চিত্রে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার যেমন থাকতে পারে; তেমনি তার যথার্থতা মূল্যায়নও হতে পারে। মেইড ইন বাংলাদেশ-এ প্রথম দৃশ্যের সংলাপগুলোতে সিরাজগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষা যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়নি। তার প্রচেষ্টা হয়তো ছিলো, কিন্তু প্রচেষ্টা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় নতুন একটি ভাষা সৃষ্টি হয়েছে; যা বাংলাদেশের কোনো এলাকার সঙ্গেই পুরোপুরি সাদৃশ্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দৃশ্যটিতে খোরশেদের সঙ্গে মতিনের সংলাপগুলো ছিলো এরকম-

-ওই মতিন; এ হোন, এই যে চাবি দিয়া গ্যালাম, ঘরটা এল্লা দেহিশ। আর চাচারে কইস আমার নিগা দোয়া করান্‌নিগা।

-আপনি কই যান?

-ঢাকা যাইত্যাছি।

-হোনেন ভাই, আমার জন্যে একটা ভিউকার্ড নিয়া আইসেন।

-কার ভিউকার্ড?

-শাবনুর নায়িকার।

এইটুকু দিয়েই শুরু করি। এই ‘করান্‌নিগা’ শব্দটি সিরাজগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় ব্যবহৃত হয় না; সিরাজগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় শব্দটি ‘ক্যরবারনিগা’। এরপর আসি ‘নিগা’ শব্দটিতে। শব্দটি ‘জন্য’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর দুই লাইন পর মতিন কিন্তু ‘‘জন্য’ শব্দটি-ই ব্যবহার করেছেন। মতিনের প্রথম সংলাপটি লক্ষ করুন; সিরাজগঞ্জের মানুষ কিন্তু বলে না, ‘কই যান’। বলে, ‘কোনে যান’। অর্থাৎ, শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংলাপগুলোতে মনে হয় সচেতনতার অভাব ছিলো।

পুরো চলচ্চিত্রটিতে খোরশেদের সংলাপে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, তিনি নির্দিষ্ট কোনো ভাষায় কথা বলেননি। অর্থাৎ, সংলাপে একেক সময় একেক ভাষা ব্যবহার করেছেন। কখনও সিরাজগঞ্জের আঞ্চলিক, কখনও প্রমিত বাংলা, কখনও দুটোর সংমিশ্রণ। যেমন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে খোরশেদ বলেন ‘আমি ঢাকা থেকে এসছি।’ বাক্যটির প্রথম তিনটি শব্দ প্রমিত বাংলা। কিন্তু শেষ শব্দটির উৎপত্তি বোধগম্য নয়। শুধু এটুকু বলা যায়, ‘এসছি’ কে সিরাজগঞ্জের ভাষায় বলে ‘আইছি’, ঢাকার ভাষায় বলে ‘আইচি’; আর প্রমিত বাংলায় ‘এসেছি’। পুরো চলচ্চিত্রটি ধরে এ-রকম ভাষার ব্যবহার পাওয়া যাবে।

থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার-এ ভাষার এই পরিবর্তন তুলনামূলক বেশি। এখানে হরহামেশাই ‘আসছি’র জায়গায় আইতাছি, খাচ্ছি না বলে খাইতাছি, ‘বলছি’র স্থানে বলতাছি, ‘দিবে না’ না বলে ‘দিবা না’, ‘কেনো’ না বলে ‘ক্যান’ এর ব্যবহার দেখা যায়। তপুর সঙ্গে যখন প্রথম দেখা হয় তখন রুবা তাকে বলে-

-তুই আমাকে কোন্‌ দিকে নিয়া যাইতাছিস?

-খালি আয়।

-এই দিকে কোন্‌ দিকে?

-এই দিকেই তো আসল খেলা।

-তপু আজকে সতীত্ব নিয়া ফিরা যাইতে পারবো তো?

-সুন্দরী, আজ  তোমাকে আমার হাত থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।

-নাকি তোকে আমার হাত থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না? কী সমস্যাডা কী? এখানে ক্যান?

-আরে কইস্‌ নারে ভাই, আজকাল যেখানে যাই, লোকজন চিনা ফালায়, বুঝ্‌ছস?

-ও, আপনি তো এখন স্টার। সেই দিনের সেই তপুটি আর নেই।

-ক্যান?

-ক্যান?

-জেলাস?

-জেলাস?

-আমারে দেইখা কী জেলাস লাগে? তহন তো পাত্তা দ্যাস নাই! এহন কি খুব লাগতাসে, তাই না?

এ-রকম আরও উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। জেলখানায় রুবা যখন মুন্নার সঙ্গে দেখা করতে যায়, তখন মুন্না বলে,

-আমি সরি রুবা। রুবা, আমি সরি রুবা। জেলে থাকতে থাকতে আমার মাথা নষ্ট হয়্যা গেছে, আমি সরি। প্লিজ, তুমি কাইন্দো না, কাইন্দো না, প্লিজ।

-উকিলের সাথে কথা হইছে। উকিল বলছে দুই-তিন মাসের মধ্যে তুমি ছাড়া পেয়ে যাবা।

রুবা আশ্রয়ের জন্য গেলে তার খালাতো বোন জিজ্ঞাসা করে, ‘তোর কিইসে’? এই ‘‘কিইসে’র মানে হলো, ‘কি হয়েছে’।

এবার একটু ব্যাচেলর-এর সংলাপে ব্যবহৃত ভাষা দেখি। প্রথম দৃশ্যে হাসান বলে,

আব্রাহার ভাই হইল গিয়া এই ক্লাবের ফাউন্ডিং মেম্বার, বুঝছো? বছরের ৩৬৫ দিন সন্ধ্যা থ্যাক্কা আব্রাহার ভাইরে এখানে পাইবা।

পরের দৃশ্যে আবার হাসান বলেন,

এই হইলো গিয়া আমাদের বাকওয়াস পোলাপাইন। ওগো লইয়া আমি আছি।

পরবর্তী একটি দৃশ্যে সাথীকে তার মা বলেন,

-তোর বাবা কাল খুব মন খারাপ করে আসছে। হামিদ বিএসসি নাকি কী কী বলে সব খোটা দিসে।

-কী বলসে?

-এই মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছি না, মেয়ের কামাই খাচ্ছি।

-আসুক বাসায়; আমি তো উনাকে জিজ্ঞেস করবো। ছেলের বিয়ে দিয়ে তো পাঁচ লাখ টাকা নিসেন।

আরেকটি দৃশ্যের কথায় চলে যাই। হাসান বারান্দায় বসে। তখন মারজুক আসে। হাসান বলেন,

-কাজটা তুমি ঠিক করো নাই মারজুক। ...এক ফ্ল্যাটে থাকো, আর হৃদয় খুইলা কথা কইবা না!

-আরে, হৃদয়টাকে কি খুইলা রাইখা কথা কইতে অইব নাকি?

-সব ব্যাপারে ইয়ার্কি করা ভালো না মারজুক। এই ইয়ার্কি করা ইদানিং তোমার একটা বদ অভ্যাস হইয়া যাইতাসে।

এই আলোচনায় বেশি সংলাপ তুলে ধরার দরকার ছিলো না। কারণ, পুরো সিনেমা জুড়ে সংলাপগুলোতে এই ভাষাই ব্যবহৃত হয়েছে। তারপরও আরেকটি দৃশ্যের কথা বলি। আব্রার ভাই কক্সবাজার বেড়াতে গেলে টোকনের সঙ্গে দেখা হয়। টোকনকে আব্রার ভাই বলেন,

-কী করো টোকন?

-আকাশ দেখি

-তোমার বাস কয়টায়?

-আটটায়  

-তা তোমার ওই রাঙামাটির কী একটা বলতাছিলা, ওইটার কী অবস্থা?


ভাষার
উচ্চারণগত সুরের ভিন্নতা

এই আলোচনায় সুরের ভিন্নতা দেখানো সম্ভব নয়। শুধু বলা সম্ভব যে-কোন্‌ অংশে এই সুরের ভিন্নতা রয়েছে। ব্যাচেলর-এর শুরুতে আব্রার ভাই বলেন,

-ফাহিম কী করছো?

-জি, রেডিওতে আছি, প্রডিউসার হিসেবে। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও’র কমিউনিকেশন ম্যাটেরিয়াল তৈরি করে দিই। এই আর কি!

-গুড, গুড। আমি আবার কালচারাল লাইনের লোক খুব পছন্দ করি। এই ফ্ল্যাটটা ভাড়া দিয়ে আমি আর কতো টাকা পাই বলো? যা পাই সব তো চ্যারিটিতে চলে যায়।

এই সংলাপে দুজনেই প্রমিত ভাষা ব্যবহার করেছেন। কিন্তু আব্রার ভাই ও ফাহিমের ভাষার গতি দুরকমের। আব্রার ভাইয়ের ভাষার গতি বা লয় ফাহিমের ভাষার চেয়ে বেশি। এবং আমরা, মানে সমাজের বেশিরভাগ মানুষ ফাহিমের ব্যবহৃত গতিতেই প্রমিত ভাষা ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু পাঠক খেয়াল করে দেখবেন, ফারুকীর চলচ্চিত্র তিনটিতে বিশেষ করে ব্যাচেলরথার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার-এ আব্রার ভাইয়ের ব্যবহৃত গতিতেই অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সাধারণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষায় বিভিন্ন ধরনের টান আছে। যেমন, রাজশাহীর সঙ্গে চট্টগ্রামের ভাষার পার্থক্য কেবল শব্দের উচ্চারণগত জায়গায় নয়। এর বাইরেও উভয় ভাষার ক্ষেত্রে সুরের কিছু পার্থক্য লক্ষ করা যায়। চট্টগ্রামের মানুষ রাজশাহীর মানুষের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দ্রুত কথা বলে। একইভাবে, ভাষার যে প্রমিত রূপ, তারও উচ্চারণের একটা নিজস্ব ঢঙ রয়েছে, সুর রয়েছে, গতি রয়েছে। কিন্তু থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার ব্যাচেলর-এ ভাষার যে গতি, সুর বা লয় তা আমাদের প্রমিত ভাষার সঙ্গে যায় না। এই গতি, সুর বা লয় সবকিছু আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষের ভাষার সঙ্গে মিলবে না, একথা বলা যায়।

সংলাপগুলো একটু খেয়াল করে দেখবেন, এটি কিন্তু মোটেও প্রমিত ভাষা নয়। আবার আঞ্চলিক কিংবা ঢাকাইয়া ভাষাও নয়। এটি লোকভাষাও নয়। বরং ভাষাতাত্ত্বিক জায়গা থেকে বিচার করলে সংলাপগুলোকে উপভাষা হিসেবে ধরা যেতে পারে। কারণ, ‘লোকভাষা এবং উপভাষার মধ্যেকার অন্যতম প্রভেদ হলো এই যে, লোকভাষার দ্বিবাচনিক বা মিশ্রবাচনিক নেই।’ যেমন, আপনি নোয়াখালি, কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষের ভাষায় সহজে দ্বৈততা খুঁজে পাবেন না, পেলেও তার পরিমাণ নগণ্য। কিন্তু উপভাষার দ্বিবাচনিক বা মিশ্রবাচনিক আচরণ সর্বাত্মক।

এখন এই আলোচনায় প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, চলচ্চিত্রের ভাষা প্রমিত হওয়াই শ্রেয় কি না? অবশ্যই না, কখনই না। কারণ চলচ্চিত্র যে-সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা পরিস্থিতির প্রতিনিধিত্ব করবে, প্রয়োজন অনুযায়ী তার ভাষার ব্যবহার সে-রকম হবে; এটাই স্বাভাবিক। সিনেমায় একই সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ব্যবহার হতেই পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো ফারুকীর চলচ্চিত্রের এই যে-ভাষা অথবা গতি তাতে দেশের কতো শতাংশ মানুষ কথা বলে? কিংবা এই উপভাষায় যারা কথা বলে তারা সমাজের কোন্‌ স্তরের? আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, চলচ্চিত্রগুলোতে যে-ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তার শুরু কিন্তু খুব বেশিদিন আগের নয়। ১০-১৫ বছর আগেও এই ভাষার অস্তিত্ব ছিলো না।

সাধারণ পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, এই ভাষার সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করছে ঢাকার তরুণ সমাজ। তার মানে কিন্তু সব তরুণরাই নয়। খেয়াল করলে দেখবেন যে, ঢাকাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা ভিন্ন একটা সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে উঠছে। তাদের ভাষা, কথা বলার ধরন-সবই সাধারণ থেকে আলাদা। এদের সঙ্গে আপনি খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাষার একটা পার্থক্য পাবেন। একটু বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে, এর সঙ্গে অর্থনীতি, ক্ষমতা, সংস্কৃতিসহ অনেককিছুই সম্পর্কিত। যে সম্পর্ক ধরে বিচার করলে দেখা যাবে, এই ভাষা অনেকটা যাত্রাপালার ভাষার মতো। যাত্রাপালার ভাষা বললাম এ-কারণে যে, যাত্রাপালায় ব্যবহৃত ভাষার সঙ্গে কিন্তু বাংলাদেশের কোনো আঞ্চলিক ভাষারই মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার, ভাষাটি প্রমিতও নয়। অর্থাৎ, ভাষাটি কেবল ওই মঞ্চের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং এই ভাষাটি কেবল যাত্রাপালারই প্রতিনিধিত্ব করে। একইভাবে, ফারুকীর চলচ্চিত্রের ভাষাও এখন পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির ভাষা; এর বাইরে এই ভাষার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।   

এবার মূল বিষয়ে যাবো। এই আলোচনা পরবর্তী সময়ে যথার্থ হবে যদি পাঠক অন্তত এই সিদ্ধান্তগুলো মেনে নেন যে, মেইড ইন বাংলাদেশ, ব্যাচেলর থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার চলচ্চিত্র তিনটিতে যে-ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে তা-প্রথমত, আমাদের প্রমিত বাংলা বা মান্য কোনো ভাষা নয়; এটি উল্লিখিত আলোচনার আলোকে একটি উপভাষা। দ্বিতীয়ত, এই ভাষা আমাদের দেশের একটি ক্ষুদ্র এবং নির্দিষ্ট সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে। তৃতীয়ত, চলচ্চিত্র তিনটিতে ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্টতা নেই। সবকিছু মিলে মোটাদাগে বলা যায়, এই ভাষাটি একটি পরিবর্তিত ভাষা। আর এই পরিবর্তন এমনি-এমনি নিশ্চয় হয়নি! নিশ্চয় একাধিক কারণ এর পিছনে আছে। সেই কারণগুলো অনুসন্ধান করা আজকের আলোচনার একটি গৌণ উদ্দেশ্য। আর মুখ্য উদ্দেশ্য হলো, চলচ্চিত্রের মতো একটি শক্তিশালী গণমাধ্যমে এই ভাষা সঞ্চারিত হলে সামাজিকভাবে তা কী কী প্রভাব ফেলতে পারে তার স্বরূপ উন্মোচনের প্রচেষ্টা করা। আর এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মানসে পরবর্তী আলোচনা এগিয়ে নিতে চাই ভাষাবিজ্ঞান ও ইতিহাসের আলোকে।

 

ভাষা তার অর্থ বিবর্তনের কারণ

দীর্ঘসময় ধরে ভাষাতাত্ত্বিকরা ভাষা পরিবর্তনের কারণ অনুসন্ধান করে যাচ্ছেন। ভাষা কেনো পরিবর্তিত হয় এ-প্রশ্নটি প্রথম তুলেছিলেন জে এইচ ব্রেডসড্রোফ। এ-প্রশ্নের উত্তর দিতে চেষ্টা করেছিলেন তিনি নিজেই; এবং পরে অনেকেই দিয়েছেন আরও অনেক উত্তর। পেশ করা হয়েছে এ-সম্পর্কে বেশ কিছু তত্ত্ব; কিন্তু কোনোটিই ভাষা পরিবর্তন বা বিবর্তনের সমস্ত দিক ব্যাখ্যা করে না। ‘ব্রেডসড্রোফ নির্দেশ করেছিলেন ভাষাপরিবর্তনের এ-কারণগুলো : ভুল শোনা ও বোঝা, ভুল স্মরণ, ত্রুটিপূর্ণ বাকপ্রত্যঙ্গ, আলস্য, সাদৃশ্যপ্রবণতা, স্বাতন্ত্র্যপ্রয়াস, নতুন ভাব প্রকাশ ও বিদেশি প্রভাব।’ ভাষাতত্ত্ব সম্পর্কে যাদের এতোটুকু ধারণা আছে তারা বুঝতে পারছেন যে, আলোচিত চলচ্চিত্র তিনটিতে ভাষার যে পরিবর্তন তা ব্রেডসড্রোফের শেষ তিনটি কারণের (স্বাতন্ত্র্যপ্রয়াস, নতুন ভাব প্রকাশ ও বিদেশি প্রভাব) সঙ্গে অনেকটা সাদৃশ্যপূর্ণ।

আমাদের একটা প্রবণতা কাজ করে যে, ভাষা দিয়ে আমরা অনেকসময় মানুষকে মূল্যায়ন করতে চাই। একজন মানুষের ভাষা দিয়ে আমরা কেবল সেই ভাষার অর্থই নির্বাচন করি না; পাশাপাশি সেই মানুষের পারিপার্শ্বিকতাও বোঝার চেষ্টা করি; তার রুচিবোধ, শিক্ষা-সংস্কৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে আমাদের মাথার মধ্যে একধরনের পূর্বানুমান সৃষ্টি হয়। আবার ব্যক্তি নিজেও ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে তার অনেক স্বাতন্ত্র্যতার ইঙ্গিত দিতে চান। যেমন, একজন বাংলাভাষী মানুষ যখন আমাদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইংরেজি মিশিয়ে বাংলা বলেন, তখন কিন্তু তিনি কেবল একটি ভাষাই উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন না; একইসঙ্গে তিনি বোঝাতে চান তার ব্যক্তিগত অনেক কিছুই সাধারণ বাংলাভাষী থেকে আলাদা। তেমনি ফারুকীর চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত ভাষায় চলচ্চিত্রের বাইরে যখন কোনো মানুষকে কথা বলতে দেখি, তখন সেই মানুষ সম্পর্কেও আমাদের মাথার মধ্যে একধরনের ধারণা জন্ম নেয়। সেই ধারণা থেকে আমরা কখনই চিন্তা করি না, ওই মানুষ গ্রামে বেড়ে উঠেছেন। আর পাঠক, ফারুকীর সিনেমাগুলো কিন্তু একটি সংস্কৃতি কিংবা একটি মতাদর্শ উপস্থাপন করতে চায়। যারা তার সিনেমা দেখেছেন তারা একটু খেয়াল করলেই সেই সংস্কৃতি আঁচ করতে পারবেন সন্দেহ নেই।

ফারুকীর ব্যবহৃত ভাষা বুঝতে আমরা রোমান ভাষার বিবর্তনগুলোর দিকে চোখ দিতে পারি। রোমান ভাষা-বিবর্তনে কিছু তত্ত্ব রয়েছে। যেমন, কালানুক্রমিক তত্ত্ব, শ্রেণীতত্ত্ব, কেন্দ্রাতিগ তত্ত্ব, অবস্তরিক তত্ত্ব এবং শাব্দ ঋণ। এখানে শ্রেণীতত্ত্ব একটু খুলে বলা দরকার এ-কারণে যে, চলচ্চিত্র তিনটিতে ব্যবহৃত ভাষা এবং যে-ভাষা আমাদের সমাজে নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষের প্রাত্যহিক ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার বিবর্তন এই তত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

এখানে শ্রেণীতত্ত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে, রোমান ভাষার বিভিন্ন রূপভেদের প্রধান কারণ ছিলো শ্রেণীভেদ। সমাজের উপরের শ্রেণীর মানুষ ব্যবহার করতো সংস্কৃত বা মার্জিত লাতিন, আর সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতো প্রাকৃত বা অমার্জিত লাতিন। এইদিক থেকে দেখলে আমাদের এই ভাষাও কি শ্রেণীভেদে বিচার করা সম্ভব নয়? বাংলার খেটে খাওয়া একজন মানুষ ফারুকীর এই ভাষা ব্যবহার করে না; কিংবা একজন স্কুল শিক্ষক তার শিক্ষাদানেও তা ব্যবহার করেন না। অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, ঢাকার কল্পিত একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণী এই ভাষা বেশি ব্যবহার করে। এখন কেউ যুক্তি দিতে পারেন, যেহেতু এই ভাষার ব্যবহার আছে, সেহেতু চলচ্চিত্রে এই ভাষা ব্যবহারের যৌক্তিকতাও আছে। অবশ্যই; কিন্তু আগেই বলেছি এই যৌক্তিকতা দাঁড়িয়ে থাকে সিনেমার কাহিনীর পরিস্থিতির ওপর। কিন্তু ফারুকী মোটেও তার এই চলচ্চিত্রিক-ভাষাকে যৌক্তিকভাবে পরিস্থিতির ওপর আরোপ করতে পারেননি বা করেননি। কারণ, চলচ্চিত্রগুলোতে একজন রেডিও প্রডিউসার (ফাহিম; ব্যাচেলর) আর্কিটেক্ট (সাথী; ব্যাচেলর), কবি (মারজুক; ব্যাচেলর) কিংবা একজন গায়কের (তপু; থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার) ওপর পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে এই ভাষা আরোপ করা যায় না।

এ-কথা আগেও একবার বলেছি, এই ভাষা খুব বেশিদিন আগের নয়। অর্থাৎ, এটি পরিবর্তিত বা বিবর্তিত একটি ভাষা। ভাষাতাত্ত্বিক মেইয়ের মতের সঙ্গেও এই পরিবর্তন মিলিয়ে দেখে একটা কিছু বোঝা যেতে পারে। তিনি ভাষা পরিবর্তনের মূল হিসেবে-ভাষাতাত্ত্বিক কারণ, ঐতিহাসিক কারণ ও সামাজিক স্তরবিন্যাসের কারণকে চিহ্নিত করেছেন। তবে তিনি সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন শেষের কারণটিকে। এই কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, ‘দেখা যায় বিশেষ বিশেষ শব্দ বিশেষ শ্রেণীর ব্যবহারে বিশেষ অর্থ অর্জন করে। ...কোনো শব্দ বিশেষ এলাকা থেকে ব্যাপক এলাকায় ব্যবহৃত হতে থাকলে শব্দটির অর্থ সম্প্রসারিত হয়।’ এক্ষেত্রে চলচ্চিত্র ব্যাপক এলাকায় ভাষা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি কার্যকরী মাধ্যম। ফলে, বর্তমানের এই ‘বিশেষ’ ভাষাটি ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারিত হবে এটাই স্বাভাবিক। এটি হলে হয়তো আবারও সাধু ও চলিত ভাষার ব্যবহার নিয়ে একটা প্যাঁচ লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে। কারণ, ফারুকীর চলচ্চিত্রে হরহামেশাই ‘যাচ্ছি’-এর জায়গায় ‘যাইতাছি’ ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভাষা কেনো পরিবর্তনের বা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন পড়ে

ভাষা ব্যবহার করে মানুষ সমাজকে গঠন করে এবং সেই সমাজের আর্থিক-সাংস্কৃতিক শক্তির ভিতকে ব্যাপক থেকে ব্যাপকতরের মধ্যে বিস্তারিত করে। তবে সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই ক্ষমতার প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এটি স্বাভাবিক একটি সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যেতেই পারে-যে বা যারা ক্ষমতায় থাকেন তারা সবকিছু তাদের মতো করে চান। আর সবকিছুর মূলে যেহেতু মানুষ, তাই ক্ষমতাবানদের প্রাথমিক ও প্রধান লক্ষ্য থাকে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা; অর্থাৎ তার চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করা। মানুষের যে অস্তিত্বকে সহজে অস্বীকার করা যায় না তাহলো তার চিন্তা। এ-ক্ষেত্রে দার্শনিক রেনে দেকার্তের (১৫৯৬-১৬৫০) কথা স্মরণ করা যেতে পারে; যিনি বলেছিলেন, আমি চিন্তা করি তাই আমি আছি। আর এই চিন্তা সম্পর্কে ফরহাদ মজহারের বক্তব্য এরকম, ‘...মানুষ শুধু প্রাণীসত্তা নয়, প্রাণীসত্তার চেয়ে অধিক কিংবা আলাদা কোনো সত্তা যা তার ভাষা ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কায়িত। এই ভাষাই মানুষকে চিন্তা করার সামর্থ্য দিয়েছে। সম্ভবত ভাষা ও চিন্তা এই দুই মানবীয় প্রতিভা আলাদা কিছু নয়, একটি বিমূর্ত পদ্ধতিকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করার মানবীয় সামর্থ্য।’

এই দৃষ্টিকোণ থেকে ফারুকী কেবল একটি ভাষাই আমাদের দিচ্ছেন না। এর সঙ্গে তিনি একটি চিন্তা, একটি মূল্যবোধ, একটি সংস্কৃতি আমাদের দিচ্ছেন। যে চিন্তাগুলোর মধ্যে আছে লিভটুগেদার, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট, ট্রান্সকমের ২১ ইঞ্চি টেলিভিশন, এফএম রেডিওর ‘ডিজুস’ কালচারে অভ্যস্ত হওয়া (থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার), ব্যাচেলর থাকা, পরকীয়া (ব্যাচেলর) ইত্যাদি।

এখন এই চিন্তাগুলো আপনার-আমার মধ্যে নানা ‘ইচ্ছা’ রূপে চলমান হয়। সিনেমার ওই মানুষগুলো আমাদের কাছে ‘আদর্শ’ হয়ে ওঠে। আমরা তাদের অনুকরণ করি। আমাদের ভিতরে তৈরি হয় মিথ্যাচৈতন্য; তৈরি হয় একটি সুন্দর সাজানো-গোছানো ফ্ল্যাটের, সাধারণ টিভি ছেড়ে প্লাজমা দেখার আকাঙ্ক্ষা। স্বপ্ন তৈরি হয় নিরবচ্ছিন্ন সুখের জগতের, আকণ্ঠ নিমজ্জিত হওয়া জগতের। সেই জগতে কেউ থাকে না, বাবা-মা ভাইবোনতো দূরের কথা, স্ত্রীও অর্বাচীন হয়ে ওঠে। আমরা তাৎক্ষণিকতার প্রবলতায় ভেসে যেতে থাকি-‘...এই মুহূর্তটি, যখন আমি ভোগ করব, যখন আমি বীর, যখন আমার ইচ্ছাই শেষ কথা-আমার বোঝাপড়াকে বিনষ্ট করে দিতে পারে।’ শুধু দিতে পারে না, দেয়ও। আর তখন আমাদের জীবনের জন্য জীবনের বাইরে আশ্রয় খুঁজে নিতে হয়।

ফারুকীর এই ভাষাকে আরও বিস্তৃতভাবে দেখতে আমরা অ্যাডওয়ার্ড স্যাপিরকে আলোচনায় টেনে আনতে পারি। ‘The Status of Linguistics as a Science’ (১৯২৯) প্রবন্ধে তিনি এই মত পোষণ করেন যে, ভাষা আমাদের বিশ্বদৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি মনে করতেন প্রত্যেক ভাষাভাষীরা ভিন্ন ভিন্ন জগতের অধিবাসী; কেননা ওই জগতের ‘গঠন’ ওই ভাষাভাষীদের ভাষিক স্বভাবের ওপর ভিত্তি করে অনেকটা দাঁড়িয়ে আছে। অর্থাৎ বাঙালি যেহেতু বাংলা ব্যবহার করে, তাই বাঙালির বিশ্বদৃষ্টি বাংলা ভাষা দ্বারা অনেকটা নিয়ন্ত্রিত। বেঞ্জামিন লি হোর্ফ স্যাপিরের মতকে সমর্থন করে জানান যে, ‘ভাষা অনেকটা বাতাসের মতো, এর উপস্থিতি আমরা টের পাই না। কিন্তু অভাবটা টের পাই। ...ভাষার সাহায্যে আমরা শুধু আমাদের ভাবনাচিন্তা প্রকাশ করি না, ভাষা আমাদের ভাবনাচিন্তাকে রূপায়িত করে বা বিশেষ রূপ দেয়। আমরা বিশ্বকে সেভাবে উপলব্ধি করি যেভাবে আমাদের ভাষা আমাদের উপলব্ধি করায়।’

এসব তাত্ত্বিক আলোচনার আশ্রয় নেওয়ার উদ্দেশ্য হলো এটি বোঝা যে, ফারুকীর ভাষার সঙ্গে যেমন শ্রেণী-চেতনা জড়িত, তেমনি সেই শ্রেণী-চেতনার সঙ্গে যোগাযোগ বাজারের। ‘ফারুকী’র ওই শ্রেণীতে উঠতে গেলে আপনার ফ্ল্যাট, ওয়াশিং মেশিন, টেলিভিশন লাগে। আর এটাই-বাজার। স্বাভাবিকভাবেই এই বাজারের একটি চরিত্র, সংস্কৃতি তথা দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। এখন সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে আপনাকে-আমাকে সম্পৃক্ত করতে হলে আপনার-আমার দৃষ্টিভঙ্গি বা চিন্তায় আধিপত্য স্থাপন করতে হবে। আর এই দৃষ্টিভঙ্গি বা চিন্তার সঙ্গে ভাষার যে সম্পর্ক তা আগেই আলোচনা করেছি।  

এখন প্রশ্ন উঠবে, এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে ফারুকীর চলচ্চিত্র কতোটুকু প্রভাব বিস্তার করে? এর উত্তরে বলতে হয়, বাংলা চলচ্চিত্রের যে অবস্থা; এখন তো মানুষ প্রেক্ষাগৃহে যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে মানুষ যারা বাংলা চলচ্চিত্র ‘উদ্ধারকল্পে’ কাজ করছেন তাদের মধ্যে ফারুকী অন্যতম। তার এই চলচ্চিত্র শৈল্পিকমান অতিক্রম করেছে কি না জানি না; ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়েছে। ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়েছে, মানে দর্শক খাচ্ছে।

এখন সম্পূরক প্রশ্ন, দর্শক খেলেই কি বাজারি দৃষ্টিভঙ্গি তাদের মধ্যে প্রবেশ করবে? এই প্রশ্নের উত্তর থর্নহেম দিয়েছেন এভাবে, ‘সিনেমা হচ্ছে মতাদর্শের খুবই কার্যকরী বাহক, কারণ এটির টেক্সচুয়াল ব্যবস্থার ভিত্তি হচ্ছে ফটোগ্রাফিক ইমেজ। ...মতাদর্শ আপন উপস্থিতির সব চিহ্ন মুছে ফেলে যাতে বিশ্বের/বাস্তবতার যে বিশেষ ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হচ্ছে, মনে হয় সেটিই স্বাভাবিক, স্বতঃসিদ্ধ।’এখন মন্তব্য হতে পারে যে, মেইড ইন বাংলাদেশ, ব্যাচেলর থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার-এ বাস্তব অবস্থাই তুলে ধরা হয়েছে। এটা বাস্তব অবস্থা, মানতে সমস্যা নেই। কিন্তু বাস্তবতাকে তুলে ধরার অন্যকোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে কি না, তাও ভেবে দেখা দরকার। কারণ, নিতান্ত সরল সত্য প্রকাশের উদ্দেশ্যেই এই ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে কি না-এ বিবেচনা না করে তাকে গ্রহণ করা যায় না। কর্তার চরিত্র ও মতলব অনুসারেই সত্যতা, অসত্যতা কিংবা ভালোত্ব, মন্দত্ব নির্ধারণ করা দরকার।

আরেকটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন আসে, ফারুকী নিজে কোন্‌ শ্রেণীর মধ্যে পড়েন? ধরে নিলাম, সবকিছু মিলিয়ে তিনি এই উপভাষা ব্যবহারকারী শ্রেণীরই অন্তর্ভূক্ত। সেটিতেও সমস্যা নেই। সমস্যা হলো, একটি গণমাধ্যম কেবল সমাজের একটি শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। আর যদি করে তবে আগেই বলে নেওয়া ভালো যে, অমুক চলচ্চিত্রটি অমুক সমাজের মানুষের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। আর তা না করলে ভাষাবিজ্ঞান ধরে আমরা যদি সিদ্ধান্ত নিই যে, এই ভাষা আসলে সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়েছে যাতে করে ওই উপভাষা ব্যবহারকারী শ্রেণীর সামগ্রিক মতাদর্শও সম্প্রসারিত হয়; তাহলে খুব ভুল হওয়ার কথা নয়।

 

 

ভাষা পরিবর্তনের রাজনৈতিক অর্থনীতি: ইতিহাস যা বলে

এই অংশের আলোচনাকে এতোক্ষণের আলোচনার সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করবো এবং দেখার চেষ্টা করবো দুটো আলোচনার একটি অন্যটিকে সমর্থন করে কি না? এটা খুব সহজ-সরল কথা যে, মানুষ ক্ষমতা পাওয়ার পর আরও ক্ষমতা চায়। এ নিয়ে একেকজন একেক রকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ফ্রান্সিস বেকন (১৫৬১-১৬২৬) বলেছেন, জ্ঞান ও ক্ষমতার কোনো পার্থক্য নেই; প্রকৃতির যেকোনো বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে সেই বিষয়ের জ্ঞান প্রয়োজন। একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া যায় টমাস হবস (১৫৮৮-১৬৭৯) এর ভাষায়। তিনি মনে করেন, ব্যক্তির উদ্দেশ্য পূরণে ক্ষমতা প্রয়োজন। ক্ষমতাবানের কথার অর্থ হয়, ক্ষমতাহীনের কথার অর্থ হয় না। এ-রকম আরও মতামত হাজির করা যেতে পারে। তবে সব মতামতের ভিত্তিতে এই জায়গায় এক হওয়া যায় যে, যিনি যতোবেশি ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন তার আধিপত্য ততো বেশি।

ক্ষমতার সঙ্গে প্রতিরোধ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যতো বড়ো ক্ষমতা, ততো বড়ো প্রতিরোধ। এই প্রতিরোধের একটা বড়ো ক্ষেত্র হলো ভাষা। তাই, ক্ষমতাবানরা সবসময় ভাষায় আধিপত্য বিস্তার করতে চান। ‘এ কারণে তারা শব্দের বানান, উচ্চারণ ও শব্দার্থকে স্থির, নিয়ন্ত্রিত, নিয়মাবর্তী করে রাখেন; নতুবা তাদের অন্তর্গত অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা ও দূষণ তাদের নিয়ন্ত্রণক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। তারা বহুবিধ সংস্কারের দ্বারা বানান, উচ্চারণ ও শব্দার্থের স্থিরতা এবং তদ্বারা নিজেদের সিংহাসন অক্ষত রাখেন।’এই ক্ষমতাবানদের বিপক্ষে যাদের অবস্থান তারাও ভাষার পরিবর্তন করেন। কিন্তু তা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে নয়, বরং ভাষার প্রয়োজনেই তারা সে পরিবর্তন সাধন করেন। বিশ্বায়নের এই যুগে সাম্রাজ্যবাদের প্রচেষ্টা হলো, যেকোনো দেশের পুরো সমাজ বা রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর আধিপত্য বিস্তার করা। এই প্রচেষ্টারই অন্তর্গত একটি কর্মসূচি হলো-আওতাভুক্ত সব দেশের পাঠ্যপুস্তক, অধ্যাদেশ, প্রতিবেদন, গেজেট, প্রশাসনিক আদেশাবলী ইত্যাদির ওপর নিজ ভাষার আধিপত্য বিস্তার করা।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ‘সাংস্কৃতিক জাঁকজমকের বহুবিধ প্রতীক, রূপক, দ্যোতক, চিহ্ন, সংকেত, ইশারা ইত্যাদির বর্ণময় প্রদর্শনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ফরাশি ওলন্দাজ পর্তুগিজ স্পেনীয় সাম্রাজ্যবাদ নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল বিশ্বময়। তাদের ক্ষমতার প্রকাশ ঘটানো হয়েছিল প্রতিদিনকার বস্তু ও স্থানের নতুন নামকরণের মাধ্যমে।...উচ্চারণ বিকৃতির মাধ্যমে কলকাতা হয় ক্যালকাটা, ঠাকুর হয় ট্যাগোর, গঙ্গার নাম হয়েছিল গ্যাঞ্জেস।’

বিংশ শতাব্দীর আরও একটি দৃষ্টান্ত এখানে তুলে ধরা যেতে পারে। রবীন্দ্রনাথ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলেছিলেন চলিত বাংলা ভাষা বানানের রীতি নির্দিষ্ট করে দিতে। ১৯৩৭-৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় একটি নিয়মাবলী সংকলিতও করেছিলো। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর বিশ্বভারতীকে যেভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, সেভাবেই আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংকলিত ভাষার সেই নিয়মাবলীকে।

এখন ধরে নিলাম, একসময় বাংলাদেশের সব মানুষ ফারুকীর ওই চলচ্চিত্রের ভাষায় কথা বলবে। তখন কী হবে? কোনো সংশয় ছাড়াই বলা যায়, এখনকার সাধারণের যে মুখের ভাষা তা আর থাকবে না। আর ভাষা হারিয়ে যাওয়া মানে কেবল ভাষা হারিয়ে যাওয়া নয়, হারিয়ে যাবে আমাদের অনেক কিছুই; আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের মূল্যবোধ, আদর্শ ইত্যাদি। আগেই বলেছি, ভাষা আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। এই আধিপত্য সেই ভাষার প্রসারের সমানুপাতিক। একসময় আসবে যখন ভাষার এই সমানুপাতিক প্রসার রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে বসাতে চাইবে। আর বসার সময় ভাষার সঙ্গে অনেককিছুই বসবে সে-কথা এই আলোচনায় বারবার আলোচিত হয়েছে।

তাই কথা হলো, ভাষার পরিবর্তন আপনি-আমি ঠেকাতে পারবো না। ভাষা নদীর মতো; যখন খুশি প্রয়োজন মতো সে বাঁক নেবে। কিন্তু ভাষা সবসময় আপনা-আপনি পরিবর্তন হয়, এই কথাও ঠিক নয়। ভাষাকে মাঝে মাঝে পরিবর্তন করা হয়; পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়। ফারুকীর চলচ্চিত্রে যদি ভাষার পরিবর্তন হয়, তাহলে তাকে কোনো বিতর্ক ছাড়াই আপনা-আপনি পরিবর্তন বলা ঠিক হবে না। এই পরিবর্তন হবে একটা প্রচেষ্টার ফসল। আর এই প্রচেষ্টা যারা করেন তারা নিজেদের কিছু স্বার্থ কিছু উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই করেন। ফারুকীর এই ভাষার পিছনে এ-রকম কোনো উদ্দেশ্য আছেই তা জোর দিয়ে, নিশ্চিত করে বলতে চাই না। তবে এটুকু বলা যায় এই পরিবর্তনকে, এই বিবর্তনকে যদি আমরা স্বাভাবিক ধরে নিয়ে বসে থাকি, তাহলে কোনো একসময় এই বসে থাকা আমাদের অনুতাপ বা পরিতাপের বিষয় হতে পারে। তাই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারলেও এই পরিবর্তন নিয়ে এখনই ভাবনার পর্যাপ্ত অবকাশ তৈরি হয়েছে।

 

সাধারণ সমীপেষূ

‘বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। এখন আমাদের মনে হয়, বাংলা ভাষা নিয়ে কোনো চিন্তা এবং উদ্বেগের বিষয় নেই। তাই আজ আমরা বাংলা ভাষার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একেবারে চিন্তাহীন। আর তাই বাংলাদেশে শাসন এবং শিক্ষার সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার ও প্রচলন সম্পর্কে আমাদের কোনো কার্যক্রম নেই। বিশ্বের সকল ক্ষেত্রের জ্ঞান-বিজ্ঞানকে বাংলার ভাণ্ডারে সংগ্রহ করে আপামর জনসাধারণের জীবনে তাদের শিক্ষার মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার কোনো আওয়াজ-আন্দোলন আজ আর আমাদের আলোড়িত করে না।’১০ এই চেতনা নিয়ে বাংলা ভাষার পরিবর্তন কেউ যদি নিজের ইচ্ছে মতো ঘটাতে চান, তবে তার খুব বেশি কষ্ট হওয়ার কথা নয়। নির্বিঘ্নেই তিনি তা করে যেতে পারবেন। 

আলোচনা শেষ করবো ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর একটি উক্তি দিয়ে। ‘আমাদের ভাষা সমস্যা’ নামের একটি প্রবন্ধে তিনি বলেছিলেন, ‘যেমন রাজনীতির ক্ষেত্রে অভিজাততন্ত্র এবং গণতন্ত্র আছে, ভাষার ক্ষেত্রেও তদ্রুপ অভিজাততন্ত্র এবং গণতন্ত্র আছে। ভারতীয় ভাষা হইতে আমি ইহার উদাহরণ দিতেছি; যে সময়ে ঋষিগণের মধ্যে বৈদিক ভাষা প্রচলিত ছিলো, সেই সময়ে সাধারণ আর্যগণের মধ্যে বৈদিক হইতে বিভিন্ন লৌকিক ভাষা প্রচলিত ছিলো। বৈদিক ছিলো অভিজাততন্ত্রের ভাষা। ঋষিরা বলিলেন লৌকিক ভাষা অগ্রাহ্য, অকথ্য।’১১

এখন, নতুন যে ভাষার গন্ধ আমরা পাচ্ছি তার চর্চা যদি এইভাবে সন্দেহাতীতভাবে চলতে থাকে তাহলে কোনো একসময় ওই ভাষাভাষীরা আমাদের বলবে, তোমাদের ভাষা অগ্রাহ্য অকথ্য।

 

লেখক : আসাদ লাবলু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী; পাশাপাশি তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

[email protected]

 

তথ্যসূত্র

১. জানা, অমলেন্দুবিকাশ; ‘ভাষা-উপভাষা-লোকভাষা’; বাঙলা লোকভাষা বিজ্ঞান; সম্পাদনা-শ্রীসনৎকুমার মিত্র; এপ্রিল ২০০১, কলকাতা।

২. আজাদ, হুমায়ন (২০০৮ : ১৬০); ‘ভাষাপরিবর্তনের কারণ’; তুলনামূক ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান ; আগামী প্রকাশনী, ঢাকা।

৩. প্রাগুক্ত; আজাদ (২০০৮ : ১৩৯)।

৪. মজহার, ফরহাদ (২০১০ : ৪৭); ‘ভাষা ও চিন্তা’; প্রস্তাব;আগামী প্রকাশনী, ঢাকা।

৫. হোসেন, মাহমুদুল (২০১০ : ৯২); ‘চলচ্চিত্রে মতানৈক্যের কণ্ঠস্বর : বিকল্প চলচ্চিত্র’; সিনেমা; ধানমণ্ডি, ঢাকা।

৬. আজাদ, হুমায়ন (১৯৯৯ : ৫৯); ‘পরিস্থিতির প্রসঙ্গ ও নির্দেশন’; অর্থবিজ্ঞান; আগামী প্রকাশনী, ঢাকা।

৭. আহমেদ, রেহনুমা; ‘রেপ্রিজেন্টেশন (ও বাস্তবতা) কিছু পরিসর, কিছু প্রসঙ্গ’; কাউন্টার ফটো; ১ম বর্ষ, ১ম সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০০৪, পৃ-৬৮,

ঢাকা।

৮. ভৌমিক, অজিতকুমার; ‘বানান বেদখল’; হাওয়া ৪৯;সম্পাদনা-অরবিন্দ প্রধান; ত্রয়োবিংশ সংকলন : বর্ষা ১৪০৯, কলকাতা।

৯. প্রাগুক্ত; অজিতকুমার।

১০. করিম, সরদার ফজলুল (২০১১ : ৬২); ‘ভাষার প্রশ্নে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’; শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ; কথাপ্রকাশ, ঢাকা।

১১. প্রাগুক্ত; সরদার ফজলুল (২০১১ : ৬০)।

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন